আগামীকাল শুক্রবার থেকে ছয়দিন বন্ধ থাকছে তারাপীঠ মন্দির, অন-লাইনে ভক্তরা বাড়িতে বসেই মায়ের দর্শন করতে পারবেন

আশিস মণ্ডল, রামপুরহাট, ২ সেপ্টেম্বরঃ রাত পোহালেই বন্ধ হচ্ছে তারাপীঠ মন্দির। টানা ছ’দিন মন্দিরে পুন্যার্থীদের প্রবেশ বন্ধ থাকছে। বন্ধ থাকছে সমস্ত হোটেল ব্যবসা। করোনা অতিমারির কারণে কৌষিকী অমাবস্যায় লক্ষ লক্ষ মানুষের সমাগম আটকাতেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে জেলা প্রশাসন এবং মন্দির কমিটি। তবে অন-লাইনে ভক্তরা বাড়িতে বসেই মায়ের দর্শন করতে পারবেন সেবাইতদের মাধ্যমে।

কথিত আছে মহিষাসুর বধের পর শুম্ভ-নিশুম্ভের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছিলেন স্বর্গের দেবতারা। শেষে দেবতারা মহামায়ার তপস্যা শুরু করেন। সেই তপস্যায় সন্তুষ্ট হয়ে দেবী নিজ কোষ থেকে উজ্জ্বল জ্যোতি বিচ্ছুরিত করে এক পরমাসুন্দরী দেবী মূর্তিতে আবির্ভূত হন। নিজকোষ থেকে বের হওয়ার জন্য তিনি হলেন কৌশিকী। কৌশিকীদেবী আবার তারা ও কালীতে রূপান্তরিত হন। আবার শোনা যায়, কৌশিকী অমাবস্যার দিন তারাপীঠ মহাশ্মশানের শ্বেতশিমূল বৃক্ষের তলায় সাধক বামাক্ষ্যাপা সাধনা করে সিদ্ধিলাভ করেছিলেন। ফলে ওই দিন মা তারার পুজো দিলে এবং দ্বারকা নদীতে স্নান করলে পুণ্যলাভ হয় এবং কুম্ভস্নান করা হয়।

এই বিশ্বাসে আজও ভারতবর্ষের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ ওই তিথিতে তারাপীঠে ছুটে আসেন। ৬ সেপ্টেম্বর এবার কৌষিকী অমাবস্যা। এই বিশেষ দিনে প্রতিবছর পাঁচ লক্ষাধিক মানুষের জমায়েত হয় তারাপীঠে। পুন্যার্থীদের আটকাতে তাই ৩ থেকে ৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মন্দিরের দরজা পুন্যার্থীদের জন্য বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় প্রশাসনিক বৈঠকে। তবে নিত্যপুজো কিংবা অমাবস্যার পুজো হবে রীতি মেনেই।

মন্দির বন্ধের খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার মন্দিরে পুজো দিতে ভিড় জমিয়েছেন বহু পুন্যার্থী। এদিন মা তারার পুজো দেন হুগলীর বাঁশবেড়িয়া পুরসভার চেয়ারম্যান আদিত্য নিয়োগী, কলকাতার বাসিন্দা কল্যাণী ঘোষরা। তাঁরা বলেন, “ইচ্ছে ছিল কৌষিকী অমাবস্যায় মায়ের পুজো দেব। কিন্তু ওই সময় মায়ের মন্দির বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় আমরা আগেই পুজো দিয়ে গেলাম। তবে করোনা অতিমারির কারণে মন্দির কমিটি এবং প্রশাসন যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তাকেও সাধুবাদ জানাই।”

মন্দির কমিটির সভাপতি তারাময় মুখোপাধ্যায়, সম্পাদক ধ্রুব চট্টোপাধ্যায় বলেন, “কৌষিকী অমাবস্যায় লক্ষ লক্ষ মানুষের জমায়েত হয়। ফলে এই অতিমারির সময় কৌষিকী অমাবস্যায় মন্দির খোলা থাকলে গোষ্ঠী সংক্রমণের আশঙ্কা রয়েছে। সেই কারনে মন্দির বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে রীতি মেনে মায়ের পুজো হবে। পুন্যার্থীদের বাড়িতে বসেই মায়ের দর্শন ও পুজো দেখার জন্য মন্দিরের গর্ভগৃহের বাইরে দুটি জায়েন্ট স্ক্রিন বসানো থাকবে। সেবাইতরা সেখান থেকে মায়ের পুজো সরাসরি পুন্যার্থীদের দেখাতে পারবেন।”

হোটেল ব্যবসায়ী সুবীর বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “প্রশাসনের নির্দেশে সমস্ত হোটেল ছ’দিন বন্ধ থাকবে। তবে পুজোর আগে এই সিদ্ধান্তে বিপাকে পড়বেন হোটেল কর্মচারী, টোটো চালক থেকে ছোটখাটো ব্যবসায়ীরা। কারণ এই সময় দুটো বাড়তি আয়ের জন্য মানুষ অপেক্ষায় থাকেন। সেই আয়েই বাঙালির বড় উৎসবে মাতেন পরিবারের সদস্যরা। সেবাইতরা অন-লাইনে মায়ের দর্শন করিয়ে সামান্য হলেও আয় করবেন। কিন্তু খেটে খাওয়া মানুষগুলোর চোখের জল মোছাবে কে?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *