গরিবের রেশন তুলে বিক্রি করে দেওয়া হচ্ছে পাইকারের কাছে

স্বরূপ দত্ত, উত্তর দিনাজপুর, ২৬ মে: রেশনের চাল গম খোলা বাজারে বিক্রি করে দিচ্ছেন গ্রাহকরা। এমনই চিত্র ধরা পড়ল রায়গঞ্জ ব্লকের বরুয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের শীসগ্রামে। ক্যামেরা দেখে ক্রেতা নিজের নামই পাল্টে দিলেন। স্থানীয় মানুষের অভিযোগ, বহু গ্রামবাসী রেশন সামগ্রী তুলে পাইকারের কাছে বিক্রি করে দেন। এটা নিত্যদিনের ঘটনা।

করোনা সংক্রামণ নিয়ন্ত্রনে আনতে রাজ্য সরকার আংশিক লকডাউন ঘোষনা করেছে। এই লকডাউনের ফলে সাধারন মানুষের রুটি রুজিতে টান পড়েছে। দুঃস্থ অসহায় মানুষ যাতে অনাহারে না থাকে তার জন্য রেশনে বিনা পয়সায় চাল, গম সরবরাহ করা হচ্ছে। কিন্তু সেই রেশন সামগ্রী গ্রামের বহু মানুষ খোলা বাজারে বিক্রি করে দিচ্ছে।

ছবি: ক্যামেরা দেখে চাল, গম ফেলে পালিয়েছে পাইকার।

রেশনের দোকান খোলা থাকলেই বেশ কিছু ব্যবসায়ী চাল, গম কিনতে রেশন দোকানের সামনে বসে পড়েন। এমনই চিত্র ধরা পড়ল রায়গঞ্জ ব্লকের বরুয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের শীসগ্রামে। সাংবাদিকদের ক্যামেরাই দেখে বিক্রেতারা সেখান থেকে পালিয়ে যান। আর যে ব্যবসায়ী এই রেশন সামগ্রী কিনছেন সেই ব্যাক্তি নিজের নামই পাল্টে দিলেন।গলায় কাঠের মালা জ্বলজ্বল করছে। নাম জিজ্ঞাসা করতেই বেশ কয়েকবার ঢোক গিলে নাম বললেন সাদিবুল ইসলাম। পরে জানা গেছে তার প্রকৃত নাম নিত্য সরকার।জানালেন, এই ব্যাবসা তিনি করেন না। এই পথ দিয়ে যাবার সময় গ্রামের কয়েকজন বাসিন্দা কয়েক কেজি গম বিক্রি করার কথা বলেন, সেই গমই তিনি কিনলেন।

স্থানীয় বাসিন্দা মুক্তি বর্মন বলেন, রেশনের দোকান খোলা থাকলেই পাইকাররা এখানে বসেন। রেশন গ্রাহকদের কাছ থেকে তারা চাল, গম কম দামে কিনে নেন। রেশন দোকানের কর্মী স্বপন দাস জানালেন, তিনি রেশন সামগ্রী দিতে ব্যস্ত থাকেন। সামগ্রী নিয়ে যাবার পর গ্রাহকরা সেই সামগ্রী কি করছেন এটা তিনি দেখতে পারেন না। যদি কোনও গ্রাহক রেশন সামগ্রী খোলা বাজারে বিক্রি করেন সেটা অন্যায়।

বরুয়া গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্যা লক্ষ্মী বর্মন বলেন, বিষয়টি তার জানা ছিল না। সরকার গরিব মানুষদের জন্য রেশন সামগ্রী বিলি করছে। কেউ সেই সামগ্রী খোলা বাজারে বিক্রি করলে বিষয়টি নিয়ে গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধানর নজরে আনবেন। এছাড়াও বিষয়টি নিয়ে রেশন ডিলারের সঙ্গে বৈঠক করবেন। যে সমস্ত গ্রাহক এই কাজে যুক্ত তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *