আমাদের ভারত, ২৩ আগস্ট: অসমের মসজিদ মাদ্রাসাগুলিতে রাজ্যের বাইরে থেকে অনেকেই ধর্মীয় শিক্ষক হিসেবে নিযুক্ত হন। কিন্তু এবার থেকে তাদের সরকারি পোর্টালের নাম নিবন্ধীকরণ করতে হবে। বাইরে থেকে কেউ এলে সেটা আগে পুলিশকে জানাতে হবে। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা এই নতুন নিয়মের কথা জানিয়েছেন।
শনিবার গোয়ালপাড়া জেলায় সন্ত্রাসবাদী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অপরাধে রাজ্যের বাইরে থেকে আসা দুই আলমকে গ্রেফতার করা হয়। তার দুদিন পরই এই নয়া নিয়ম জারি করল অসম সরকার। হিমন্ত বিশ্বশর্মা বলেছেন গ্রেপ্তার হওয়া দু’জনের মধ্যে একজন ছিলেন মসজিদের ইমাম। সে ছিল রাজাকার। অনেক গ্রামে জেহাদি নেটওয়ার্ক ছড়িয়ে দিয়েছিল। জেহাদি নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের জন্য ৬ বাংলাদেশি নাগরিক অসমে প্রবেশ করেছিল। তাদের মধ্যে একজনকে গ্রেপ্তার করে অসম পুলিশ। বাকি পাঁচজন এখনো পলাতক। অসম পুলিশ অভিযান চালিয়ে যাবে।
তিনি বলেন, “আমরা এখন কিছু স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর তৈরি করেছি। কোনো ইমাম গ্রামে এলে তাকে অবশ্যই স্থানীয় পুলিশকে খবর দিতে হবে। পুলিশ তার পরিচয় যাচাই করবে। তারপর তাকে ইমাম হিসেবে নিয়োগ করা যাবে। অসমের মুসলিম সমাজ এই বিষয়ে আমাদের সমর্থন করছে।” মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, অসমের বাসিন্দাদের ক্ষেত্রে এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে না। যারা অসমের বাসিন্দা তাদের পরিচয় বিবরণ নিবন্ধীকরণের প্রয়োজন নেই। তবে যারা রাজ্যের বাইরে থেকে আসছেন তাদের পরিচয় নিবন্ধন করতে হবে।
সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন অসমের জেহাদি কার্যক্রমের কেন্দ্র হয়ে উঠছে। গত ৫ মাসে বাংলাদেশি সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠী আনসারুল ইসলাম বা আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের সঙ্গে জড়িত ৫ মডিউল ধরা পড়েছে। সংবাদ সংস্থা পিটিআইয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী চলতি বছরের মার্চ মাস থেকে জঙ্গি কার্যকলাপের সঙ্গে জড়িত থাকার সন্দেহে অসম থেকে কমপক্ষে ৪০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শনিবার গোয়ালপাড়া থেকে দু’জন গ্রেফতার হয়েছিল। তাদের একজন হলেন তিনকোনিয়া শান্তিপুর মসজিদের ইমাম আব্দুস সোবাহান এবং অপরজন মাটিয়া থানার টিলাপাড়া মসজিদের ইমাম জালালুদ্দিন। তাদের সঙ্গে আল-কায়দা ইন্ডিয়ান সাব কন্টিনেন্টের যোগ রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এই দুই আলেম গত তিন থেকে চার বছর ধরে যুব সম্প্রদায়কে জঙ্গি কাজে উদ্বুদ্ধ করছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

