পিন্টু কুন্ডু, বালুরঘাট, ২০ এপ্রিল: দণ্ডিকাটা কান্ডের ঘটনা নিয়ে জাতীয় এসটি কমিশনকে দেওয়া পুলিশি রিপোর্ট সামনে আসতেই রীতিমতো হইচই পড়েছে। পাঁচ পাতার সেই রিপোর্টে কোথাও উল্লেখ নেই ঘটনার মূল অভিযুক্ত তথা প্রাক্তন মহিলা তৃণমূল নেত্রীর নাম। যা নিয়ে রীতিমতো নিন্দার ঝড় উঠেছে গোটা দক্ষিণ দিনাজপুরে। শুধু তাই নয়, রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে আদিবাসী ওই তিন মহিলা নিজে থেকেই দণ্ডি কেটে তৃণমূলে যোগদান করেছিলেন। জাতীয় মহিলা কমিশনে জমা দেওয়া সেই রিপোর্ট ঘিরে একাধিক প্রশ্নের মুখে পড়েছে খোদ দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা পুলিশ।
যদিও জেলা পুলিশের এই রিপোর্টকে ‘হাস্যকর’ বলে কটাক্ষ করেছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি তথা বালুরঘাটের সাংসদ সুকান্ত মজুমদার। একইসাথে সুকান্ত কেন্দ্রীয় সংস্থাকে জেলায় এসে এই ঘটনার তদন্ত করার দাবি জানিয়েছেন। সুকান্তর দাবি, এসটি কমিশন সরেজমিনে এসে তদন্ত করুক। যদিও এ বিষয়ে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা পুলিশ তেমন কিছুই বলতে চায়নি। তবে বিজেপির অভিযোগ, দণ্ডিকাটা মামলায় মূল অভিযুক্তকে আড়াল করতেই এই ধরনের রিপোর্ট পুলিশের।
জানাগেছে, ৭ এপ্রিল তপনের গোফানগরের তিন আদিবাসী মহিলাকে দিয়ে দণ্ডি কাটানোর অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ উঠেছিল মহিলা তৃণমূলের প্রাক্তন জেলা সভানেত্রী প্রদীপ্তা চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে। যা নিয়ে অভিযোগও দায়ের হয়। তবে নির্দিষ্ট কারও নাম সে অভিযোগে ছিল না। এদিকে এই ঘটনার সঠিক তদন্ত ও অভিযুক্তকে গ্রেফতারের দাবিতে জাতীয় এসটি কমিশনে চিঠি পাঠিয়েছিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। যার পরেই এসটি কমিশনের তরফ থেকে ডিজিকে চিঠি দিয়ে পুরো ঘটনার রিপোর্ট দিতে বলা হয়। তিনদিনের মধ্যে সেই রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছিল।
এদিকে পুলিশের তরফে দেওয়া সেই রিপোর্টের চিঠি প্রকশ্যে আসতেই ফের সরব হন সুকান্ত মজুমদার। পুলিশ প্রথম থেকেই প্রদীপ্তা চক্রবর্তীর নাম সামনে আনতে চায়নি বলেই দাবি করেছে বিজেপি। তাদের বক্তব্য, দোষীকে আড়াল করতে অন্য দুই যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। যদিও পরে তাঁরা জামিন পেয়েছেন। এরইমধ্যে গত ১৩ এপ্রিল পুলিশ জাতীয় এসটি কমিশনে যে রিপোর্ট পাঠায়, সেখানেও মূল অভিযুক্তকে আড়াল করার চেষ্টা করেছে পুলিশ বলে অভিযোগ সুকান্ত মজুমদারের। সুকান্ত বলেন, “পুলিশের রিপোর্ট অনুযায়ী কোনও অপরাধই সংগঠিত হয়নি। প্রথমেই প্রশ্ন ওঠে, কোনও অপরাধ না হলে পুলিশ দু’জনকে গ্রেফতার করল কেন? দ্বিতীয়ত সাংবাদিক বৈঠক করে রীতিমতো তৃণমূলের যে নেত্রী এই ঘটনাকে প্রায়শ্চিত্তর কথা বলছেন, সেই নেত্রীর কেন কোনও অপরাধ পুলিশ খুঁজে পেল না? শুধু তাই নয়, ঘটনার পরে তৃণমূল দল ওই মহিলা নেত্রীর অপরাধ জানতে পেরে তাকে তার পদ থেকে সরিয়ে দিয়েছে। পুলিশ আসলে ওই নেত্রীকে বাঁচানোর চেষ্টা করছে।”
যদিও তৃণমূলের তরফে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা সভাপতি মৃণাল সরকার জানিয়েছেন, “এটা আইনের বিষয়, প্রশাসনিক বিষয়। পুলিশ তদন্ত করে কী রিপোর্ট দেবে সেটা তাদেরই বিষয়। আমাদের বলার কিছু নেই। আমরা চাই এর নিরপেক্ষ তদন্ত হোক।”

