ওপারের ‘ খেলা হবে’ শব্দবন্ধ জমিয়ে দিয়েছে এপারের একুশের লড়াই

রাজেন রায়, কলকাতা, ১৪ ফেব্রুয়ারি: প্রত্যেকবারই ভোটের সময় কোনও এক বিশেষ শব্দবন্ধ অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়ে যায়। ২০১৯ সালে ‘আর না’ স্লোগানটি প্রথম দেন এসএফআই সমর্থক এক ছাত্রী। পরে দেখা যায় সেই স্লোগান নিয়ে গান ধরেছেন বাবুল সুপ্রিয় ‘এই তৃণমূল আর না।’ বাম-বিজেপির পাশাপাশি তাদের মতো করে স্লোগানটি ব্যবহার করে তৃণমূলও। আর এবারের বিধানসভা ভোটে সবারই স্লোগান ‘খেলা হবে।’ ভোট ঘোষণার আগেই এই রাজনৈতিক উত্তাপে রীতিমত গ্যালারি থেকে মজা উপভোগ করছেন আমজনতা।

বৃহস্পতিবার বাম ছাত্র-যুবদের মিছিল থেকে যেমন এই স্লোগান উঠেছে, তেমন আবার তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখেও এই স্লোগানের রেশ শোনা গিয়েছে। উত্তীর্ণ সভাঘরে এক সভায় মমতা বলেন, ‘হয়ে যাক খেলা। রাজনীতির খেলা। গণতন্ত্রের খেলা। দেখা যাক কে হারে কে জেতে। আপনারা থাকবেন। সঙ্গে সিপিএম, কংগ্রেসকেও দিয়ে দিলাম। ব্রিগেডে এক দিকে জগাই, মাধাই আর গদাই। অন্য দিকে আমি। আমি গোলরক্ষক। দেখি ক’টা গোল আপনারা দিতে পারেন!’

কিন্তু এবারে শব্দবন্ধের উৎপত্তি কোথা থেকে? তৃণমূলের ছাত্র-যুব সংগঠন সূত্রের দাবি, জানুয়ারি মাসে উত্তরবঙ্গের একটি সভায় এই স্লোগান তুলে ছড়া কাটতে দেখা যায় তৃণমূলের মুখপাত্র দেবাংশু ভট্টাচার্যকে। পরে দেবাংশু ফেসবুকে একট কবিতা লেখেন। যার প্রথম স্তবকটি হল, ‘বাইরে থেকে বর্গী আসে, নিময় করে প্রতিমাসে/ আমিও আছি, তুমিও রবে/ বন্ধু এবার খেলা হবে।’

ইদানিং অবশ্য ডিজে বাজিয়ে সেই গানে তৃণমূলের নানা সভায় উল্লাস করতে দেখা গিয়েছে শাসকদলের কর্মীদের। কিন্তু তৃণমূলেরই অংশের বক্তব্য, বীরভূমের একটি সভা থেকে জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডলই এই স্লোগানকে জনপ্রিয় করেন। সম্প্রতি মদন মিত্রকেও এই স্লোগান বলতে শোনা যায়। দেবাংশু বলছেন, ‘খুব তাড়াহুড়ো করে উত্তরবঙ্গের সভায় এই খেলা হবে কবিতাটা লিখেছিলাম। অনুব্রত মণ্ডল বা মদন মিত্রদের মতো বড় নেতারা যে সেই স্লোগান ব্যবহার করছেন, কর্মী হিসেবে আমি ধন্য।’ অবশ্য অনুব্রতর বক্তব্য, ‘প্রতিটা নির্বাচনেই আমি নতুন স্লোগান দিই। এবার স্লোগান খেলা হবে খেলা হবে, এই মাঠেতে খেলা হবে। ভয়ঙ্কর খেলা হবে।’

আবার পাল্টা স্লোগানের কপিরাইট তৃণমূলকে দিতে নারাজ বাম ছাত্র-যুবরা। তাদের দাবি, আদতে এই স্লোগান তৃণমূলেরই নয়, সেই ‘হোক কলরব’ আন্দোলনের সময় থেকে ‘খেলা হবে’ স্লোগানটি জনপ্রিয় বাম ঘাঁটি যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে। ‘হোক কলরব’-এর অন্যতম সক্রিয় আন্দোলনকারী ত্রিপর্ণা দে সরকারের বক্তব্য, ‘তৎকালীন ভিসি যখন ছাত্রদের থেকে বাঁচতে পুলিশি সাহায্য চাইলেন, তখনই আমরা বলেছিলাম এই পুলিশের সঙ্গে খেলা হবে।’

তবে, আসল উৎপত্তি ফাঁস করে দিয়েছেন এসএফআইয়ের রাজ্য কমিটির সদস্য শুভজিৎ সরকার। তিনি বলেন ‘না এটা আমাদের না এটা তৃণমূলেরও নয়। বছর ছয়েক আগে এক সাংসদ বলেছিলেন ‘খেলা হবে’। স্লোগানটি সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর থেকে নতুন প্রজন্মের কাছে তা জনপ্রিয় হয়।’
জানাগেছে, ২০১৬ সালে বাংলাদেশের নারায়ণগঞ্জে নির্বাচনের সময় সাংসদ শামিম ওসমান বিরোধীদের কটাক্ষ করে বলেছিলেন, ‘২৪ তারিখের পর খেলা হবে।’ তবে স্লোগান যারই হোক না কেন, বিধানসভা নির্বাচনে একে অপরকে বুঝে নিতে মাঠে নেমে খেলতে তৈরি যুযুধান সমস্ত রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *