জে মাহাতো, আমাদের ভারত, ঝাড়গ্রাম, ৮ আগস্ট: নাবালিকা বিবাহ রুখতে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির সময় অভিভাবকদের মুচলেকা নিচ্ছেন ঝাড়গ্রাম জেলার গোপীবল্লভপুর দু’নম্বর ব্লকের বেলিয়াবেড়া কৃষ্ণচন্দ্র স্মৃতি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারি প্রধান শিক্ষক। প্রশাসনিক নজরদারি থাকা সত্ত্বেও সচেতনতার অভাবে জেলার বিভিন্ন প্রান্তে আঠারো বছর বয়স হওয়ার আগেই বিয়ে হয়ে যাচ্ছে অনেক কিশোরীর। সারা রাজ্যে নাবালিকা বিবাহের হার প্রায় আটত্রিশ শতাংশ।
অনিচ্ছা সত্ত্বেও পারিবারিক চাপে অনেক সময় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে হচ্ছে স্কুল পড়ুয়াদের। এজন্য এই বিদ্যালয়ের সহকারি প্রধান শিক্ষক সুব্রত মহাপাত্র নাবালিকা বিবাহ রুখতে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির সময় মেয়েদের অভিভাবকদের কাছ থেকে আঠারো বছরের আগে মেয়ের বিয়ে না দেওয়ার এবং তাকে উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত হওয়ার সুযোগ দেওয়ার মুচলেকা লিখিয়ে নিচ্ছেন। নাবালিকাদের বিবাহ রুখতে বিদ্যালয়ে তিনি কন্যাশ্রী ব্রিগেড তৈরি করেছেন। কোথায় কোথায় নাবালিকাদের বিবাহ হচ্ছে এই ব্রিগেড সুব্রতবাবুকে খবর দেয়। তারপর তিনি পুলিশ প্রশাসনের সহায়তায় বিবাহ বন্ধ করেন।

বিদ্যালয় পরিচালন কমিটির সভাপতি বিপদভঞ্জন দে বলেন, সুব্রত বাবুর এই প্রয়াস সাধুবাদ যোগ্য। একাদশ শ্রেণির এক মেয়ের অভিভাবক বকুল খামরি বলেন, সহকারি প্রধান শিক্ষকের এই প্রচেষ্টাকে আমরা সম্মান জানাই।
গোপীবল্লভপুর দু’নম্বর ব্লকের যুগ্ম সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিক তথাগত সাহা বলেন, সুব্রত বাবুর প্রয়াস অপরিণত বয়সে বিবাহ বন্ধ করার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ভাবে সহায়ক হবে। অন্যান্য স্কুলগুলি যদি এভাবে উদ্যোগ নেয় তাহলে নাবালিকার বিবাহ বন্ধে অনেকখানি সাফল্য আসবে।

