পার্থ খাঁড়া, আমাদের ভারত, পশ্চিম মেদিনীপুর,
১৭ মার্চ: বগড়ি বিদ্রোহখ্যাত গড়বেতা- মোঙ্গলাপোতার মাটির তলায় চাপা পড়ে যাওয়া ইতিহাসের টানে কল্যাণী থেকে মেদিনীপুরে ছুটে আসেন আইনের শিক্ষিকা সুস্মিতা হালদার। ঝাড়গ্রামের মেয়ে সুস্মিতা বর্তমানে কল্যাণীর বাসিন্দা হলেও চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন হারিয়ে যাওয়া গড়বেতার ইতিহাস পুনরুদ্ধারের। সুস্মিতার দাবি, হারিয়ে যাওয়া লায়েক বিদ্রোহের ইতিহাস তুলে আনতে চাই ঐতিহাসিক স্থাপত্যের সংস্কার ও সংরক্ষণ করতে সুস্মিতা দেবী চাইছেন খননকার্যও।

ব্রিটিশ বিরোধী কৃষক অসন্তোষ বলতে গেলেই উঠে আসে লায়েক বিদ্রোহের কথা। কিন্তু তবু তা আটকে রয়েছে আঞ্চলিক ইতিহাসের পাতায়। এত বড় কৃষক বিদ্রোহ জাতীয় ইতিহাসে জায়গা পায়নি। ইংরেজদের বিরুদ্ধে এই বিদ্রোহের নেতৃত্বে ছিলেন অচল সিংহ। তার সঙ্গে তৎকালীন জমিদার ছত্র সিংহের নামও উঠে আসে। এই ইতিহাস মুখে মুখে জনশ্রুতি হিসেবে ঘোরাফেরা করে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে লেখা না হলে ইতিহাস বিকৃত হয়ে যায়। সেই হারিয়ে যাওয়া ইতিহাসকেই তুলে ধরেছেন সুস্মিতা। তিনি চাইছেন ঐতিহ্যশালী ধ্বংসাবশেষকে আগলে রাখতে। তাঁর আবেদন, প্রাচীন এই স্থাপত্যের সংস্কার ও সংরক্ষণ হোক। দেওয়া হোক হেরিটেজ ও প্রত্নতাত্ত্বিক মর্যাদা। বিশেষ বিশেষ জায়গাগুলি চিহ্নিত করে খননকার্য করা হোক। সমগ্র এলাকাটিকে হেরিটেজ জোন হিসেবে ঘোষণা করা হোক।
গড়বেতা, মোঙ্গলাপোতা ও সংলগ্ন অঞ্চল জুড়ে অবহেলায় পড়ে রয়েছে বহু প্রাচীন নিদর্শন। অসংরক্ষিত অবস্থায় সেগুলি পড়ে থাকায় ক্রমশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। মঙ্গলাপোতা রাজপরিবার চায় তাদের এই ঐতিহাসিক রাজবাড়ি হেরিটেজ মর্যাদা পাক। এলাকাবাসীরা চায়, হেরিটেজ ঘোষণা করা হোক মন্দির সহ অন্যান্য নিদর্শনগুলিকে। মন্দির কমিটির সদস্যরা ইতিমধ্যেই মুখ্যমন্ত্রীর কাছে মন্দিরের হেরিটেজ মর্যাদার জন্য আবেদন জানিয়েছেন।

সুস্মিতাদেবী চাইছেন, ঐতিহাসিক স্থাপত্যের সংস্কার, সংরক্ষণ, বিশেষ বিশেষ এলাকা চিহ্নিত করে খননকার্য শুরু হোক। হেরিটেজ সার্কিট মানচিত্রে স্থান পাক এই অঞ্চল। গড়বেতা এলাকার সমগ্র ইতিহাসকে বাঁচিয়ে রাখতে চাইছেন সুস্মিতা। তাঁর ১৪ দফা আবেদনে রয়েছে, সমগ্র অঞ্চল জুড়ে যে সমস্ত জীর্ণ মন্দির, বাড়ি, সুড়ঙ্গ, ধ্বংসস্তূপ সহ ঐতিহ্যশালী স্থাপত্যগুলি রয়েছে সেগুলিকে রাজ্য প্রত্নতাত্ত্বিক বিভাগ ও রাজ্য হেরিটেজ কমিশন উপযুক্ত মর্যাদা দিক। এজন্য একাধিক জনপ্রতিনিধি, আধিকারিক সহ বিভিন্ন দফতরে আবেদন জানিয়েছেন তিনি। ‘লায়েক গাথার নায়ক খোঁজে’ নামে ন্যাশনাল বুক ট্রাস্ট থেকে লায়েক বিদ্রোহের ওপর সম্প্রতি একটি বইও প্রকাশিত হয়েছে তাঁর।
সুস্মিতা বলেন, এলাকা পরিদর্শনে আসুক রাজ্যের দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক ও জনপ্রতিনিধিরা। রাজ্যের পর্যটন মানচিত্রে স্থান করে নিয়েছে ব্রিটিশ বিরোধী বিদ্রোহের পীঠস্থান গড়বেতা।
রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ড্রিম প্রোজেক্ট এই গড়বেতা পর্যটনকেন্দ্র। তার সামান্য দূরেই রয়েছে ঐতিহাসিক একাধিক স্থাপত্য। সুস্মিতাদেবী বলেন, প্রত্নতাত্ত্বিক ও হেরিটেজ মর্যাদা সহ সমগ্র এলাকাটিকে হেরিটেজ জোন হিসেবে মান্যতা দেওয়া হলে এবং হেরিটেজ সার্কিটে এই অঞ্চল স্থান পেলে রাজ্যের মুকুটে যুক্ত হবে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ পালক। এই ঐতিহ্য জেলা, রাজ্য তথা সমগ্র দেশের। বেশ কিছু জায়গা চিহ্নিত করে খননকার্যের আবেদনও জানিয়েছেন তরুণী শিক্ষিকা সুস্মিতা।

