“মিসাইল ও মুহুর্মুহু গোলাবর্ষণের শব্দ এখনো যেন তাড়া করছে” ইউক্রেন থেকে বাড়ি ফিরে বললেন বালুরঘাটের জয়তী, ধন্যবাদ জানালেন ভারত সরকারকে

পিন্টু কুন্ডু, বালুরঘাট, ৭ মার্চ: অপেক্ষার অবসান। সরকারী তৎপরতায় ইউক্রেন থেকে ঘরে ফিরলেন বালুরঘাটের জয়তী। ফিরলেন দক্ষিণ দিনাজপুরের বংশীহারির বাসিন্দা ইশিতা খাতুনও। রবিবার রাতে বাড়ি ফিরতেই ভারত সরকার ও রাজ্য সরকারকে কড়জোড়ে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করলেন ইউক্রেনের মেডিকেলের ছাত্রী তথা শহরের নারায়ণপুর এলাকার বাসিন্দা জয়তী রায়। একইসাথে ব্যাখ্যা করেন সেখানকার ভয়ঙ্কর ও আতঙ্কের পরিবেশের কথাও। তুলে ধরেন সেদেশের মানুষদের অসহযোগীতার কথাও। পাশাপাশি সেদেশে থাকা তাদের মতো অসহায় আরো ভারতীয়দের নিরাপদে ফিরিয়ে আনার দাবিও জানান ভারত সরকারের কাছে।

ডাক্তার হবার স্বপ্ন নিয়ে প্রায় একবছর আগে ইউক্রেনে যান বালুরঘাট শহরের ১০ নম্বর ওয়ার্ডের নারায়ণপুর এলাকার বাসিন্দা দীপঙ্কর রায়ের বড় মেয়ে জয়তী রায়। কয়েকদিন ছুটি কাটিয়ে ১২ ফেব্রুয়ারি বালুরঘাট থেকে সেখানে গিয়েছিলেন জয়তী। এরইমধ্যে যুদ্ধের আবহ তৈরি হতেই সেখানে একপ্রকার আটকে পড়েন তিনি। বেশ কয়েকদিন মেডিক্যাল কলেজ বিল্ডিং এর বেসমেন্টেই আটকে ছিলেন। তাঁর সাথে ছিলেন বংশীহারীর পাঠানপাড়ার বাসিন্দা ঈশিতা খাতুনও। ইউক্রেনের কিভ শহর থেকে হাঁটাপথে সীমান্ত পেরিয়ে হাঙেরিতে পৌছায় তারা। জয়তীর পরিবারের লোকেদের অভিযোগ, প্রথমে তাঁরা ইউক্রেনের লিভইড স্টেশনে পৌঁছালে ট্রেন থেকে তাদের নামিয়ে দেয় ইউক্রেন সেনা। পথে ইউক্রেনের বাসিন্দারাও তেমন কোনো সাহায্য করেনি। আর যার কারনে দুই রাত তিন দিন ধরে হেঁটে হাঙেরি সীমান্তে পৌঁছেছিলেন তাঁরা। সেখানে ভারতীয় দুতাবাসের প্রতিনিধি ও হাঙেরি সেনারা তাঁদের রিসিভ করে।

সেখান থেকেই ভারতীয় সরকারের তৎপরতায় বালুরঘাটের নারায়ণপুরে নিজের বাড়িতে পৌঁছয় ডাক্তারি পড়ুয়া জয়তী রায়। রবিবার রাতে পুলিশ ও প্রশাসনের উদ্যোগে কলকাতা থেকে গাড়ি করে বাড়ি ফেরানো হয়েছে জয়তী ও ঈশিতাকে। কলকাতা থেকে বাড়ি ফেরার আগেই তাদের জন্য সবরকম ব্যবস্থা করা হয়েছিল রাজ্য প্রশাসনের তরফে। তবে এখনও চোখের সামনে মিসাইল ও অনবরত গুলিবর্ষণের শব্দ যেন তাড়া করছে আতঙ্কিত জয়তীকে। বাড়ি ফিরেই সকলের সামনে বর্ননা করেছেন সেই আতঙ্কের চিত্র। যুদ্ধের দেশ থেকে মেয়েকে সুস্থ অবস্থায় ফিরে পেতেই চোখের জল যেন বাঁধ মানেনি জয়তীর বাবা-মার।

একই চিত্র ফুটে উঠেছে বংশীহারির ঈশিতার পরিবারেও। সুস্থতার সাথে মেয়েদের ফিরে পেয়ে সংবাদমাধ্যমের সামনে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেছেন ভারত সরকার ও রাজ্য সরকারকে।

ইউক্রেন থেকে জয়তী ফিরে আসার খবর এলাকায় পৌঁছাতেই তাঁকে দেখতে ছুটে গিয়েছেন এলাকার তৃণমূল কাউন্সিলর শিপ্রা খাঁ সহ স্থানীয় বাসিন্দারা। এদিন সকলের সামনে জয়তী আবেদন করেন, ইউক্রেনে যারা আটকে রয়েছে তাদের সরকারের তরফে দ্রুততার সাথে ফেরানো হোক। পাশাপাশি ইউক্রেনে যুদ্ধ থেমে গেলে আবার তারা ডাক্তারি পড়তে যেতে চান, কারণ দেশে পড়ার সুযোগ নেই। জয়তী আরও বলেন, তাদের মত মধ্যবিত্ত পরিবারে সামর্থ্য নেই ৭০ – ৮০ লাখ টাকা দিয়ে ডাক্তারি পড়ার। তাই তারা বিদেশে ডাক্তারি পড়তে গেছেন।

জয়তী রায় বলেন, ডাক্তারী পড়তে গিয়ে যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে নিজের জীবন বাঁচানোর যে ভয়ংকর অভিজ্ঞতা তা সঞ্চয় করে ফেলেছেন। বাড়ি ফিরতে পেরে খুবই ভালো লাগছে। আর এর পুরো কৃতিত্ব ভারত সরকার, রাজ্য সরকার ও সংবাদমাধ্যমের। এই তিনজন ছাড়া তার বাড়ি ফেরা সম্ভব ছিল না।

জয়তীর বাবা দীপঙ্কর রায় ও ঈশিতার বাবা আব্দুল রহমানরা বলেন, মেয়েদের ফিরে পেয়ে খুবই ভালো লাগছে। ধন্যবাদ ভারত সরকার ও রাজ্য সরকারকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *