সাথী দাস, পুরুলিয়ায়, ২২ ডিসেম্বর: জনসংযোগ করতে গিয়েও সেই আবাস যোজনা নিয়েই প্রশ্নের মুখে পড়লেন রাজ্যের অর্থমন্ত্রী তথা তৃণমূলের মহিলা সভানেত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। বৃহস্পতিবার পুরুলিয়ার বরাবাজার থানার ইন্দটাঁড় ময়দানে মহিলা তৃণমূল কংগ্রেসের উদ্যোগে পঞ্চায়েতি সভায় উপস্থিত ছিলেন তিনি। এই অনুষ্ঠানে এসেই জেলা নেতৃত্বের সাথেই তিনি চলে যান সারগো গ্রামে। সেখানে দলের “চলো গ্রামে যাই” কর্মসূচিতে গিয়ে বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। আবাস যোজনা নিয়ে কথা বলার পাশাপাশি রাজ্য সরকারের সমস্ত সুযোগ সুবিধা পাচ্ছে কি না সে বিষয়গুলো নিয়েও কথা বলেন গ্রামবাসীদের সাথে। এদিন বহু মানুষ তার কাছে আবাস যোজনা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। দ্রুত তাদের সমস্যার সমাধান হবে বলে আশ্বাস দেন মহিলা নেত্রী।

এদিন আবাস ইস্যুতে কেন্দ্রীয় সরকার এবং বিজেপির কঠোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, “আমি দুর্নীতিকে সমর্থন বা প্রশ্রয় দিচ্ছি না। তবে, ২০১৮ সালে যে আবাস যোজনা কার্যকর হওয়ার কথা, তা কেন্দ্র পাঠালো ২০২২ সালে। এই বিলম্বের জন্যই যত অশান্তি।” আবাস যোজনা নিয়ে অশান্তির জন্য কড়া ভাষায় কেন্দ্রের সমালোচনা করেন রাজ্যের অর্থ দফতরের স্বাধীন দায়িত্বে থাকা চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। এই চার বছরের মধ্যে অনেকের আর্থিক অবস্থার পরিবর্তন হয়েছে, অনেকে ঋণ করে বাড়ি করতে বাধ্য হয়েছেন। অনেকের বাড়ি ভেঙ্গে পড়েছে। তা নিয়ে রাজনীতি করছে বিজেপি। ওদের কাছে প্রশ্ন একটি প্রকল্পের তালিকা কার্যকর করতে এতো দেরি কেন? অনেকের আর্থ সামাজিক পরিকাঠামো বদলে গিয়েছে বলেই রাজ্য নতুন করে সমীক্ষা করাচ্ছে। কারণ তৃণমূল স্বচ্ছতা চায়, দুর্নীতি চায় না।
বৃহস্পতিবার বরাবাজারের ইন্দকুঁড়ি ময়দানে আয়োজিত মহিলা তৃণমূল কংগ্রেসের চলো গ্ৰামে যাই ও পঞ্চায়েতী সভায় এভাবেই আবাস যোজনায় অশান্তি নিয়ে বিজেপিকে তুলোধোনা করলেন রাজ্যের মন্ত্রী তথা মহিলা তৃণমূল কংগ্রেসের সভানেত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। তার সঙ্গে ছিলেন তিন নেত্রী, বিধাননগর পুরসভার মহানাগরিক কৃষ্ণা চক্রবর্তী এবং নেত্রী মালা সাহা ও মিতা বক্সী।
এদিন বরাবাজারের সভায় মহিলাদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। উপস্থিতির সত্তর ভাগই ছিলেন মহিলারা। সেই মহিলাদের উপরই পঞ্চায়েত ভোটে বিজেপিকে বাংলা ছাড়া করার দায়িত্ব দেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, মহিলাদের অর্ধেক আকাশ বলে দায় সারেননি মুখ্যমন্ত্রী। কেন্দ্রীয় আইনে বলা হয়েছে, নির্বাচনের সময় মোট আসনের কমপক্ষে তেত্রিশ ভাগ মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত রাখতে হবে। ২০১২ সালে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, তেত্রিশ কেন, এরাজ্যে পঞ্চাশ শতাংশ আসনে থাকবেন মহিলারা। তিনি বলেন, মুখ্যমন্ত্রী মহিলাদের যথাযথ সম্মান দিতে শুধু সংরক্ষণ করে থেমে থাকেননি, মেয়েদের জন্য কন্যাশ্রী, রূপশ্রী দিয়েছেন। স্বাস্থ্য সাথী কার্ডে গৃহকর্ত্রীকেই মূল করা হয়েছে। তিনি বলেন, নারীরাই সমাজ তৈরী করেন, মেয়েরাই ছেলেমেয়ের জন্ম দেন, তাদের মানুষ করেন। সেই সুস্থ সমাজের স্বার্থেই পঞ্চায়েত ভোটে গ্ৰাম পঞ্চায়েত থেকে জেলাপরিষদ দখল করতে হবে। মেয়েদের এগিয়ে এসে তৃণমূলকে জেতানোর জন্য সক্রিয় হতে হবে।

এদিন সভায় ছিলেন জেলা মহিলা তৃণমূল সভানেত্রী সুমিতা সিং মল্ল, জেলা তৃণমূল সভাপতি সৌমেন বেলথরিয়া, প্রাক্তন মন্ত্রী শান্তিরাম মাহাত, আইএনটিটিইউসি’র সভাপতি উজ্জ্বল কুমার, মহিলা তৃণমূলের রাজ্য কমিটির সাধারণ সম্পাদক নমিতা সিং মুড়া, মন্ত্রী সন্ধ্যারানী টুডু, বিধায়ক রাজীব লোচন সরেন প্রমুখ।

