আমাদের ভারত, ১৩ আগস্ট: ত্রিবর্ণ জাতীয় পতাকা নাকি সংগঠনের গেরুয়া পতাকা? রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ কোনটিকে বেশি অগ্রাধিকার দেবে? তাদের কাছে কোনটি বেশি প্রিয়? গত কয়েকদিন ধরেই এই নিয়ে বিতর্ক চলছিল। মূলত কংগ্রেস এই প্রশ্ন তুলেছিল। কিন্তু সব বিতর্কে জল ঢেলে দিল আরএসএস। আজ তেরঙ্গা উত্তোলন করলেন মোহন ভাগবত।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ডাকে সাড়া দিয়ে মোহন ভাগবত শনিবার সকাল-সকাল নাগপুরে সংঘের সদর দপ্তরের জাতীয় পতাকা উত্তোলন করলেন। আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবতের পতাকা উত্তোলন মুহূর্তের ছবি টুইটার সহ নানা সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়েছে আরএসএস। এদিকে নিজের বাসভবনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সহ কেন্দ্রীয় মন্ত্রীরা সহ দেশবাসীও।
আরএসএস জাতীয় পতাকা বিষয়ে বিতর্কের সূত্রপাত হয় গতমাসে প্রধানমন্ত্রীর মানকি বাত অনুষ্ঠানের পর। প্রধানমন্ত্রী সেদিন দেশবাসীকে আহ্বান জানান ১৩-১৫ আগস্ট পর্যন্ত বাড়িতে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করতে। এছাড়া মোবাইল সোশ্যাল মিডিয়ার প্রোফাইল পিকচার হিসেবে জাতীয় পতাকার ছবি ব্যবহার করার আর্জি জানান প্রধানমন্ত্রী। মোদীর “হর ঘর তিরাঙ্গা” ডাক দিয়ে ময়দানে নামে কংগ্রেস। তারাও তাদের সোশ্যাল মিডিয়ার ডিপিতে জাতীয় পতাকার ছবি ব্যবহার শুরু করেন। যদিও সেই ছবি ছিল জহরলাল নেহেরুর পতাকা উত্তোলনের ছবি। একই সঙ্গে কংগ্রেস নেতারা অভিযোগ করতে শুরু করে রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘ দেশ স্বাধীন হওয়ার পর দীর্ঘদিন জাতীয় পতাকাকে মান্যতা দেয়নি। কংগ্রেস প্রশ্ন তোলে জাতীয় পতাকা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কথা কি আরএসএস শুনবে? কিন্তু এর পাল্টায় হিন্দুত্ববাদীরাও কংগ্রেসের দেশপ্রেম নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তার উত্তরে আরএসএস স্বাধীনতা সংগ্রামে তাদের অবদানের কথা তুলে ধরেছেন।
আজ নাগপুরে আরএসএস সদর দপ্তরে ভগবতের পতাকা উত্তোলনের ভিডিও যেমন টুইট করেছে আরএসএস, তার সাথে দেখা যাচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর ডাকে সাড়া দিয়ে রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘ তাদের সোশ্যাল মিডিয়ার ডিপিতেও জাতীয় পতাকার ছবি দিয়েছে।

