পার্থ খাঁড়া, আমাদের ভারত, পশ্চিম মেদিনীপুর, ১৮ অক্টোবর: কুড়মি সম্প্রদায়কে এসটি তালিকাভুক্ত করলে বৃহত্তর আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারি দিল আদিবাসীরা। মঙ্গলবার মেদিনীপুর শহরে প্রায় চার ঘন্টা ধরে বিক্ষোভ অবস্থান করে জেলা প্রশাসনের আধিকারিকদের লিখিতভাবে জানালেন তারা।
মঙ্গলবার দুপুরে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কয়েক হাজার আদিবাসী সম্প্রদায়ের লোকজন উপস্থিত হয়েছিলেন মেদিনীপুর শহরে। মেদিনীপুর শহরে মিছিল ঘুরিয়ে তারা হাজির হয়েছিলেন জেলাশাসকের দপ্তরের সামনে। হাতে ছিল নিজেদের দাবি সম্বলিত পোস্টার ও ব্যানার। ব্যানারে তারা উল্লেখ করেছিল, ‘ভুয়ো এসটি তালিকা বাতিল করতে হবে।’ ‘কুড়মি সম্প্রদায়কে কোনো ভাবেই এসটি তালিকাভুক্ত করা চলবে না।’ ‘সমগ্র আদিবাসী সমাজ এক হও।’ এই দাবিগুলি নিয়ে আদিবাসীদের মুন্ডা, কোল, সাঁওতাল-এর মত ৪০টি উপজাতি সমবেত হয়েছিলেন।

এই দাবিতে মঙ্গলবার বেলা একটার পর থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত জেলাশাসকের দপ্তরের সামনে অবস্থান বিক্ষোভ করে তারা। জেলাশাসকের সঙ্গে তারা দেখা করে নিজেদের দাবি সম্বলিত ডেপুটেশন দিয়েছেন। সংগঠনের নেতৃত্বরা পরিষ্কার জেলা শাসক কে জানান, “কুড়মি সম্প্রদায় এসটি তালিকাভুক্ত হলে জঙ্গলমহলের আদিবাসীরা তাদের অধিকার হারাবে। তাহলে জঙ্গলমহলের আদিবাসীরা ঐক্যবদ্ধভাবে বৃহত্তর আন্দোলন করতে বাধ্য হবে।
সংগঠনের পক্ষ থেকে রবীন্দ্রনাথ সিং বলেন,
“কুড়মি মাহাতো সম্প্রদায়ের থেকে আদিবাসীরা অনেক বেশি পিছিয়ে। অথচ কুড়মি সম্প্রদায়কে যদি এসটি তালিকাভুক্ত করা হয় তাহলে আদিবাসীরা পুনরায় পিছিয়ে পড়বে। তাই কুড়মি সম্প্রদায়কে কোনোভাবেই এসটি তালিকাভুক্ত করা চলবে না। এমন হলে সমস্ত আদিবাসী সংগঠন ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলন করবো আমরা।”
উল্লেখ্য, গত সেপ্টেম্বর মাসে জঙ্গলমহলের মাহাতো কুড়মি সম্প্রদায় নিজেদেরকে এসটি তালিকাভুক্ত করার দাবিতে রাজ্যজুড়ে ব্যাপক আন্দোলন শুরু করেছিল। ৫ দিন ধরে জাতীয় সড়ক ও রেলপথ অবরুদ্ধ করে রেখেছিল তারা। ১০০ ঘণ্টার বেশি বিভিন্ন রেলপথ রাজ্যজুড়ে অবরুদ্ধ ছিল। অচলাবস্থা তৈরি হয়েছিল আন্দোলনের তীব্রতার কারণে। রাজ্য সরকার ইতিবাচক প্রতিশ্রুতি দিতে সেই আন্দোলন প্রত্যাহার হয়েছিল। এবার তারই পাল্টা আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিল আদিবাসীদের সংগঠনগুলি। যদিও এই বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি সরকারি আধিকারিকরা।

