আমাদের ভারত, জলপাইগুড়ি, ৩১ জুলাই: কাচা চা পাতার ন্যায্য দাম না পেয়ে এবার আন্দোলনের পথে নামল জলপাইগুড়ি জেলার ক্ষুদ্র চাষিরা। একাধিক বার আবেদন নিবেদন করেও সমস্যার সমাধান হয়নি বলে অভিযোগ। প্রতিবাদে সোমবার ভারতীয় চা পর্ষদের জলপাইগুড়ির বাবু পাড়ার অফিস ঘেরাও করে বিক্ষোভে সামিল হলেন ক্ষুদ্র চা চাষি সমিতির চাষিরা। কয়েক মাস থেকে চা পাতা উৎপাদনের খরচ উঠছে না, এভাবে চলতে থাকলে বাগান বন্ধ করতে বাধ্য হবেন ক্ষুদ্র চা চাষিরা বলে হুঁশিয়ারি দিলেন।
উত্তরবঙ্গে প্রায় পঞ্চাশ হাজার ক্ষুদ্র চা বাগান রয়েছে, প্রত্যক্ষ পরোক্ষ ভাবে প্রায় পাঁচ লক্ষ মানুষের রুটিরুজি চলছে এর উপর। উত্তরবঙ্গের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষুদ্র চা বাগান রয়েছে জলপাইগুড়ি জেলায়। সংখ্যাটি ২২-২৫ হাজার। এদিকে উত্তরবঙ্গের ষাট শতাংশ কাঁচা চা পাতা উৎপাদন হয়ে থাকে ক্ষুদ্র চা বাগান থেকে। কিন্তু চলতি বছর আবহাওয়ার খামখেয়ালির জেরে চা শিল্পে বড়সড় ক্ষতি হয়ে গিয়েছে। এদিকে বাগানে লুপার (পোকা), ও লাল মাকড়সা থাবা বসিয়েছে। লুপার ও লাল মাকড়সা মারতে বাগানে ওষুধ দেওয়ায় চা উৎপাদনে খরচ বাড়ছে। গত বছরের তুলনায় এবছর মে মাসে ৩৮ শতাংশ, জুন মাসে ৩২ শতাংশ ও জুলাই মাসে ৩০ শতাংশ চা উৎপাদন কম হয়েছে। ক্ষুদ্র চা চাষিদের দাবি, চা পাতার উৎপাদন কম হলে পাতার চাহিদার সঙ্গে দাম বেড়ে যায়। কিন্তু আশ্চর্যভাবে লক্ষ্য করা যাচ্ছে পাতার চাহিদা থাকলেও দাম বাড়ছে না।
এক কেজি পাতা উৎপাদন করতে কমপক্ষে খরচ হচ্ছে আঠারো টাকা পঞ্চাশ পয়সা, মিলছে এগারো-বারো টাকা। আবার তিন শতাংশ জল বাদ দেওয়ার দাম এসে দাঁড়াচ্ছে আট-ন’টাকা। এই পরিস্থিতিতে লাভ তো দূরের কথা, খরচের অর্ধেক টাকাও উঠছে না বলে দাবি চাষিদের। কিন্তু চা পর্ষদ ক্ষুদ্র চা চাষিদের সমস্যা সমাধানে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ না করে নিরব ভূমিকা পালন করছে।
ক্ষুদ্র চা চাষি সমিতির জেলা সম্পাদক বিজয় গোপাল চক্রবর্তী বলেন, “প্রতীকি প্রতিবাদ করা হল। এরপর বৃহত্তর আন্দোলনের সঙ্গে চা পর্ষদ অফিস ঘেরাও করা হবে।”
ভারতীয় টি বোর্ডের জলপাইগুড়ি অফিসের অতিরিক্ত ডাইরেক্টর সরবরী চৌধুরী গোহাই বলেন, ক্ষুদ্র চা চাষিদের সমস্যা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে পাঠানো হয়েছে।”


Pingback: চা পাতার ন্যায্য দাম না পেয়ে আন্দলনের পথে ক্ষুদ্র চাষিরা - জয় কিষাণ
Pingback: জয় কিষাণ: ৫ আগস্ট ২০২৩ - জয় কিষাণ