আমাদের ভারত, ৯ ফেব্রুয়ারি: “যখন সারা ভারত শক্তি পরিকাঠামোতে নতুন অধ্যায় লিখছে, তখন একমাত্র পশ্চিমবঙ্গ উন্নয়নের ট্রেনের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা লাল সংকেত। জগদীশপুর– হলদিয়া– বোকরো– ধামরা গ্যাস পাইপলাইন— একটি জাতীয় গুরুত্ব সম্পন্ন প্রকল্প।” সোমবার রাজ্যসভায় এই মন্তব্য করলেন বিজেপি-র পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য।
তাঁর উক্তির উদ্ধৃতি দিয়ে রাজ্য বিজেপি-র তরফে সংবাদমাধ্যমে লেখা হয়েছে, “সারা দেশে ৯৮.৭ শতাংশ কাজ সম্পূর্ণ। সব রাজ্য দায়িত্ব পালন করেছে। ব্যতিক্রম—পশ্চিমবঙ্গ। সংসদে পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রণালয়ের সরকারি উত্তরে স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে এক অস্বস্তিকর সত্য— পশ্চিমবঙ্গ ছাড়া দেশের সব রাজ্যে পাইপলাইন নেটওয়ার্ক কমিশন হয়ে গেছে। প্রশ্ন একটাই— কেন পশ্চিমবঙ্গ পারল না? কারণ উন্নয়নের বিরোধিতা এখানে নীতিতে পরিণত হয়েছে।”
তিনি জানিয়েছেন, “২০১৯ সালে কাজ বরাদ্দ হলেও, রাজ্য সরকারের অনুমোদনের ফাইল আটকে রেখে ২০২১ সালের আগে কাজই শুরু করতে দেওয়া হয়নি। আজও কলকাতা– হলদিয়া ৩০ কিমি এবং ধামরা– হলদিয়া ২৬ কিমি পাইপলাইন অসম্পূর্ণ। ওড়িশা তাদের অংশ শেষ করেছে। পশ্চিমবঙ্গ ইচ্ছাকৃতভাবে থামিয়ে রেখেছে।
হুগলি, হাওড়া, পূর্ব বর্ধমান, পূর্ব মেদিনীপুর— জেলা ধরে ধরে ROU অনুমতি, মৎস্য দপ্তরের ক্লিয়ারেন্স, জমি সমীক্ষা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সহযোগিতা— প্রতিটি ধাপে প্রশাসনিক ঢিলেমি, দেরি আর গাফিলতি। এটা কোনো প্রশাসনিক ব্যর্থতা নয়। এটা পরিকল্পিত বাধা। এর খেসারত দিচ্ছে কে?”
তিনি জানিয়েছেন, “জাতীয় কোষাগার সাধারণ মানুষ, যারা আজও CNG ও PNG পরিষেবা থেকে বঞ্চিত হলদিয়া রিফাইনারি, যেখানে পরিষ্কার জ্বালানির সরবরাহ আটকে আছে এবং সর্বোপরি—পশ্চিমবঙ্গ, যাকে ভারতের Clean Energy Transition থেকে কার্যত বাইরে ঠেলে দেওয়া হয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার বারবার ফলো-আপ করেছে।
মন্ত্রী পর্যায় থেকে মুখ্যমন্ত্রী স্তর পর্যন্ত যোগাযোগ হয়েছে। তবুও রাজ্য প্রশাসন কাজের গতি বাড়ায়নি। এটা কি অদক্ষতা? না। এটা রাজনৈতিক প্রতিহিংসা। এটা উন্নয়ন বিরোধী মানসিকতা। যখন সারা ভারত ভবিষ্যতের শক্তি নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে, তখন পশ্চিমবঙ্গকে কেন ইচ্ছাকৃতভাবে পিছিয়ে রাখা হচ্ছে? এই প্রশ্নের উত্তর আজ রাজ্য সরকারকেই দিতে হবে।”

