আমাদের ভারত, ৩ সেপ্টেম্বর: সম্পর্কের গভীরতা থাকলেই সহস্র বাধা উতরে যাওয়া যায়, প্রমাণ জাপানের রাজকুমারীর প্রেম-বিবাহ। বহু সমস্যা পেরিয়ে, দীর্ঘ ৮ বছরের প্রেমের সম্পর্কের পর অবশেষে চলতি বছরের শেষ দিকেই বিয়ে করছেন তাঁরা। তবে এই চুড়ান্ত পরিণতি সহজে পাওয়া যায়নি। বহু সমালোচনা সহ্য করতে হয়েছে সাধারণ পরিবারের ছেলে কেই কোমুরোকে এবং রাজকুমারী হলেও মাকোকেও ত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছে।
জাপানের ক্রাউন প্রিন্সেস আকিসিনোর মেয়ে অর্থ্যাৎ সম্রাট নারুহিতোর ভাইজি প্রিন্সেস মাকোকে এই বিয়ের জন্য ছাড়তে হবে রাজপরিবারের তকমা। আবার, নিয়ম অনুযায়ী, জাপানের রাজপরিবারের কোনও সদস্য যদি সাধারণ পরিবারে বিয়ে করে তাহলে সরকার তাকে ১৩ মিলিয়ন ডলার দিয়ে সাহায্য করে। কিন্তু মাকো তা নিতে অস্বীকার করে এবং রাজপরিবারের তকমা ত্যাগ করে তাঁর প্রেমিক কোমুরোকে বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে সংবাদ সূত্রে জানা গেছে। এমনকি এই প্রেমিকযুগল রাজপরিবারের ঐতিস্যবাহী আনুষ্ঠানিকতা ছাড়াই হাতে গোনা কয়েকজনকে নিয়ে বিবাহ অনুষ্ঠান সম্পন্ন করবেন।
শোনা যায়, বিয়ের পর দম্পতি আমেরিকা চলে যাবেন, যেখানে একটী ‘ল’ ফার্মের সঙ্গে কোমুরো যুক্ত।
তাঁদের প্রেমের সূচনা হয়েছিল ২০১৩ সালে কলেজে পড়ার সময়। তাদের বিবাহ নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে ২০১৭ সালে একটি সাংবাদিক সম্মেলনে যখন দু’জনে তাদের বিয়ের সম্পর্কে জানায়। ২০১৮ সালে উভয় পরিবারের সম্মতিতেই বিয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কিন্তু রাজপরিবার ঘোষণা করে যে বিয়ে ২০২০ সাল পর্যন্ত স্থগিত রাখা হচ্ছে। কারণ হিসাবে জানানো হয়, বিবাহের জন্য পর্যাপ্ত আয়োজন করার জন্য আরও বেশি সময়ের প্রয়োজন। কিন্তু সমালোচকরা কোমুরোর পারিবারিক ইতিহাসকেই এর নেপথ্যে কারণ মনে করে। তার পর নানা ব্যক্তিগত কারণে তা আরও পিছোতে থাকে। তাই এই বছরেই তা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রেমিকযুগল।
স্বাভাবিকভাবেই এই নিয়ে জাপানে ফের আলোচনা শুরু হয়েছে। পূর্বে তীক্ষ্ণ সমালোচনা শুনতে হলেও প্রেমের জন্য রাজকুমারীর সর্বস্ব ত্যাগ স্বীকারকেও প্রসংশা করছে অনেকে। বহু অসম্পুর্ণ প্রেমের কাহিনী আমরা পড়েছি, শুনেছি যেখানে সমাজ, সংস্কৃতি, জাতি-ধর্ম-বর্ণের বিভেদ বিচ্ছেদের মূল কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
কিন্তু মাকোর এই দৃঢ় সিদ্ধান্ত প্রমান করল যে সম্পর্কের গভীরতা কোনও বিভেদ মানে না, প্রেম পূর্ণতা পায় ঠিকই।

