রাজেন রায়, কলকাতা, ১১ ডিসেম্বর: কলকাতা পুরসভার পুরবোর্ডে ক্ষমতায় থাকাকালীন তৃণমূলের প্রচেষ্টায় শহরের একাধিক উন্নয়ন থেকে সৌন্দর্য্যায়নের সাক্ষী শহরবাসী। কিন্তু রয়ে গিয়েছে বেশ কিছু ঘাটতি ও অভাব অভিযোগ। এবারের পুরভোটে জিতলে শহরের জন্য আগামী দিনের রূপরেখা কি হতে চলেছে, তা নিয়ে শনিবার হাজরার মহারাষ্ট্র নিবাসে নিজেদের নির্বাচনী ইস্তেহার প্রকাশ করল তৃণমূল। বিভিন্ন ওয়ার্ডের একাধিক প্রার্থীরা ছাড়াও এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন তৃণমূলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়, বিধায়ক সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস, ফিরহাদ হাকিম, দেবাশিস কুমার, ভাপস রায়-সহ আরও অনেকে।
তৃণমূলের তরফে এই নির্বাচনী ইস্তেহারের নাম দেওয়া হয়েছে কলকাতার ১০ দিগন্ত।’ কলকাতাকে নতুন রূপে সাজিয়ে তুলতে সেখানে একাধিক বিষয়কে তুলে
ধরা হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে নিকাশি ব্যবস্থার উন্নয়ন, রাস্তার পরিকাঠামো নির্মাণ, আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পরিশ্রুত পানীয় জল সরবরাহ নিয়ে একাধিক পরিকল্পনা। এছাড়াও শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সৌন্দর্য্যায়নের মত একাধিক বিষয়ে জোর দেওয়া হয়েছে ইস্তেহারে।
তৃণমূলের নির্বাচনী ইস্তেহারে দাবি, নিকাশি ব্যবস্থার উন্নয়নে বিজ্ঞানসম্মত ভাবে পদক্ষেপ করা হবে। পাম্পিং স্টেশনগুলির ক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনাও নেওয়া হবে।
আধুনিক ব্যবস্থাপনায় শহরের সমস্ত ভাঙ্গাচোরা রাস্তা সারাই, ট্রাফিক যানজট সমস্যার সমাধানে ৫০ টি এসকেলেটরযুক্ত ফুটব্রিজ নির্মাণ থেকে ৩টি মাল্টি লেভেন পার্কিং লট নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে তৃণমূলের।
শহরে আরও বেশি পরিমাণ পরিশ্রুত পানীয় জন সরবরাহে জোড়াবাগান, গড়িয়া এবং জয় হিন্দু ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টের ক্ষমতা বাড়ানো হবে। হবে ৫০টি বুস্টার পাম্পিং স্টেশন। এছাড়া বিজ্ঞানসম্মত ভাবে বর্জ্য অপসারণের বিষয়েও রয়েছে বেশ কিছু পরিকল্পনা।
এই নির্বাচনী ইস্তেহারকে ভিত্তি করে আগামী দিনে সাধারণ মানুষের কাছে যাবেন তৃণমূল প্রার্থীরা। তাদের দৃঢ় বিশ্বাস, পুরনো দিনের মত এবারেও তাঁদের ওপরেই ভরসা রাখবেন শহরবাদী। আর ভবিষ্যতে শহরবাসীর সমর্থনেই ইস্তেহারের পরিকল্পনামাফিক তাঁরা গড়ে তুলবেন নতুন কলকাতা।

