আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবসে স্বাক্ষরকারীদের বই, খাতা, প্রদীপ দিলেন মহকুমাশাসক

কুমারেশ রায়, আমাদের ভারত, মেদিনীপুর, ৮ সেপ্টেম্বর: আজ ৮ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস। সাক্ষরতা মানেই মনে পড়ে বর্ণপরিচয়ের স্রষ্টা পন্ডিত ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের কথা। যিনি তখনকার দিনে নারী সহ সমাজের প্রত্যেকটি মানুষকে সাক্ষর করে তোলার জন্য ব্রতী হয়েছিলেন, সাক্ষরতা দানের উদ্দেশ্যে একাধিক বিদ্যালয় স্থাপন করেছিলেন।

আজ তাঁরই জন্মস্থান ঘাটালের বীরসিংহ গ্রামে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস উপলক্ষ্যে গ্রামের সমস্ত মানুষকে সাক্ষর করে তোলার জন্য প্রশাসনের তরফে একটি উদ্যোগ নেওয়া হয়। বীরসিংহ গ্রামে নিরক্ষরতা দূরীকরণের এই কর্মসূচির সূত্রপাত হয়েছিল ২০১৯ সালে বিদ্যাসাগরের দ্বিশততম জন্মবার্ষিকী উদযাপনের সময় থেকেই।

এই সাক্ষরতা অভিযানের মূল উদ্যোক্তা বীরসিংহ ভগবতী বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শক্তিপদ বেরা।
যিনি জেলাশাসক রশ্মি কমল এবং স্থানীয় বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষকের সহযোগিতায় বীরসিংহ গ্রামের ৬৩ জন নিরক্ষর মানুষকে সাক্ষর করে তোলার চেষ্টা শুরু করেছিলেন। কিন্তু সেই সময় তাঁরা কিছুটা সফল হলেও করোনা অতিমারির জেরে এই পদক্ষেপ অসমাপ্তই রয়ে যায়।

২০২১ সালের ৮ সেপ্টেম্বর পুনরায় এই অসমাপ্ত সাক্ষরতা অভিযান শুরু করার উদ্যোগ নিলেন ঘাটালের মহকুমা শাসক সুমন বিশ্বাস। আজ তিনি পন্ডিত ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের জন্মভূমিতে উপস্থিত হয়ে গ্রামের কয়েকজন মানুষকে নিয়ে একটি সাক্ষরতা অভিযানের সভার আয়োজন করেন। এই সভাতে উপস্থিত ছিলেন ঘাটাল পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি আসিস হুদাইত, সহ সভাপতি দিলীপ মাঝি, শিক্ষা কর্মাধ্যক্ষ বিকাশ কর, প্রাণিসম্পদ কর্মাধ্যক্ষ সুশান্ত মন্ডল, মৎস্য কর্মাধ্যক্ষ জারিনা ইয়াসমিন, বীরসিংহ ভগবতী বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শক্তিপদ বেরা, দাসপুরের সহ-সভানেত্রী প্রতিমা দোলুই সহ অন্যান্য প্রশাসনিক কর্তা এবং কর্মীরা।
আজকের এই সভাতে গ্রামের প্রায় ৫৯ জনেরও বেশি মহিলা উপস্থিত হয়েছিলেন। কিছু জনের মধ্যে ভীতি থাকলেও প্রায় প্রত্যেকেই চেষ্টা করেছেন স্বাক্ষর করার। এই সভার মাধ্যমে তাঁদের হাতে বর্ণপরিচয়, খাতা, কলম সহ একটি করে প্রদীপ তুলে দেওয়া হয়।

মহকুমা শাসক সুমন বিশ্বাস তাঁদের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনারা চেষ্টা করলেই ভগবতী দেবীর মত হতে পারেন। ঘাটাল পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি আসিস হুদাইত বলেন, আপনারা বিদ্যাসাগরের গ্রামের বাসিন্দা আপনাদের সাক্ষরতার আলো যেন সমস্ত মানুষকে সাক্ষরতায় আলোকিত করে। তিনি সকলকে নিরক্ষরতা দূরীকরণের উদ্দেশ্যে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।
ঘাটাল পঞ্চায়েত সমিতির সহ সভাপতি দিলীপ মাঝি বলেন, সকলকে ভয় না পেয়ে স্বাক্ষর করতে জানতে হবে যাতে ভবিষ্যতে কোনও রকম প্রতারণার শিকার না হতে হয়। এই অভিযানের মূল উদ্যোক্তা শক্তিপদ বেরা বলেন, আমরা গ্রামের সমস্ত মানুষকে সাক্ষর করে তোলার চেষ্টা করে চলেছি এবং ভবিষ্যতেও এই প্রচেষ্টা চালিয়ে যাব।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *