আমাদের ভারত, ২১ জুলাই: পিপিলিকার পাখা গজায় মরিবার তরে। তৃণমূলের ২১ জুলাইয়ের বিরাট জমায়েত নিয়ে এই উদাহরণকেই সামনে আনার চেষ্টা করেছে বিজেপি। আর তার প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরেছে সিপিআইএমের বিরাট জমায়েতের ছবি। মনে করিয়ে দেওয়া হয়েছে, সিপিএমের বিরাট জমায়েতের মাত্র দু’বছরের মধ্যে ধুলিসাৎ হয়েগিয়েছিল বামেদের সরকার। তৃণমূলের ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম হবে না।
বিজেপি রাজ্য সম্পাদক অমিতাভ চক্রবর্তী ২০০৯ সালে সিপিএমের সমাবেশের একটি ছবি টুইট করেছেন। ছবিতে তিনি লিখেছেন, ২০০৯ বামফ্রন্টের সমাবেশ ধর্মতলায়। তার ঠিক দু’বছর পর সরকারটা চলে গিয়েছিলো। আজও লোক হবে ধর্মতলায়। ভয় পাবেন না। ২০২৬-এ এই সরকারটাও যাবে।
বুধ সন্ধ্যা থেকেই বামেরা সোশ্যাল মিডিয়ায় ময়দানের একটি ছবি পোস্ট করতে থাকে। তাতে দেখা যাচ্ছে ধর্মতলা এলাকায় বাম কর্মী সমর্থকদের ভিড় উপচে পড়ছে। ছবিটি ২০০৯ সালের ৩১ আগস্ট ৫৯ এর খাদ্য আন্দোলনের ৫০ বছর উপলক্ষে। পুরনো দিনের কথা স্মরণ করিয়ে দিতেই বামেরা এই ছবি আর্কাইভ থেকে বাজারে এনেছিল। কিন্তু সেই ছবিকেই তৃণমূলের বিরুদ্ধে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে বসল বিজেপি। এক ঢিলে মারা হলো দুই পাখি।
বৃহস্পতিবার সকালে যখন তৃণমূলের সভায় উপচে পড়া ভিড়, তখন সিপিএমের ছবি হাতিয়ার করে তৃণমূলকে বিঁধতে ছাড়লো না বিজেপি। আবার সিপিএমকেও মনে করিয়ে দিল তাদের বর্তমান পরিস্থিতি।

বুধবার রাত থেকেই ধীরে ধীরে স্পষ্ট হয়েছে বৃহস্পতিবার কি ধরণের জমায়েত হতে চলেছে তৃণমূলের। কারণ রাত এগারোটায় হাওড়া স্টেশন ছিল জন অরণ্য। বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, ঝাড়গ্রাম থেকে হাজার হাজার মানুষের ভিড়ে কলকাতা শহরের রূপ বদলেছে। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে নয়টার মধ্যেই জমায়েত ধর্মাতলা থেকে পার্ক স্টিটে ফ্লাইওভার ছাপিয়ে গিয়েছে। কিন্তু বিজেপি নেতা অমিতাভ চক্রবর্তীর এই টুইট বার্তা দলের নেতা কর্মীদের উদ্দেশ্যে হলেও তৃণমূল ও বামেদেরও একসাথে সম্বিত ফেরানোর ওষুধ বলেও অনেকের ধারণা।
২০০৯ এ বামফ্রন্টের সমাবেশ, ধর্মতলায়। তাঁর ঠিক দুবছর পর সরকার টা চলে যায়।
আজ ও লোক হবে ধর্মতলায়, ভয় পাবেন না, ২০২৬ এ এই সরকার টা ও যাবে।।। pic.twitter.com/mBBhIPXU3y
— Amitava Chakravorty (@Amitava_BJP) July 21, 2022
অনেকের মতে তৃণমূলের এই জমায়েত দেখে বিজেপি কর্মীদের মনোবল এ আঘাত লাগতে পারে, সেই কারণেই হয়তো সিপিএমের উদাহরণ টেনে অমিতাভ চক্রবর্তী বোঝাতে চাইলেন জমায়েত করলেই সব হয় না।

