আশিস মণ্ডল, রামপুরহাট, ৬ ডিসেম্বর: দিন দুয়েক আগে তোলা না দেওয়ায় পুলিশের মারধরে জখম হয়েছেন এক গাড়ি চালক। চোখে গুরুতর আঘাত পান ওই গাড়ি চালক। তাকে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ওই ঘটনায় ইলামবাজার থানার এক পুলিশ অফিসারকে ক্লোজ করেছে জেলা পুলিশ। এবার একই অভিযোগ উঠেছে বীরভূমের মল্লারপুর থানার বিরুদ্ধে। দাবি মতো টাকা না দিলে মারধর করারও অভিযোগ তুলেছেন গাড়ি চালকরা।

মল্লারপুর থানার ঢিল ছোঁড়া দূরত্বে ১৪ নম্বর জাতীয় সড়কের ধারে চলছে তোলা আদায়। ওভারলোড বালি বোঝাই লরি থেকে ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা করে তোলা নেওয়া হয়েছে। ওভারলোড নেই এমন গাড়ি থেকেও জোর করে টাকা আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ চালকদের। মল্লারপুর মেডেলডাঙা গ্রামের কাছে জাতীয় সড়কের উপর ট্রাফিক ইনচার্জ শিশির মার্ডির বিরুদ্ধেও তোলাবাজি এবং ছোট গাড়ির চালকদের বিরুদ্ধে অত্যাচারের অভিযোগ তুলেছেন পথ চলতি গাড়ি চালকেরা।
লরি চালক রাসু সাহু বলেন, “আমরা ওভারলোড করি না। তা সত্ত্বেও মল্লারপুর থানার পুলিশ জাতীয় সড়কে ব্যারিকেড লাগিয়ে জোর করে টাকা তুলছে। না দিলে মারধর করছে। এমনই অভিযোগ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক গাড়ি চলাকের। অথচ ওই রাস্তা দিয়ে বালি, পাথর বোঝাই লরি চলে গেলেও তাদের ধরছেন না ট্রাফিক ইনচার্জ। তিনি বলেন, “বালি বোঝাই লরি কিংবা ওভারলোড ধরা আমদের কাজ নয়। আমরা দেখব গাড়ির কাগজ রয়েছে কিনা। ছোট গাড়ির সামনের সারির যাত্রী কিংবা চালক বেল্ট বাঁধছেন কিনা”।

ওভারলোড বালি বোঝাই লরি না ধরার কারণ, মল্লারপুর থানার ঢিল ছোঁড়া দূরত্বে আরও একটি টিম গাড়ি থামিয়ে ৫০০-৭০০ টাকা করে তুলছে। একাধিক লরি চালক সেই অভিযোগ করেছেন। মঙ্গলবার সকালেও দুই যুবক ডবলু বি ৫৪ পি ৮৩৭০ নম্বরের একটি চারচাকা গাড়ি থামিয়ে টাকা তুলছিলেন। সেখানে বেশ কয়েকটি মোটর বাইকও রাখা ছিল। ক্যামেরায় সেই ছবি তুলতেই দুই যুবক পালানোর চেষ্টা করে। পরে তারা জানায় ওই গাড়ি তাদের নয়। যদিও এলাকার মানুষ জানান, প্রতিদিন ওই এলাকায় পুলিশ টাকা তোলে।
জেলা পুলিশ সুপার নগেন্দ্রনাথ ত্রিপাঠি বলেন, “নির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে”।

