আমাদের ভারত, পশ্চিম মেদিনীপুর, ১২ জুলাই: এখন ভরা বর্ষা। আর এই বর্ষার মরসুমে শুরু হয়ে গেছে অযব নগর, লক্ষ্মণপুর ও মনসুকাবাসীর নৌকা চাষের প্রস্তুতি।

এই আজব নগরবাসী তথা পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি দিলীপ মাঝির কথায় তাদের কাছে নৌকা তৈরী বা মেরামত করা কোনো ব্যবসা নয়, নৌকা হল এক ধরনের চাষ। এই এলাকারই পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি দিলীপ মাঝির বাড়ি গ্রামেরই নিচু এলাকায়। নিচু এলাকার বাসিন্দা হওয়ায় তার নিজেরও একটি ছোট নৌকা আছে। এই নৌকা চাষ শুরু হয় বর্ষার শুরুতে আষাঢ় শ্রাবণ থেকে, চলে প্রায় ভাদ্র আশ্বিন মাস পর্যন্ত। কারণ এই সময় সমস্ত নিচু এলাকাগুলি বর্ষাকালে জলমগ্ন থাকায় সেখানকার মানুষের একমাত্র ভরসা হল এই নৌকা। তাই বর্ষা শুরুর আগে জোরকদমে চলছে নৌকা মেরামতির কাজ। ঘাটালের অজবনগর, মনসুকা লক্ষ্মণপুরের মতন বিভিন্ন এলাকায় চলছে এই কাজ।

বর্তমানে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির ফলে এই সমস্ত এলাকাবাসীর কাছে নৌকা চাষ এক প্রকার দুষ্কর হয়ে পড়েছে। আগামী দিনে নৌকা রাখা তাদের পক্ষে অসম্ভব, কারণ একটি নৌকা বছরের শেষে রক্ষণাবেক্ষণের জন্য খরচ হয় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা। আর একটি নতুন নৌকা বানাতে আনুমানিক এক থেকে দেড় লক্ষ টাকা খরচ হয়। যার ফলে বেশি সংখ্যক মানুষ এই চাষ থেকে বিমুখ হচ্ছে আর্থিক অনটনের কারণে। কেউ আবার শেষ সম্বলটুকু অর্থাৎ চাষের জমি বন্দক দিয়ে চালিয়ে যাচ্ছে নৌকা সারাইয়ের কাজ। কারণ মাথার “উপরে বর্ষা নৌকায় তাদের ভরসা” বলে তারা জানিয়েছে। দিনের-পর-দিন নৌকার উপরে তাদের রাত্রি যাপন করতে হয়। এই সমস্ত এলাকায় প্রায় বাড়িতে নৌকা দেখা যায়। আবার দেখা যাচ্ছে রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে নষ্ট হয়ে যেতে বসেছে এই নৌকা। কেউ আবার পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতিকে কাছে পেয়ে জানিয়েছে তাদের দূরাবস্থার কথা। সরকারিভাবে তাদের জন্য কিছু অনুদান দেওয়ার জন্য তারা আবেদন করেন।

গত কয়েকদিন আগে মহাকুমা স্তরে বন্যা পরিস্থিতি পর্যালোচনাতে উঠে এসেছে এই নৌকা চাষিদের পরিস্থিতির কথা। এই এলাকায় কতগুলি নৌকা ও কত মাঝি রয়েছে তাদের খোঁজখবরে বেরিয়ে এসেছে এই নৌকা চাষিদের দূরবস্থার কথা। কারো ভেঙ্গে পড়েছে ছিটে বেড়ার দেওয়াল, কারো আবার নেই মাথার চাল। তাদের এই অবস্থার কথা জানতে পেরে তারা আশ্বস্ত করে সরকারি ভাবে তা সমাধানের।

