আমাদের ভারত, ৩ নভেম্বর: ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নির্বাচনী বন্ডের মাধ্যমে হওয়া আয়ের হিসাব দুই সপ্তাহের মধ্যে জমা দিতে হবে জাতীয় নির্বাচন কমিশনকে। টানা তিন দিন নির্বাচনী বন্ড নিয়ে শুনানি শেষের রায় সংরক্ষিত রেখে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন ৫ বিচারপতির সাংবিধানিক বেঞ্চ আজ এই নির্দেশ দিয়েছে।
একই সঙ্গে কেন্দ্রকে বলা হয়েছে নির্বাচনী বন্ড সংক্রান্ত যা কিছু ত্রুটি রয়েছে তা মিটিয়ে ফেলতে কোনো বিশ্বাসযোগ্য স্বচ্ছ প্রক্রিয়া তৈরি করা হোক। এদিন আদালতের বিরক্তির মুখে পড়তে হয়েছে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের আইনজীবীকে। এখনো পর্যন্ত কোনো রাজনৈতিক দল বন্ড মারফত কত টাকা পেয়েছে সে তথ্য চাইলেও পূর্ণাঙ্গ তথ্য দিতে পারেননি আইনজীবী। তিনি আদালতে জানান, কমিশন মনে করেছিল আদালতের সেই নির্দেশ শুধুমাত্র ২০১৯ সালের নির্বাচন প্রক্রিয়ার জন্য ছিল। এরপরই চার বছর আগের অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশের উল্লেখ করে বেঞ্চ বলে সেই সময় কমিশনকে বলা হয়েছিল প্রতিটি রাজনৈতিক দলকে তাদের নির্বাচনী বন্ড সংক্রান্ত তথ্য কমিশনের কাছে মুখ বন্ধ খামে জমা দিতে হবে।
৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জমা পড়া খামগুলি আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে কমিশনকে আদালতে জমা দিতে বলা হয়েছে। সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহেতাকে নিজেদের প্রাথমিক মতামত জানিয়েছেন প্রধান বিচারপতি ডি ওয়াই চন্দ্রচূড়, বিচারপতি সঞ্জীব খান্না, বিচারপতি বি আর গাভাই, বিচারপতি জেবি পারদিওয়ালা, বিচারপতি মনোজ মিশ্রের বেঞ্চ।
আদালতে প্রথম হলফনামা জমা দিয়েও পরবর্তীতে শুনানির সময় কেন্দ্র যতই নির্বাচনী বন্ডকে স্বচ্ছ বলে দাবি করুন তাতে যে বেঞ্চ খুব একটা সহমত নয় সেটা স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে বেঞ্চের বিভিন্ন পর্যবেক্ষণে। এমনটাই মত আইন বিশেষজ্ঞদের। এক সময় প্রধান বিচারপতিকে বলতে শোনা গেছে, নির্বাচনী বন্ড প্রক্রিয়াটি ত্রুটিমুক্ত নয়। এমন একটি পদ্ধতি তৈরি করা উচিত যার মাধ্যমে গোটা বিষয়টি স্বচ্ছ ও বিশ্বাসযোগ্য হবে। আদালত স্পষ্ট করে দেয় যে তারা এই বিষয়টিতে হস্তক্ষেপ করতে পরবে না কারণ এটি পুরোপুরি আইনসভা ও সরকারের বিষয়।
জেনারেল তুষার মেহেতার কাছে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন করেন প্রধান বিচারপতি। জানতে চান কেন শুধুমাত্র লাভজনক সংস্থাই বন্ডে অনুদান দেওয়ার সুযোগ পাবে? কেন অনুদানের সর্বোচ্চ সীমা বেঁধে দেওয়া হবে না? কোনো সংস্থা কিভাবে যাবতীয় লাভ, দান করে দিতে পারে? এক্ষেত্রে সলিসিটর জেনারেল বলেন, সর্বোচ্চ সাড়ে সাত শতাংশ ইলেকট্রোল বন্ড দিতে পারতো কোনো প্রতিষ্ঠান। কিন্তু দেখা গেল কোনো সংস্থা যে পরিমাণ অর্থ দান করতে চায় তা তার লাভের ১০ কিংবা ১৫%। সেক্ষেত্রে হয় সে বাকি টাকা নগদে দিতো, যা কালো টাকা। তাহলে বাকি টাকা অন্য কোনো ভুয়ো কোম্পানির মাধ্যমে দিত। এই দুটি বেআইনি বিষয় ঠেকাতে সর্বোচ্চ সীমা উঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাতে বিচারপতি বলেন, তাহলে কি আপনি বিশ্বাস করেন যে এখন কেউ নগদে টাকা দেয় না?

