হাই কোর্টের নির্দেশের পর আন্দোলন মঞ্চ সরিয়ে নিল বিশ্বভারতীর পড়ুয়ারা

আশিস মণ্ডল, বীরভূম, ৩ সেপ্টেম্বর: হাইকোর্টের নির্দেশের পর অবস্থান মঞ্চ সরিয়ে নিল এসএফআইয়ের আন্দোলনকারি ছাত্রছাত্রীরা। উপাচার্যের বাংলো সহ সমস্ত প্রশাসনিক ভবনের তালা ভেঙ্গে ফেলা, সাধারণের চলাচলের রাস্তা খুলে দেওয়া সহ আরও এক গুচ্ছ নির্দেশ দিয়েছে আদালত। তার পরেই উপাচার্যের বাড়ির সামনে থেকে মঞ্চ সরিয়ে নেয় বিক্ষোভকারীরা।

বিশ্বভারতীর তিন পড়ুয়া সোমনাথ সৌ, রূপা চক্রবর্তী ও ফাল্গুনী পানকে বহিষ্কারের বিরুদ্ধে বিশ্বভারতীর উপাচার্যের বাংলোর সামনে গত ২৭ আগস্ট রাত থেকে অবস্থান চালাচ্ছেন এসএফআইয়ের নেতৃত্বে পড়ুয়ারা। ঘেরাও করে রেখেছে উপাচার্যের বাংলো ‘পূর্বিতা’। পড়ুয়াদের এই আন্দোলনের বিরুদ্ধে বিশ্বভারতীর তরফে কর্মসচিব অশোক মাহাতো একটি রিট পিটিশন দাখিল করেন কলকাতা উচ্চ আদালতে। তারই শুনানি হয়েছে বিচারপতি রাজাশেখর মান্থা’র এজলাসে। আদালত অন্তবর্তী কালীন বেশ কয়েকটি নির্দেশ দিয়েছে। আদালতের নির্দেশে পড়ুয়াদের অবস্থান মঞ্চ উপাচার্য বা যে কোনও কর্মী আধিকারীকের বাসস্থান ও প্রশাসনিক ভবন থেকে ৫০ মিটার দূরে সরিয়ে নিয়ে যেতে হবে। সেই মত এদিন বিকেলের মধ্যে অবস্থান মঞ্চ খুলে নিয়েছেন পড়ুয়ারা।

উপাচার্যের বাংলো সহ যে সমস্ত জায়গায় তালা মারা হয়েছে তা ভাঙ্গার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। রাজ্য পুলিশের বাহিনী আদালতের নির্দেশ পাওয়ার সাথে সাথেই তা ভেঙ্গে দিয়েছে। আদালতের নির্দেশমত উপাচার্যের বাসভবনের সামনে তিনজন সশস্ত্র পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। আদালত আরও নির্দেশ দিয়েছে, ক্যাম্পাসের ভেতরের কোনও লাউড স্পিকার ব্যবহার করা যাবে না।
আদালত যা নির্দশে দিয়েছে তা অক্ষরে অক্ষরে পালন করা হবে এই বার্তা দিয়েই আন্দোলনরত পড়ুয়ারা জানিয়েছেন, ‘ছাত্র আন্দোলন বন্ধ হচ্ছে না। কারণ কলকাতা হাইকোর্টের অন্তর্বর্তী নির্দেশে কোথাও ছাত্র আন্দোলন বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়নি। গত শুক্রবার থেকে তিন পড়ুয়ার বহিষ্কারের প্রতিবাদ করে আন্দোলনে ছাত্রছাত্রীদের প্রতি ইতিমধ্যে সম্মতি জানিয়েছে এসএফআই, ডিওয়াইএফআই সহ অন্যান্য ছাত্র-যুব সংগঠন।

প্রবীণ অশ্রমিক, প্রাক্তনী, ব্যবসায়ী সমিতি, পৌষ মেলা বাঁচাও কমিটির মত বিভিন্ন সংগঠনও পড়ুয়াদের পাশে দাঁড়িয়েছে। বিশ্বভারতীর অধ্যাপক সংগঠন ভিবিউফা’র সভাপতি উপাচার্যের রোষে সাসপেন্ড হওয়া অধ্যাপক সুদীপ্ত ভট্টাচার্য বলেন, ‘‘আমাদের আইনজীবীর তরফ থেকে যা জানতে পেরেছি তাতে কোথাও ছাত্রদের আন্দোলন প্রত্যাহারের কথা বলা হয়নি। আদালতের নির্দেশ মেনেই আন্দোলন চলবে।’’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *