উন্নয়নকে হাতিয়ার করেই চন্দননগর পুরনিগমে ভোট বৈতরণী পার করতে চাইছে শাষক দল

আমাদের ভারত, হুগলি, ১১ ফেব্রুয়ারি: চন্দননগর পুরনিগমের ভোটে উন্নয়নকে হাতিয়ার করেই ভোট বৈতরণী পার করতে চাইছে শাষক দল তৃণমূল। অন্যদিকে বামফ্রন্ট ও বিজেপির তরফে পুরনিগমের দুর্নীতি ও দুর্বল পরিসেবাকে মানুষের সামনে তুলে ধরে ব্যাপক প্রচার চালাচ্ছেন তারা। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি চন্দননগর পুরনিগমের ভোট। এই পুরনিগমে মোট ৩৩ টা ওয়ার্ড রয়েছে। গত পুরভোটে এই ৩৩ টা ওয়ার্ডের মধ্যে ৩৩ টাই তৃণমূল পেয়ে বোর্ড গঠন করেছিল।

চন্দননগর পুরনিগমের ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাম প্রার্থী ঐক্যতান দাশগুপ্ত অভিযোগ করে বলেন, পরপর দুবার চন্দননগরের মানুষ আর্শিবাদ করে ভোট দিয়ে তৃণমূলকে ক্ষমতায় নিয়ে এসেছিল। দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় আসার পরই করপরেশনে শুরু হয় ব্যাপক দুর্নীতি। ২০১৮ সালের আগষ্ট মাসে পুরবোর্ড ভেঙে দেওয়ার সুপারিশ করা হয়। রাজ্য সরকার পুরবোর্ড ভেঙে দিয়েছিল। এর থেকেই প্রমাণ হয় রাজ্য সরকার দুর্নীতির কথা স্বীকার করে নিয়েছিল। ফের চলতি পুর ভোটে তৃণমূল ওই দুর্নীতিগ্রস্থ নেতাদের উপরই আস্থা রেখে তাদেরকেই ভোটের টিকিট দিয়েছে। এই অপমান চন্দননগরের মানুষ মেনে নেবে না।

চন্দননগর পুরনিগমের ৩০ নম্বর ওয়ার্ডের বিজেপি প্রার্থী প্রবীর পাকিরা বলেন, মানুষ এই নির্বাচনে প্রতিশোধ নেবেন। কারণ, ২০১৫ সালে সাধারণ মানুষ ৩৩ টা ওয়ার্ডের মধ্যে ৩৩ টা ওয়ার্ডই তৃণমূলের হাতে তুলে দিয়েছিল। তৃণমূল পুরবোর্ড গঠন করেছিল। শুধুমাত্র নিজেদের মধ্যে দুর্নীতি ও চুরির কারণেই পুরবোর্ড ভেঙে যায়। এই কারণেই চলতি বছরের পুরবোর্ড মানুষ আর তৃণমূলের হাতে দেবে না। সাধারণ মানুষ চায় দুর্নীতি মুক্ত স্বচ্ছ পুরবোর্ড।

এই প্রসঙ্গে চন্দননগরের প্রাক্তন মেয়র তথা ৩০ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল প্রার্থী রাম চক্রবর্তী বলেন, বিরোধীরা বিরোধীতা করার জন্যেই এই সব অপপ্রচার করছেন। কারণ, বিধানসভা ভোটে আমরাই বাড়ি বাড়ি গিয়েছি মানুষ ভোট দিয়েছেন। পুর-পরিসেবার শেষ বলে কিছু হয় না। নিকাশি, জল, আলো এই সব পরিসেবা আরও বেশি বেশি করে কিভাবে দেওয়া যায় সেটা দেখতে হবে। পরিসেবা আরও বেশি উন্নত মানের করতে উন্নত যন্ত্রপাতি আসছে। জগদ্ধাত্রী পুজোয় সমস্যা দূরীভূত করতে একশো কোটি টাকার প্রকল্প, আন্ডার গ্রাউন্ড বিদ্যুৎ লাইন নিয়ে যাবার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সর্বপরি রাজ্য সরকারের লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পুরভোটে মানুষের মধ্যে ব্যাপক প্রভাব পড়বে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *