স্বরূপ দত্ত, আমাদের ভারত, উত্তর দিনাজপুর, ২৫ ফেব্রুয়ারি: শতাব্দী প্রাচীন রনকালীর থান স্থানান্তরন ঘিরে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ালো এলাকায়। ঘটনাটি ঘটেছে রায়গঞ্জ থানার বারদুয়ারি এলাকায়। পুলিশ-প্রশাসন ও জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের সাথে তীব্র বচসায় জড়িয়ে পড়েন গ্রামের মানুষজন।

প্রসঙ্গত, রায়গঞ্জ ব্লকের রুপাহার থেকে বারদুয়ারি পর্যন্ত ফোরলেন বাইপাসের কাজ প্রায় শেষ। মাঝে মধুপুর এলাকায় এই রাস্তার মাঝে রনকালীর থান প্রতিষ্ঠিত থাকায় সংলগ্ন স্থানে থমকে যায় কাজ। স্থানীয় মানুষজনের দাবি, কোনোভাবেই এই স্থান থেকে দেবীর থান সরিয়ে কাজ সম্ভব নয়। সেক্ষেত্রে অমঙ্গলের আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন গ্রামের মানুষজন। মাস খানেক আগে একটি সংবাদ মাধ্যমে সেই খবর সম্প্রচারিচও হয়। এদিকে ঐ জায়গায় কাজ থমকে থাকায় বিপাকে পড়ে জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ। স্থানীয়দের অভিযোগ, শনিবার কাউকে কিছু না জানিয়ে আচমকাই পুলিশ-প্রশাসনকে সঙ্গে নিয়ে জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ থান সরানোর সবরকম প্রক্রিয়া শুরু করে। প্রথমে পুরোহিত ও মাহাত সহযোগে প্রশাসনের পক্ষ থেকে পুজোর আয়োজন করা হয়। এদিকে ঘটনার কথা চাউর হতেই দলে দলে মানুষজন জড়ো হতে থাকে। চরম বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন গ্রামবাসীরা। তাদের বক্তব্য, পুজো চলাকালীন একজন মহিলার ভরও উঠে যায়। ক্রমশই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হতে থাকে। স্থানীয় বাসিন্দা শুভলতা বর্মন বলেন, এই জায়গায় প্রায় দেড়শো বছর ধরে দেবীর অধিষ্ঠান রয়েছে। এখন তাঁকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত কখনই মানবেন না গ্রামবাসীরা।

অন্যদিকে স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্য শ্রীকান্ত বর্মনও প্রশাসনের এই ভূমিকায় ক্ষুব্ধ। তিনি বলেন, এখানে ৫ শতক জমি রয়েছে রনকালীর। সেক্ষেত্র গ্রামবাসীদের সাথে আলোচনা না করে আচমকা এই পরিস্থিতির সৃষ্টি করা হয়েছে। তাঁর দাবি, হয় থান বাঁচিয়ে পূর্ব দিক দিয়ে রাস্তা ঘোরানো হোক নয়ত স্থায়ী পুনর্বাসন দেওয় হোক ধর্মীয় এই স্থানের।


