সাথী দাস, পুরুলিয়া, ১২ অক্টোবর: পুরুলিয়া বাস স্ট্যান্ডের নরক দশা চাক্ষুষ করলেন পরিবহন মন্ত্রী স্নেহাশীষ চক্রবর্তী। একই সঙ্গে দ্রুত সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিলেন তিনি। যদিও মন্ত্রীর এই আশ্বাস ভরসা জোগাতে পারেনি ভুক্তভোগীদের। কটাক্ষ করে যাত্রীরা বলেন, “আশ্বাসই সার। কোনও উন্নয়ন হবে না।”
বাস স্ট্যান্ড পরিদর্শনের পর মন্ত্রীর উন্নয়নের আশ্বাসের পর এইভাবেই প্রতিক্রিয়া দিলেন বাস যাত্রী ও নরক যন্ত্রণা ভোগা স্থানীয় দোকানদাররা। স্থানীয় এক দোকানদার পঙ্কজ সিং বলেন, “আমি তিন দশক ধরে দোকান করে আসছি। বাস স্ট্যান্ড যেমন ছিল তেমনই খারাপ হয়ে রয়েছে। দু একবার বিশাল টাকা খরচ করে নিম্ন মানের কাজ হয়েছিল। সেই বছর বর্ষায় ফের খানা খন্দে ভরে যায়।”

জেলা সদর এই বাস স্ট্যান্ডে দূর পাল্লা সহ ৩৫০ টি বাস চলাচল করে। প্রচুর যাত্রী নামা উঠা করেন। পুরুলিয়া পুরসভা বাস স্ট্যান্ড পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করার জন্য বাস পিছু ১৫ টাকা এবং দোকান পিছু মাসে ৩০০ টাকা নেয়। অথচ, রাজ্যের নোংরা জমে থাকে বাস স্ট্যান্ডে। এমনই অভিযোগ দোকানদারদের। বাস চলাচল নিয়েও অভিযোগ সাধারণ মানুষের। বাস বেরিয়ে গেটের মুখে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে পণ্য তোলে। এতে রাস্তায় ব্যাপক যানজট হয় প্রতিদিন। কোনও নির্দিষ্ট ব্যবস্থা নেই। দেখারও কেউ নেই। এই নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন সাধারণ মানুষ। আজ প্রথমবার পুরুলিয়া জেলায় আসেন পরিবহন মন্ত্রী। দলীয় একটি কর্মসূচিতে যোগ দিয়ে বাস স্ট্যান্ড পরিদর্শন করেন তিনি। আঞ্চলিক পরিবহন আধিকারিক ও পরিবহন দফতরের আধিকারিকদের কাছ থেকে বিভিন্ন সমস্যা ও পরিকল্পনা সম্পর্কে অবগত হন মন্ত্রী। বাস স্ট্যান্ডে খানা খন্দ এতটায় ভয়ঙ্কর হয়েছে যে মন্ত্রী আর পা না বাড়িয়ে থমকে যান। পাশে পুরুলিয়া পুরসভার পুরপ্রধান নবেন্দু মাহালিকে সঙ্গে নিয়েও বিভিন্ন সমস্যার মুখোমুখি হতে হয় মন্ত্রীকে। যদিও বিষয়গুলি গুরুত্ব দিয়ে সমাধানের নির্দেশ দেন প্রশাসনকে।
এদিন তিনি বলেন, “পুরুলিয়া শহরের বুকে বাসস্ট্যান্ডটি পরবর্তীকালে ছড়িয়ে দেওয়া হবে। তবে, সেটা এখনই নয়।”
আধুনিক বাস স্ট্যান্ডের প্রকল্প রিপোর্ট কয়েক বছর তৈরি করা হয়েছিল পুরসভা থেকে। বাস মালিক সংগঠনকে সঙ্গে নিয়ে কেএমডি’র ইঞ্জিনিয়াররা সরেজমিনে পরিদর্শন করে সেই রিপোর্ট অনুমোদন করেছিলেন বলে জানান ততকালীন পুরপ্রধান শামিম দাদ খান। তবে, এখন তার কী অবস্থা বর্তমান পুর বোর্ড জানে না।

