আশিস মণ্ডল, রামপুরহাট, ১০ ডিসেম্বর: “আমরা কয়লাখনি গড়তে জমি ছাড়বো না। যে সরকার বেকারদের চাকরি দিতে পরে না, তাদের কাছে এই প্যাকেজ আশা করা যায় না। আমরা যেমন আছি তেমনিই থাকতে চাই”। শুক্রবার দেউচা পাঁচামি প্রস্তাবিত কয়লাখনি নিয়ে বাম প্রতিনিধি দলের কাছে এমনটাই জানালেন গ্রামের মানুষ।
এদিন সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজন চক্রবর্তী, রামচন্দ্র ডোমের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল হরিণসিংহা গ্রামে যান। গ্রামে ঢোকার মুখে কিছু মানুষ তাদের পথ আটকায়। কালো পতাকা দেখিয়ে গ্রামে ঢুকতে বাধা দেয়। বাম প্রতিনিধি দল তাদের বাধা টপকে বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে মানুষের সঙ্গে কথা বলেন। হরিণসিংহা গ্রামের বাসিন্দা স্মিতা মুর্মু বলেন, “আমি ডিএড করেছি সাত বছর আগে। দুই বোন তারাও শিক্ষিতা। কিন্তু কেউ চাকরি পাইনি। তাই এই সরকারের প্রতিশ্রুতিকে আমরা ভরসা করি না। এদের কথার সঙ্গে কাজের কোনও মিল নেই। তাই আমরা জমি দেব না। আমরা যেমন ছিলেন তেমনিই থাকতে চাই”।

সুজনবাবু বলেন, “আমরা সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলার জন্য গ্রামে গিয়েছিলাম। আমরা যে যাচ্ছি তাতে তৃণমূলের খুব অপছন্দ হয়েছে। ওদের ওটা যেন জমিদারি। ওদের জমিদারিতে যাব যেন এরকম একটা ভাব ওদের। এমন ভাব যে লোকেও আমাদের কিছু বলতে পারবে না। আমরাও কিছু শুনতে পারব না। তাই তারা বাইরে থেকে কিছু লোক নিয়ে এসে আমাদের পথ আটকানোর চেষ্টা করে। কালো পতাকা দেখায় কিন্তু তাতে খুব একটা লাভ হয়নি। আমরা তাদের বাধা অতিক্রম করেই মানুষের সঙ্গে কথা বলেছি। আমরা হরিণসিংহা, দেওয়ানগঞ্জ, চাঁদা সহ বেশ কয়েকটি গ্রাম ঘুরে মানুষের সঙ্গে কথা বলেছি। তাতে বোঝা গেল সরকারের কোনও প্রতিনিধি সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলেনি।
জেলা শাসক, মহকুমা শাসক, বিডিও, প্রধানের মাধ্যমে কে কি কথা বলে দিয়েছেন কেউ জানে না। সাধারণ মানুষের বক্তব্য আমাদের জীবন, জীবিকা, পরিবেশ ধ্বংস করলে আমরা যাব কোথায়। মানুষ অসহায় বোধ করছে। আতঙ্কে রয়েছে। তারা যাবে কোথায়। মানুষ ওখানে কয়লাখনি চাইছেন না। সরকারের উচিত মানুষের জীবন, জীবিকা ও পরিবেশের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যেন খতিয়ে দেখে। মধ্যপ্রদেশ, ছত্রিশগড়ে কর্পোরেট কোম্পানি যখন খনির দখল নিতে চায় তখন বিজেপি তাদের পাশে দাঁড়ায়। এরাজ্যে সরকার কি বিজেপির পথে হাঁটবে? সরকারকে চিন্তাভাবনা করে এগোতে হবে”।

