শুভেন্দুর বাড়িতে পিকের উপস্থিতিতে জল্পনা তুঙ্গে

আমাদের ভারত, পূর্ব মেদিনীপুর, ১৩ নভেম্বর : দলের সঙ্গে যখন ক্রমশ দুরত্ব বাড়ছে শুভেন্দু অধিকারীর ঠিক সেই সময়ে কাঁথির অধিকারী বাড়িতে পা রাখল পি কে তথা প্রশান্ত কিশোর। বেশ কিছু সময় তিনি অধিকারী বাড়িতে কাটান। প্রশান্ত কিশোরের অধিকারী বাড়িতে আসা ঘিরে রাজনৈতিকমহলে জল্পনা এখন তুঙ্গে।

তৃণমূলে শুভেন্দু অধিকারীর ক্ষমতা খর্ব করে ছত্রধর মাহাতোর সঙ্গে এক সারিতে বসানো হয়। তারপর থেকেই শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে দূরত্ব বাড়তে থাকে দলের।
দলের বাইরেও শুভেন্দু অধিকারীর সাধারণ মানুষের কাছে আলাদা গুরুত্ব আছে তা বোঝাতেই বিভিন্নভাবে হোর্ডিং দেওয়া হয়। “বাংলার মুক্তি সূর্য”, “মানুষের পাশে মানুষের কাছে”, “জনগণের সেবক” এই ধরনের বিভিন্ন কথা দিয়ে দলীয় প্রতীক বা মন্ত্রী উল্লেখ না করেই শুভেন্দু অধিকারীর ছবি দিয়ে প্রথমে তমলুক শহরে হোর্ডিং দেওয়া হয় দাদার অনুগামীদের পক্ষ থেকে। পরে সেই ধরনের হোর্ডিং সারা রাজ্যেই ছড়িয়ে পড়েছে। যা নিয়ে বিতর্কের ঝড় উঠেছে দলের অভ্যন্তরে। শুভেন্দুর দলত্যাগের জল্পনা ছড়ায় রাজনৈতিক মহল সহ দলের মধ্যে।

সম্প্রতি ১০ নভেম্বর ভূমি উচ্ছেদ প্রতিরোধ কমিটির ব্যানারে নন্দীগ্রামের গোকুলনগরে শুভেন্দু অধিকারীর শহীদ স্মরণ সভা ঘিরে শুরু হয় চাপানউতোর। শুভেন্দু অধিকারীর সভার পাল্টা হিসেবে নন্দীগ্রামের হাজরাকাটাতে তৃণমূলের পক্ষ থেকে আলাদা সভা করা হয়, যার নেতৃত্ব দেন ফিরহাদ হাকিম।
এরপর থেকে তৃণমূল নেতা নেত্রীরা বিভিন্ন মঞ্চ থেকে শুভেন্দু অধিকারীকে লক্ষ্য করে বিদ্রূপাত্মক বক্তব্য রাখেন। রাজনৈতিক মহলের ধারণা তৃণমূল দল দু’ভাগে বিভক্ত হয়ে গিয়েছে শুভেন্দু অধিকারীকে কেন্দ্র করে।

এরমধ্যে শুভেন্দু অধিকারীর বাড়িতে পিকে তথা প্রশান্ত কিশোরের আগমন একটা আলাদা মাত্রা এনেছে। তবে সরাসরি শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে দেখা হয়নি প্রশান্ত কিশোরের। শিশির অধিকরীর সঙ্গে কথা বলেই ফিরে যেতে হয়েছে তাঁকে। তবে আলোচনার ফলাফল কী বা কী আলোচনা হয়েছে তা কিন্তু কোনো পক্ষ থেকেই জানা যায়নি। দলের সঙ্গে যখন দূরত্ব বাড়াচ্ছেন শুভেন্দু অধিকারী সেই সময় তাঁর বাড়িতে প্রশান্ত কিশোর কেন এলেন তা নিয়ে শুরু হয়েছে জোর জল্পনা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *