রহড়া হরিসভায় শ্রীশ্রী রাধাকৃষ্ণজীউর মন্দির

ড. কল্যাণ চক্রবর্তী

আমাদের ভারত, ১০ ফেব্রুয়ারি: ধর্মচর্চা, আধ্যাত্মিকতা ও কথকতার অন্যতম নাম রহড়া হরিসভা। ১৩৩১ বঙ্গাব্দে অর্থাৎ আজ থেকে প্রায় পঁচানব্বই বছর পূর্বে হরিসভার প্রতিষ্ঠা। তখন ছিল নেহাতই একটি তুলসীমঞ্চ, ছোট্ট চালাঘরে রাধামাধবজীর মন্দির। সেখানে প্রতি সন্ধ্যায় দীপধূপ প্রজ্জ্বলন, বাৎসরিক সার্বজনীন দুর্গাপূজা, মাঝেমধ্যে অষ্টপ্রহর নাম সংকীর্তন। তৎকালীন রহড়ায় হিন্দুধর্মের শূদ্রসমাজের মানুষের মধ্যে ধর্মীয়ভাব ও শৃঙ্খলা এনে দিয়েছিল এই হরিসভা। হরিনাম সংকীর্তনে যোগ দিয়েছিলেন উচ্চবর্ণের হিন্দুরাও। ফলে এই সভা ছিল প্রকৃত অর্থে হিন্দু মিলন মন্দির।

রহড়ার মানুষের ভাবাবেগ এমনটাই — রামকৃষ্ণ মিশন ও হরিসভাতেই পরম নিষ্ঠাভরে দেবী দুর্গার পূজার্চনা হয়। তাই অঞ্জলি প্রদানের সময় খুব ভড় হয় এখানে। রহড়ায় চার দশকের বেশি সময় বসবাস কালে হরিসভা আয়োজিত দুর্গাপূজায় নিয়মিত পুষ্পাঞ্জলি নিবেদন করেছি আমি। এখন অবশ্য পাকা মন্দির নির্মাণ হয়েছে, সেখানে রাধামাধব ছাড়াও মা কালী ও শিবলিঙ্গ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। যখন এই মন্দিরখানি ছিল না, ছিল কেবল একটি ঐশী বৃক্ষ, তখনও বহু ধর্মীয় আলোচনা নিয়মিত অনুষ্ঠিত হত। এখানেই আমি কথক ও বাচিক শিল্পী বীরেন্দ্র কৃষ্ণ ভদ্র ও আধ্যাত্মিক পুরুষ বালক ব্রহ্মচারী মহোদয়ের সঙ্গে পরিচিত হই, আলাপ হয় বহু কীর্তনীয়া সম্প্রদায়ের সঙ্গে।

শুনেছি স্বামী পুণ্যানন্দ মহারাজ এখানে মাঝেমধ্যে আসতেন, অনেক সাহায্যও করতেন। স্বামী নিত্যানন্দ মহারাজকে এখানে আসতে দেখেছি আমি। আর নিয়মিত যাকে দেখেছি, তিনি হলেন হরিসভার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক শ্রী সুধাংশু শেখর মুখোপাধ্যায় মহোদয়কে। তাঁর সম্পর্কে পৃথক নিবন্ধে আরও অনেক কথা বলার ইচ্ছে রইলো।

এই মন্দিরের প্রতিষ্ঠাতা মহেন্দ্র চন্দ্র ঘোষ। তাঁর সহধর্মিণী সুহাসবালা ঘোষ স্বামীর ইচ্ছানুযায়ী ছয় কাঠা জমি হরিসভাকে দান করেন। পরে একটি ট্রাস্ট গঠিত হয়। এই ট্রাস্টের হাতে নিষ্ঠাবান কর্মী জগাই মাঝি অনেক স্থাবর অস্থাবর সম্পত্তি দান করেছেন। রহড়াবাসীর অনেক দান গ্রহণ করেই এই মন্দিরের প্রতিষ্ঠা। এই মন্দিরের বিগ্রহ সতত আমায় আকর্ষণ করে। হরিসভার দৈবীভাব বজায় থাকুক, মহামিলনক্ষেত্র হয়ে উঠুক এই মন্দির। পথচলতি মানুষকে এক মুহূর্তের জন্য পবিত্র স্নান করিয়ে দেয় এর সামীপ্য ও সান্নিধ্য।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *