উজ্জয়নীর নির্যাতিতা, অর্ধনগ্ন, রক্তাক্ত কিশোরীর দিক থেকে সবাই মুখ ফেরালেও নিজের জামা খুলে দিয়েছিলেন আশ্রমের পুরোহিত

আমাদের ভারত, ২৮ সেপ্টেম্বর: প্রকাশ্য রাস্তায় কুপিয়ে খুন করা হচ্ছে। পাশ দিয়ে অবলীলায় হেঁটে যাচ্ছে জনতা, চলে যাচ্ছে গাড়ি। সকলে ভয়াবহ দৃশ্য দেখছে, কেউ কেউ দৃশ্যটিকে মোবাইলের ক্যামেরায় বন্দি করছে। কিন্তু হতভাগ্যকে কেউ বাঁচানোর চেষ্টা করছে না। এহেন মর্মান্তিক সামাজিক অবক্ষয়ের একাধিক চিত্র সাম্প্রতিক সময় বেশ কয়েকটাই সামনে উঠে এসেছে। মধ্যপ্রদেশের উজ্জয়িনী শহরও তেমনই এক সামাজিক অবক্ষয়ের পরিচয় দিয়েছে। ধর্ষিতা, রক্তাক্ত, অর্ধনগ্ন কিশোরী দরজায় দরজায় ঘুরলেও কেউ তাকে সাহায্য করেনি, বরং অনেকে তাড়িয়ে দিয়েছে। সেইখানে ব্যতিক্রমী হয়ে মানবিকতার পরিচয় দিয়েছেন বডনগর আশ্রমের পুরোহিত রাহুল শার্মা। অর্ধনগ্ন তরুণীকে দেখেই গায়ের জামা খুলে দিয়েছেন তিনি। তার হাত ধরেই পুলিশের সাহায্য পেয়েছে নির্যাতিতা, হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে কিশোরী।

ধর্ষিতা অর্ধনগ্ন রক্তাক্ত অবস্থাতে একের পর এক বাড়ির দরজায় কড়া নাড়লেও কেউ যখন সাড়া দেয়নি, কেউ এগিয়ে আসেনি, শেষ পর্যন্ত বডনগরের একটি আশ্রমের সামনে গিয়ে দাঁড়িয়েছিল ১২ বছরের ধর্ষিতা নাবালিকা। সকাল তখন সাড়ে ন’টা। আশ্রম থেকে কোনো একটি কাজে বের হচ্ছিলেন পুরোহিত রাহুল শর্মা। বেরিয়েই অবাক হয়ে যান তিনি। আশ্রমের গেটের সামনে অর্ধনগ্ন অবস্থায় দাঁড়িয়ে কিশোরী। শরীর তার রক্তে ভেজা চোখগুলি মারাত্মক ফোলা। কিশোরীকে অর্ধনগ্ন অবস্থায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেই প্রথমে তার শরীর ঢাকতে নিজের জামাটা খুলে দেন তরুণ পুরোহিত রাহুল। তিনি বুঝে উঠতে পারছিলেন না এই কিশোরীটির কে এমন অবস্থা করল?

রাহুল বলেন, কিশোরীর শরীর রক্তে ভেজা ছিল অর্ধনগ্ন, কথা বলতে পারছিল না। চোখ মুখ ফোলা। একদম দেরি না করে ১০০ ডায়ালে ফোন করলাম। সেখান থেকে কোনো জবাব না পেয়ে মহাকাল থানায় ফোন করে ঘটনা জানালাম। কুড়ি মিনিট পর আশ্রমে পুলিশ এল। কিশোরীকে নিয়ে গেল।

মধ্যপ্রদেশের উজ্জয়িনীতে এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনায় এখনো পর্যন্ত এক অটোচালককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আটক করা হয়েছে আরো তিনজনকে। সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেছে পুলিশ। তাদের দাবি, ফুটেজে দেখা গেছে ওই কিশোরী একটি অটোতে উঠেছিল। সেই অটোটি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। অটোতে মিলেছে রক্তের দাগ।

রক্তে ভেজা শরীর, অর্ধনগ্ন অবস্থায় দরজায় দরজায় ঘোরার সময় কেউ তো তাকে সাহায্য করেইনি, বরং এক ব্যক্তি তাকে দূর দূর করে তাড়িয়েও দিয়েছেন। সেই ঘটনার ভিডিও প্রকাশ্যে আসতেই শোরগোল পড়ে যায়।

কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাকে সাহায্য করতে আশ্রমের পুরোহিত রাহুল এগিয়ে এসেছিলেন। রাহুল জানান, কিশোরীর কাছে তার নাম ঠিকানা পরিবারের কথা জানতে চাওয়া হচ্ছিল বারবার। কিন্তু তার কথা কিছু বোঝা যাচ্ছিল না। আমরা তাকে বারবার আশ্বস্ত করেছিলাম যে সে এখন নিরাপদ। ভয় পাওয়ার কিছু কারণ নেই। তার কাছে নাম ঠিকানা জানতে চেয়েছিলাম, বলতে পারেনি। মারাত্মক আতঙ্কে ছিল মেয়েটি। রাহুল জানান, পুলিশ না আসা পর্যন্ত কাউকে বিশ্বাস করতে পারছিল না কিশোরী। কেউ এগিয়ে এলেই কিশোরী তার পিছনে গিয়ে লুকিয়ে পড়ছিল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *