আমাদের ভারত, পশ্চিম মেদিনীপুর, ২০ মার্চ:
প্রধানমন্ত্রীর ডবল ইঞ্জিন সরকারকে ডবল চুরির ফন্দি বলে কটাক্ষ করলেন তৃণমূল রাজ্য যুব সভাপতি অভিষেক ব্যানার্জি। শনিবার তিনি পশ্চিম মেদিনীপুরে তিনটি সভা করেন। প্রথমে হেলিকপ্টরের চড়ে দাসপুরের ফরিদপুরের চাইপুর মাঠে নামেন। সেখানে তৃণমূল প্রার্থী মমতা ভুঁইঞার সমর্থনে সভা করেন। এরপর সবংয়ের কৃষ্ণপলাশী মাঠে তৃণমূল প্রার্থী মানস ভুঁইঞার সমর্থনে সভা করেন। শেষে ডেবরার তৃণমূল প্রার্থী প্রাক্তন পুলিশ কর্তা হুমায়ুন কবীরের সমর্থনে সভা করেন। এদিনই খড়্গপুরে সভা করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এদিনও তিনি ডবল ইজ্ঞিন সরকারের কথা বলেন। একে কটাক্ষ করে অভিষেক বলেন, আসলে ডবল ইঞ্জিন মানে ডবল চুরি। দিল্লিতেও চুরি করছে, বাংলাতেও চুরি করার স্বপ্ন দেখছে। সে স্বপ্ন বাংলার মানুষ কখনই সফল হতে দেবেন না। প্রধানমন্ত্রীর কাছে ফেসবুকের খবর থাকে, মানুষের খবর থাকে না বলে কটাক্ষ করে তাঁকে বলতে শোনা যায়, কারণ তিনি মানুষের বিপদে আপদে পাশে থাকেন না, মানুষের উন্নয়নে কোনও কাজ করেন না, কেবলমাত্র ফেসবুকেই থাকেন, তাই গরিব মানুষের পাশে থাকতে দেখা যায়নি প্রধানমন্ত্রীকে। তিনি তীব্র ভাষায় প্রধানমন্ত্রীকে আক্রমণ করে বলেন, বাংলায় ডবল ইঞ্জিন সরকার চাই বলে বিজেপি প্রচার করছে। ডবল ডবল ইঞ্জিনের সরকার হলে বেশি চুরি হবে। বিজেপির চোরেরা বেশি চুরি করে। তাই বহিরাগতদের বাংলা ছাড়া তৃণমূল করবেই। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী খড়্গপুরে বলেছেন আয়ুষ্মান যোজনা প্রকল্পটির বাংলা চালু করতে দেয়নি মমতার সরকার।
অভিষেক জানান, উনি জানেনই না যে বাংলায় মমতা ব্যানার্জির সরকার প্রতিটি মানুষের জন্য স্বাস্থ্যসাথী কার্ড করে দিয়েছে। যে স্বাস্থ্য সাথী কার্ডের মাধ্যমে বাংলার মানুষেরা চিকিৎসা পরিষেবার সুযোগ পাচ্ছেন। আর আয়ুষ্মান যোজনার কথা বলছেন, যদি আপনার বাড়িতে টিভি থাকে তবে আপনি আয়ুষ্মান যোজনার অন্তর্ভুক্ত হতে পারবেন না। কৃষক নিধি সম্মান বাংলায় চালু করেনি বলে যে অভিযোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তার তীব্র প্রতিবাদ করে তিনি বলেন, বাংলার তৃণমূল পরিচালিত রাজ্য সরকার কৃষকদের পাশে রয়েছে, কৃষকদের উন্নয়নের কাজ করছে এবং প্রতিটি কৃষককে ভাতা দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। তিনি দাসপুরের মানুষের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনারা ১লা এপ্রিল বিজেপিকে এপ্রিলফুল করুন। দাসপুর বিজেপির হবে বাঁশপুর। সাগর থেকে পাহাড়, জঙ্গলমহল থেকে সুন্দরবন প্রতিটি এলাকায় উন্নয়নের কাজ করেছেন মমতা ব্যানার্জির সরকার। যখন ডাকি তখন পাই বাংলা নিজের মেয়েকেই চাই। তৃণমূল ফের ক্ষমতায় এলে আগামী দিনে রেশনের জন্য দোকানে লাইন দিয়ে দাঁড়াতে হবে না। প্রতিটি মানুষের দুয়ারে রেশন পৌঁছে যাবে। সারা ভারতবর্ষের মধ্যে বাংলা এমন একটি রাজ্য যেখানে উন্নয়নের কাজ সবচেয়ে বেশি হয়েছে। বিজেপির বহিরাগত নেতারা বাংলায় এসে বড় বড় কথা বলছেন।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বাংলায় এসেও বলছেন বাংলায় কোনও উন্নয়ন হয়নি। বাংলার উন্নয়ন হয়েছে বলেই মোদী বাংলায় এসে কথা বলতে পারছেন। যদি বাংলায় কোন উন্নয়ন না হতো তাহলে উনাদের হেলিকপ্টার বাংলায় নাম তো না।

যারা মানুষের বিপদে আপদে পাশে থাকে না যারা মানুষের কোনও উন্নয়নে কাজ করে না যারা শুধু মানুষের সর্বনাশ করে তারাই এখন বড় বড় কথা বলছে। নোটবন্দি থেকে ব্যাঙ্ক বন্দি করে মানুষের সর্বনাশ করেছে কেন্দ্রের বিজেপি সরকার। তাই তিনি সাম্প্রদায়িক শক্তি বিজেপির বিরুদ্ধে সকল যুব শক্তিকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। এদিন দলীয় কর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে উৎসাহ ছিল চোখে পড়ার মতো। সেই সঙ্গে মহিলাদের উপস্থিত ছিল বিশাল। প্রচন্ড গরম উপেক্ষা করেও হাজার হাজার মানুষ সমাবেশে সামিল হয়েছিলেন। তাই দাসপুর, সবং, ডেবরার সমাবেশের মঞ্চ থেকেই বিজেপিকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করে বলেন, ২ মে ভোট গণনার পর প্রকৃত খেলা শুরু হবে। সেই খেলা হবে উন্নয়নের খেলা। ২৭ মার্চ জঙ্গল থেকে শুরু হবে খেলা এরপর শেষ হবে ২৯ এপ্রিল। খেলার ফলাফল ঘোষণা হওয়ার পরেই আসল খেলা শুরু হবে সেই খেলা হল উন্নয়নের খেলা।

