রাজেন রায়, কলকাতা, ২২ আগস্ট: পৃথক উত্তরবঙ্গের দাবি আবারও রাজনীতির আলোচনায় মুখ্য বিষয় হয়ে উঠেছে। বঞ্চনা অনুন্নয়নকে সামনে রেখেই সাধারণ মানুষের দাবিকে উত্থাপন করে জন বারলা দাবি করেছিলেন পৃথক উত্তরবঙ্গ হোক। কিছুদিন এই প্রসঙ্গ ধামাচাপা পড়ে গিয়েছিল দলীয়ভাবে রাজনৈতিক অবস্থানের পার্থক্যের কারণে। কিন্তু ঘুরে ফিরে আবার সেই পৃথক রাজ্যের দাবি উঠল। এবারও সেই বঞ্চনা অনুন্নয়ন অনুপ্রবেশ আর সাধারণ মানুষের দাবিকে প্রাধান্য দেওয়া হল। আর এই দাবি ঘিরেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা।
ভারতবর্ষের রাজ্য ভাঙার অনেক উদাহরণ রয়েছে মধ্যপ্রদেশ ভেঙে ছত্রিশগড়, অন্ধ্র প্রদেশ ভেঙে হয়েছে তেলেঙ্গানা, বিহার ভেঙে হয়েছে ঝাড়খন্ড, উত্তর প্রদেশ ভেঙে হয়েছে উত্তরাখণ্ড। আর এবার পশ্চিমবঙ্গ ভেঙে উত্তরবঙ্গের দাবি উঠছে। যে দাবিকে ঘিরে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। গোর্খাল্যান্ডের দাবি ও মাথা চাড়া দিয়ে উঠেছে ইদানিং। কংগ্রেস শাসন থেকে শুরু করে তৃণমূল শাসন প্রতিবারই ওঠে এই পৃথক রাজ্যের দাবি।
দিলীপ ঘোষ এবার পৃথক উত্তরবঙ্গ ও জঙ্গলমহলের পক্ষেই কথা বলেছেন। পৃথক রাজ্যের দাবি যে অমূলক নয় তারও ব্যাখ্যা শোনা গিয়েছে মেদিনীপুরের সাংসদের গলায়। অবশ্য এই ইস্যুতে রাজ্য বিজেপি সভাপতির উল্টো সুরই শোনা গেল এ রাজ্য থেকে নির্বাচিত আরেক বিজেপি সাংসদ লকেট চট্টোপাধ্যায়ের গলায়। দিলীপকে বিঁধেছেন দলের প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি রাহুল সিনহাও। রবিবার হুগলির জেলা বিজেপি কার্যলয়ে রাখিবন্ধন উৎসবের মাঝেই সাংসদ লকেট চট্টোপাধ্যায় বলেন, “কে কী বলেছেন জানি না। বাংলা কখনও ভাগ হবে না। বাংলা এক থাকবে। ঐক্যবদ্ধ বাংলার জন্য আমরা গর্বিত।”
দিলীপের রাজ্যভাগের দাবিকে উড়িয়ে দিয়েছেন প্রাক্তন রাজ্য বিজেপি সভাপতি রাহুল সিনহা। তাঁর কথায়, ”বাংলা ভাগ হবে না। বিজেপি বাংলা ভাগের বিরুদ্ধে। রাজ্য ভাগ নিয়ে দল বা কেন্দ্রের কোনও নীতি নেই। জাতীয়স্তরে রবীন্দ্র ঠাকুরের রাখিবন্ধন উৎসবের সামাজিক ও রাজনৈতিক গুরুত্ব সবার বোঝা উচিত।”

