আমাদের ভারত, কলকাতা, ১ জুলাই: দক্ষিণ কলকাতায় নজর কেড়েছে গোবিন্দপুর এলাকার শিশু-কিশোরদের হাতে হাতে তিন তলা রথ। এই রথগুলোর বিতরণ পর্বের পেছনের কারিগর কলকাতা পৌরসভার এক কাউন্সিলর।
যোধপুর পার্কের কাছে গোবিন্দপুর প্রদীপ সঙ্ঘ। পুরসভার ৯৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মৌসুমী দাসের কাছ থেকে পাওয়া রথ নিয়ে ১২১ জন শিশু-কিশোর সানন্দে ঘুরেছে। জনমুখী নানা কাজের সুবাদে ইতিমধ্যে সাড়া ফেলে দিয়েছেন মৌসুমী। গায়িকা হিসাবে আগেই নাম করেছিলেন। পুরমাতা হওয়ার পর অনুষ্ঠানের ডাক আসছে আরও বেশি করে। কিন্তু নাগরিক স্বাচ্ছন্দ্যের দেখভাল এবং জনসংযোগে ঢিলে দিতে রাজি নন মোটেই। তাই কেন্দ্রীয় সরকারের গবেষণাগারে অগ্নিকান্ডের খবরে যেমন ছুটে যাচ্ছেন, তেমনই সমস্যায় পড়া এককালের প্রাক্তন এক ক্রীড়া সাংবাদিকের সহায় হয়ে উঠেছেন।
মৌসুমীর দেওয়া রথ নিয়ে ছোটরা যোধপুর পার্কে রথযাত্রা উৎসবে শামিল হচ্ছে। সেই তিন তলা রথে জগন্নাথ দেবের বিগ্রহ বসানো। শুক্রবার রথযাত্রার আগে বৃহস্পতিবার রাতে ওখানেই হল আর এক রথ উৎসব। বাচ্চাদের হাতে, এমনকি লেক থানার ওসি’র হাতে তুলে দেওয়া হয় রথগুলো। উপস্থিত ছিলেন, কলকাতা পৌরসভার চেয়ারপার্সন তথা সাংসদ মালা রায় ও রাসবিহারী বিধানসভার বিধায়ক দেবাশিস কুমার। ওঁরা ছাড়াও ছিলেন পুরমাতা জুঁই বিশ্বাস, কার্তিক বন্দোপাধ্যায়, সৌরভ বসু, পারমিতা চ্যাটার্জি, প্রবীর মুখার্জি, বিমান ভট্টাচার্য, লেক থানার ওসি কৌশিক দাস প্রমুখ।
একসময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে রেল কলোনির উচ্ছেদ বিরোধী আন্দোলনে একসময় সংবাদ শিরোনামে এসেছিল গোবিন্দপুর। আর এবার ১২১টি তিনতলা রথ বিলি করে ফের জগন্নাথ ভক্তদের মনের মণিকোঠায় পৌঁছে গেল ৯৩ ওয়ার্ডের সেই ঐতিহাসিক পল্লি।
রথযাত্রা উৎসবকে কেন্দ্র করে শহরের অধিকাংশ পাড়ায় ছোটরা যেমন ছোট ছোট রথযাত্রা করে তেমনই নানা পল্লিতে গত কয়েকবছর ধরে হয় পাঁপড় উৎসব। কিন্তু এই প্রথম নিজের ৯৩ ওয়ার্ডের গোবিন্দপুরের প্রদীপ সংঘকে সঙ্গে নিয়ে রথযাত্রার উৎসব ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে শিশু- কিশোরদের পাশে দাঁড়ালেন কাউন্সিলর মৌসুমী। তাঁর কথায়, “ওয়ার্ডের বহু নিম্নবিত্ত ও দুঃস্থ পরিবারের শিশু- কিশোর আছে যাদের ইচ্ছে হলেও রথ টানতে পারে না। সেই সমস্ত জগন্নাথ ভক্তের জন্যই আমরা এবছর বিগ্রহ সহ ১২১টি তিনতলা রথ দিলাম। পরের বছর জগন্নাথদেব চাইলে আরও বেশি সংখ্যায় রথ ভক্তদের কাছে পৌঁছে দেব।”
অভিনব কর্মসূচি নিয়ে প্রদীপ সংঘের দুই কর্তা রাজা সিং ও মনোজ রায় জানান, “কাউন্সিলর দিদি উদ্যোগ নিয়েছেন, আর মহাপ্রভু জগন্নাথদেব চেয়েছেন বলেই তাঁর ভক্ত শিশু কিশোরদের কাছে রথ ও বিগ্রহ পৌঁছনোর চেষ্টা করছি। রথযাত্রার দিন ১৩ ওয়ার্ডে পাঁপড় বিতরণের বহু কর্মসূচি রয়েছে বলে কাউন্সিলর জানান।
এই সঙ্গে, রথযাত্রা উপলক্ষ্যে মা দুর্গার খুঁটি পুজো শুরু হল কলকাতা জুড়ে বিভিন্ন ক্লাবগুলিতে। কেউ আবার রথযাত্রার পূণ্য লগ্নে খুঁটি পুজোর সঙ্গে সঙ্গে চক্ষুদানের অঙ্গীকারও করেন। কেউ স্বেচ্ছায় রক্তদান শিবিরের আয়োজন করেছেন। সব মিলিয়ে উৎসবের মেজাজে সপ্তাহশেষের এক মেঘলা দিন কাটাল কলকাতা।

