অশোক সেনগুপ্ত, আমাদের ভারত, কলকাতা, ৬ ডিসেম্বর: বুধবার কলকাতা দেখল এক অভূতপূর্ব দৃশ্য।খোল-করতাল, ঢোল-কাঁসর নিয়ে বিশাল জমায়েত। ‘অন্যায়’ এবং ‘বেআইনি’ দাবি মানতে কর্তৃপক্ষের ওপর চাপ সৃষ্টির লক্ষ্যে এই সমাবেশ হয় দক্ষিণ কলকাতার বাবা সাহেব অম্বেদকর এডুকেশন ইউনিভার্সিটির বন্ধ ফটকের সামনে।
‘ওয়েস্ট বেঙ্গল স্টুডেন্টস এডুকেশন ফোরাম’-এর ব্যানার এবং একটি ধর্মীয় সংগঠনের ত্রিকোণ পতাকা নিয়ে বিক্ষোভকারীরা সমবেত হন বালিগঞ্জ সার্কুলার রোডে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে। দীর্ঘ সময় ধরে চলে তাদের নৃত্য-গীত। সঙ্গে ‘কর্তৃপক্ষের কালো হাত ভেঙ্গে দাও, গুঁড়িয়ে দাও’ গোছের হরেক শ্লোগান। বিপুল সংখ্যক বিক্ষোভকারীর মধ্যে দূরবীন দিয়ে খুঁজতে হবে বিএড পরীক্ষার্থীদের।
ন্যাশনাল কাউন্সিল অফ টিচার্স এডুকেশনের নির্দেশিকা অমান্য করায় অভিযুক্ত ২৫৩টি বিএড কলেজের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এর জন্য ফাঁপড়ে পড়েছে কয়েক হাজার পড়ুয়ায় ও শিক্ষক। তার জন্য বেশ কিছুদিন ধরে চলছে হুমকি ও বিশ্ববিদ্যালয়-বিরোধী নানা প্রচার। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় গত সপ্তাহে বিশ্ববিদ্যালয় সাময়িক বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ। কর্তৃপক্ষের আইননিষ্ঠ এই সিদ্ধান্তের প্রকাশ্য বিরোধিতা করেন রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু ও তাঁর অনুগামী ও ‘সুযোগসন্ধানী’ বলে বর্নিত বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মসমিতির দুই ‘বিতর্কিত’ সদস্য।
বুধবার সামাজিক মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনের বিক্ষোভের খণ্ডচিত্র দিয়ে লেখা হয়েছে, “হরি ধ্বনিতে মুখরিত বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণ, সমাধান সূত্র কি বেরবে? এবার সমাধান হোক, আর ভালো লাগছে না।”
যাঁরা এই অশান্তির নেপথ্য কাহিনী জানেন, তাঁরা প্রতিক্রিয়ায় এরকম বিক্ষোভকে সমর্থন করেননি। কেয়া বিশ্বাস লিখেছেন, “কলেজগুলো পুরো পাগল। এসব ধর্মীয় বিষয় টেনে যুদ্ধ করছে।“ হুসেন লিখেছেন, “তাই তো দেখছি! সবাই লেগে পড়েছে”। সৌম্যপ্রভ গাঙ্গুলি লিখেছেন, “এদের সাথে লেখাপড়ার কী সম্পর্ক?”
প্রতিক্রিয়ায় পবিত্র সিংহ লিখেছেন, “খুব ভালো, তবে ম্যাক্সিমাম কলেজে ক্লাস হচ্ছে না। কলেজের শিক্ষকদের ঠিক মত বেতন দিচ্ছে না। ম্যাক্সিমাম কলেজে খাতায় কলমে শিক্ষক আছে, কিন্তু বাস্তবে নেই। কলেজগুলো রেগুলার মোড থেকে ডিসট্যান্ট মোডে পরিণত হয়েছে— এইসব নিয়েও আন্দোলন করা দরকার।”

