আমাদের ভারত, ৭ অক্টোবর: “শুভ বিজয়ার শুভেচ্ছার ছড়াছড়ি, কিন্তু কোথায় যেন হারিয়ে যাচ্ছে পুরনো দিনের সেই বিজয় দশমীর রীতি রেওয়াজ।” এই মন্তব্য করলেন সংযুক্ত হিন্দু ফ্রন্টের সভাপতি শঙ্কর মণ্ডল।
তাঁর কথায়, “নারকেল নাড়ু এখন খুব কম বাড়িতে তৈরি হয়। বেশিরভাগই বাজার থেকে কিনে আনার চল হয়েছে, বাড়িতে ঘুগনি ও সিদ্ধি অত্যন্ত পরিচিত ছিল বাংলার ঘরে ঘরে। এখন সব কিছুতেই কৃত্রিম বা বলা ভাল দেখনদারি ও হুল্লোড়। ঠিক যেমন মণ্ডপে মণ্ডপে সিঁদুর খেলা নিয়ে যা হয়, সেটাতেও আন্তরিকতা বা আধ্যাত্মিক ভাবনা যতটা থাকে, তার চেয়ে অনেক বেশি থাকে একটা এন্টারটেটমেন্ট মুড। যা এত প্রবল ছিল না আগে।
সেকালে আন্তরিকতার খামতি ছিল না আমাদের মায়েদের সিঁদুর খেলায়, তবে সব জায়গাতে এটা হত না, কিছু কিছু বিশেষ জায়গাতেই হত। আর রাজনৈতিক নেতা থেকে কর্মী সকলেই এখন পুজোকে উৎসবে পরিণত করে ফেলেছে, এমনকি কোনো আধ্যাত্মিক জ্ঞান না থাকায় বেশ কিছু আবোল তাবোল বলতেও কসুর করে না, এই তালিকায় হিন্দুত্ববাদী বলে পরিচয় দেওয়া লোকেরাও কম যায় না।
যাইহোক আমরা জানি অশুভ শক্তির বিনাশের দিন। মহিষাসুর থেকে রাবণ সবই এই অশুভ শক্তির প্রতীক। সারা দেশ দশেরা উৎসব পালন করেছে। সেই সঙ্গে রাবণ দাহ। আমাদের মুখ্যমন্ত্রী সবাইকে মিষ্টি থাকতে বলেছেন, কিন্তু এই প্রবল রাজনৈতিক অসহিষ্ণুতাকেই উপেক্ষা করে এই মানুষ কি করে মিষ্টি থাকবে? বামপন্থীরা ঈশ্বর মানেন না। কিন্তু এই পুজোয় যেহেতু বহু মানুষের সমারোহ ঘটে, তাই এই সময় তাদের বইয়ের স্টলের মাধ্যমে নিজেদের কালচারাল ছবি তুলে ধরার মরিয়া চেষ্টা চালায়। যদিও ওদের বইগুলো সবই ভারতীয় সংস্কৃতি ও দর্শনের পরিপন্থী। কিন্তু আমি মনে করি ওদের অবৈজ্ঞানিক বইয়ের মোকাবিলা বই দিয়েই করা উচিত, মানে কলমের বিরুদ্ধে কলমকেই হাতিয়ার করা দরকার। বর্তমান রাজ্য সরকার ওদের বিরুদ্ধে যে ঘটনা রাসবিহারী মোড়ে ঘটলো তাতে তৃণমূলের রাজনৈতিক দৈন্যতাই প্রমাণ করল। আর এর মাধ্যমে একপ্রকার অবাঞ্ছিত জয় পেল সিপিএম।
এক্ষেত্রে বর্তমান প্রধান বিরোধী দল এতটাই অপদার্থ নেতৃত্ব সমৃদ্ধ হয়ে রয়েছে, যে এই সময়ে ভারতীয় দর্শন ও সংস্কৃতি চর্চা করার বিপুল সুযোগ থাকা সত্ত্বেও তারা তা কাজে লাগাতে পারছে না। বই স্টল করার মত তথাকথিত নেতা খুঁজেই পাওয়া যায় না। যেসব বই নিয়ে এই সমস্ত স্টল হওয়া উচিত, তাদের নাম পর্যন্ত এই অপদার্থগুলো শোনেনি। এমনকি শিবপ্রসাদ রায় বা রাধেশ্যাম ব্রহ্মচারীদের বই এখন রাজ্য অফিসে পাওয়া যায় না। কলেজ স্ট্রিটে অরুণদার বইয়ের দোকান বন্ধ। স্বাভাবিক ভাবেই কোনো জ্ঞান অর্জন করার সুযোগ নেই এই বর্তমান পার্টি কর্মীদের। তাই এরা সেকুলার সেজে কখনো ঝটকা মাংস ও আজকের সস্ত্র পুজোর মানে না বুঝে সেখানেও আবোল তাবোল বকে ফেলে।
এইভাবে বাংলার ভবিষ্যত ক্রমশ খারাপ হয়ে যাচ্ছে।রাজনৈতিক মোকাবিলা করার জন্য তাত্ত্বিক লড়াই অত্যাবশ্যক। কারণ রাজনৈতিক অজ্ঞতার জন্যই হিংসার সৃষ্টি হয়। শাসকের হিংসার মোকাবিলা করার জন্য মানুষকে সংগঠিত করতেই হবে, তা না হলে পাল্টা হিংসা দিয়ে সম্ভব নয়। শক্তিতে কোনো দিনই পেরে উঠতে পারবে না। আর তাছাড়া এই রাজনৈতিক সংঘর্ষের আড়ালে জিহাদীরা তাদের কর্মসূচি তৈরি করে, এই শাসক দলের মঞ্চটাকে ব্যবহার করে। আর এইভাবেই ধীরে ধীরে হিন্দু নিধনের কাজ সম্পন্ন করে। তাই এর বিরুদ্ধে দরকার হিন্দু ঐক্য এবং হিন্দু প্রতিরোধ বাহিনী, সেই সঙ্গে প্রয়োজন হিন্দু যুবকদের স্বনির্ভর করা ও হালাল অর্থনীতির মোকাবিলা করার মানসিকতা তৈরি করা।সংযুক্ত হিন্দু ফ্রন্ট এই কাজে আন্তরিক ভাবে সক্রিয়।”

