কাঁথিতে শুভেন্দুকে ‘গো ব‍্যাক’ ধ্বনি তৃণমূলের

জে মাহাতো, আমাদের ভারত, পূর্ব মেদিনীপুর,
১৮ ফেব্রুয়ারি: নিজের গড় কাঁথিতেই গো ব্যাক স্লোগান শুনতে হলো রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু  অধিকারীকে। শুক্রবার সকালে কাঁথি পুরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ডে প্রচার সারার পর ৬ নম্বর ওয়ার্ডে গেলে তৃণমূল কর্মী সমর্থকরা তাকে উদ্দেশ্য করে গো ব্যাক শ্লোগান দিতে থাকেন। যদিও পুলিশ প্রশাসন এবং শুভেন্দুর নিরাপত্তারক্ষীরা নিরাপত্তা বলয় করে বিরোধী দলনেতাকে ওই এলাকা থেকে বের করে নিয়ে যান।

গতকাল বৃহস্পতিবারও একইভাবে ৫ নম্বর ওয়ার্ডে গো ব্যাক স্লোগানের মুখোমুখি হন শুভেন্দু। শুক্রবার ৬ নম্বর ওয়ার্ডে শুভেন্দু প্রচারে আসছেন জানতে পেরে
৫ নম্বর ওয়ার্ডের ওই তৃণমূল কংগ্রেস সর্মথকরা ৬ নম্বর ওয়ার্ডে গিয়ে স্লোগান দেয়। এবিষয়ে শুভেন্দুর ভাই সৌমেন্দু অধিকারী বলেন, এগুলো সব তোলামূলের কালচার। এসব করে আমাদের আটকাতে পারবে না। সাধারণ মানুষ বিজেপির সঙ্গেই আছেন এবং আমাদের জয় সুনিশ্চিত।

শুভেন্দু’কে গো ব্যাক স্লোগান প্রসঙ্গে মন্ত্রী অখিল গিরি জানান, মানুষের রোষের বহিঃপ্রকাশ। শুভেন্দুকে ওয়ার্ডে পেয়েই মানুষ বিক্ষোভ দেখাচ্ছে। দলগতভাবে তাকে বিক্ষোভ দেখানোর আমাদের কোনো ইচ্ছে নেই।

এদিন শুভেন্দু সাংবাদিকদের সামনে ভোট লুট প্রতিরোধের বার্তা দিয়ে বলেন, “ভোট লুট করতে আসলেই প্রতিরোধ হবে। এসব জায়গায় বিয়াল্লিশের আন্দোলন হয়েছিল। ভোট লুট করতে বলবেন, দেখবেন প্রতিরোধ কাকে বলে তা মেদিনীপুর থেকে শুরু হবে। শাসক দলকে কটাক্ষ করে শুভেন্দু বলেন, তৃণমূলকে মানুষই বহিষ্কার করেছে। ওই জন্য টিপ দিয়ে ভোট দিতে হয়েছে বিধাননগরে। ওই জন্য দ্বিজেন মুখোপাধ্যায়কে স্বর্গ থেকে নামাতে হয়েছে। লজ্জা থাকা উচিত।

রাজ্যপাল অপসারণ মামলা নিয়ে শুভেন্দুর স্পষ্ট বক্তব্য, মামলা খারিজ হওয়ারই কথা। বিচার ব্যবস্থা সংবিধানের বাইরে নয়। পশ্চিমবঙ্গে তোলামূল পার্টির লোকেরা বা তৃণমূল সরকার সংবিধান না মানলেও  বিচার ব্যবস্থা সবসময় সংবিধানকে সম্মান এবং শ্রদ্ধা জানায়। সেই ব্যবস্থার মধ্য দিয়েই মামলা খারিজ হয়েছে। ভুয়ো চাকরি প্রার্থীদের খারিজ প্রসঙ্গে শুভেন্দু বলেন, তারা সবাই হয় টাকা দিয়েছে, নইলে সবাই তৃণমূল কংগ্রেসের এমএলএ কিংবা নেতাদের আত্মীয়-স্বজন। আমি একশোটা তৃণমূলের এমএলএর নাম বলে দেবো যাদের ছেলে মেয়ে এবং আত্মীয় স্বজনরা চাকরি পেয়েছে ফাঁকা খাতা জমা দিয়ে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *