সোমনাথ বরাট, আমাদের ভারত, বাঁকুড়া, ৩১ ডিসেম্বর: তাঁতশিল্পকে বাঁচিয়ে রাখার কামনায় অকাল বিশ্বকর্মা পুজোয় মেতেছে বাঁকুড়ার গোপীনাথপুরের তন্তুবায় সম্প্রদায়। আজ সকাল থেকেই শুরু হয়েছে কর্মের দেবতা বিশ্বকর্মার আরাধনা।
পৌষ মাসের শুক্লপক্ষের নবমী তিথিতে বিশ্বকর্মার আরাধনায় ব্রতী হন তন্তুজীবীরা। অতীত কাল থেকেই এই প্রথা বজায় রয়েছে।রীতিমতো বিশ্বকর্মার মূর্তি তৈরী করে সারাদিন পূজার্চনা, হোম যজ্ঞের আয়োজন করা হয়। বাঁকুড়ার তন্তুবায় সমাজ কল্যাণ সমিতির উদ্যোগে
গোপীনাথপুর আদর্শ তন্তুবায় সমবায় সমিতির ব্যবস্থাপনায় গোপীনাথপুরে বিশ্বকর্মার আরাধনার আয়োজন করা হয়েছে। সমিতির পক্ষে শিবপ্রসাদ দত্ত, দুর্গাদাস লৌহ জানান, নিজেদের জাতকর্ম তাঁত শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য ও তার উন্নতি কামনায় সুদূর অতীতে এই পুজোর প্রচলন হয়।বিভিন্ন পঞ্জিকাতেও এই পূজার উল্লেখ রয়েছে।তন্তুবায় অধ্যূষিত শান্তিপুর, নদিয়া, ফুলিয়া প্রভৃতি স্হানে আজকের দিনে ঘটা করে বিশ্বকর্মা পুজো হয় বলে তারা জানান।

বাঁকুড়া শহরের গোপীনাথপুর তন্তুবায় অধ্যূষিত এলাকা। এক সময় খুব সকাল থেকেই এখানে তাঁতের কাজ শুরু হোত। তাঁতের আওয়াজে সারা এলাকা গমগম করতো। যা জানান দিত তন্তুবায়দের উপস্থিতি। তাঁত শিল্পে আধুনিক যন্ত্রের ব্যবহার শুরু হতেই পিছু হঠতে শুরু করে হস্তচালিত তাঁত, আর তারপর থেকেই নেমে আসে তাঁত শিল্পীদের দূরাবস্হা। কাজ হারায় বহু শিল্পী। বর্তমানে সমবায়ের মাধ্যমে বেঁচে থাকার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে তাঁত শিল্পে নিয়োজিত মানুষরা। এই কাজে সাফল্য কামনায় নতুন উদ্যমে শুরু হয়েছে বিশ্বকর্মার আরাধনা।
শিবপ্রসাদ বাবু জানান, পুজো উপলক্ষ্যে আগামী সোমবার নরনারায়ণ সেবার আয়োজন করা হয়েছে।

