একান্নবর্তী পরিবারের দায়িত্ব কাঁধে কাউন্সিলরের, তাই জনগণের কাজে এগিয়ে এলেন গুরু ভাইয়েরা

স্নেহাশীষ মুখার্জি, আমাদের ভারত, নদিয়া, ৩ এপ্রিল: কথায় আছে যে রাঁধে সে চুলও বাঁধে, শান্তিপুর শহরের ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর তার বৃহৎ একান্নবর্তী পরিবারের ঘরকন্যা সামলে, অভাবের সংসারে সুদিনের আশায় স্বামীর কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে আজও বুনে চলেছেন পাওয়ারলুম। এর মধ্যেই একমাত্র সন্তানকে স্কুলে দিয়ে আসা, পড়াশোনার দায়িত্ব অনেকটাই তার উপর। তাহলে কিভাবে তার কাছ থেকে পরিষেবা পাবে মানুষ? প্রশ্ন কেড়ে নিয়ে উত্তর দেন গুরু ভাইরা। তারা বলেন, টিন দিয়ে ঘিরে তৈরি করা হয়েছে কাউন্সিলরের অফিস ঘর, সেখানে আমরা পালা করে দল বেঁধে নিয়মিত আসি দিদির কাজে সহযোগিতা করতে।

শান্তিপুর পৌরসভার একমাত্র মতুয়া সম্প্রদায়ভুক্ত পম্পা বিশ্বাস রাজবংশী ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কংগ্রেসের টিকিটে জয়ী কাউন্সিলর। ওই ওয়ার্ডে বর্তমান পৌরসভার পৌরপ্রধান সুব্রত ঘোষ জয়ী প্রার্থী ছিলেন, এবারে তপশিলি মহিলা সংরক্ষিত হওয়ার কারণে টিকিট পান দলের একনিষ্ঠ কর্মী গুরুচাঁদ বিশ্বাসের স্ত্রী পম্পা বিশ্বাস রাজবংশী। প্রচারে ছিল না জাঁকজমক, আড়ম্বর, কারণ অর্থ খরচ করার মতন কোনো অবস্থায় ছিল না তার। তবে ওই ওয়ার্ডে বেশিরভাগ মতুয়া সম্প্রদায় হওয়ার কারণে দল-মত নির্বিশেষে গুরু দিদিকে জয়ী’ করানোর চেষ্টা করেছে সকলেই, এমনটাই জানিয়েছেন কাউন্সিলরের স্বামী গুরুচাঁদ বিশ্বাস। তিনি বলেন, টিকিটের দাবিদার অনেকে থাকলেও, নিয়মিত লাগাতার মানুষের পরিষেবা দেওয়ার কথা হয়তো জানতো উচ্চ নেতৃত্ব, তাই এই সিদ্ধান্ত।

তবে কাউন্সিলর অবশ্য জয়ের পিছনে মুখ্যমন্ত্রীর বিভিন্ন জনমুখী প্রকল্পই একমাত্র কারণ বলে মনে করেন। নিজের ভাঙ্গা ঘরে ছাদ হবে কি না জানেন না, তবে দুচোখে স্বপ্ন এলাকার প্রত্যেকের বাড়িতে পানীয় জল পৌঁছে দেওয়া এবং ঝকঝকে রাস্তা এবং আলো পরিষেবা দিতে তিনি বদ্ধপরিকর। সাথে মুখ্যমন্ত্রীর বিভিন্ন জনমুখী প্রকল্প তো আছেই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *