আমাদের ভারত, হাওড়া, ২৭ আগস্ট: হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়া এক হিন্দু প্রতিবেশীর মৃতদেহ সৎকারে হাত লাগিয়ে সম্প্রীতির বার্তা দিল উলুবেড়িয়ার মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ।
বৃহস্পতিবার সকালে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে বাড়িতেই মারা যান উলুবেড়িয়ার ফতেপুরের বাসিন্দা রঘুনাথ কুমার (৬১)। লকডাউনের দিন স্বামী মারা যাওয়ায় কিভাবে তার দেহ সৎকার হবে সেই নিয়ে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন মৃতের স্ত্রী বাসন্তী কুমার। আত্মীয়-স্বজন না আসতে পারলে কিভাবে দেহ শ্মশানে নিয়ে যাওয়া হবে এবং কে নিয়ে যাবে সেই নিয়ে চিন্তা বাড়তে থাকে তার। অবশেষে সমস্যার সমাধানে এগিয়ে আসে প্রতিবেশী শেখ পিয়ার আলী। সঙ্গে ডেকে নেন আরো কয়েকজনকে। পরে প্রতিবেশী মুসলিম সম্প্রদায়ের লোকেরা মৃত রঘুনাথ কুমারের দেহ শ্মশানে নিয়ে যাওয়া থেকে সৎকার পর্যন্ত সব দাঁড়িয়ে থেকে করান।

স্থানীয় সূত্রে খবর, আদতে ঝাড়খণ্ডের বাসিন্দা রঘুনাথ কুমার কিশোর বয়সে মায়ের সঙ্গে উলুবেড়িয়ায় চলে আসেন। ফতেপুরে পিয়ার আলীর বাড়ির পাশে থাকা কালীন তাদের সঙ্গে আত্মীয়তার সম্পর্ক গড়ে ওঠে রঘুনাথ কুমারের পরিবারের। বিপদে-আপদে সব সময় দুটি পরিবার পাশাপাশি থাকত। বৃহস্পতিবার সকালে রঘুনাথ কুমারের মৃত্যুর পর পিয়ার আলী নিজেই সব দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন। পরে আরো কয়েকজনকে ডেকে নিয়ে মৃতদেহ নিয়ে যান উলুবেড়িয়া শতমুখী শ্মশানে। সেখানে দাঁড়িয়ে থেকে মৃতদেহ সৎকার করে বাড়ি ফেরেন।

একজন মুসলিম প্রতিবেশীর এই ব্যবহারে খুশি মৃত রঘুনাথ কুমারের ভাই রামেশ্বর কুমার।তিনি বলেন, যেভাবে আমাদের বিপদের দিনে মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষরা আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন সেটা ভাবতেই আমাদের ভালো লাগছে।
অন্যদিকে পিয়ার আলীর বক্তব্য, একজন আত্মীয় মারা গেলে যে দায়িত্বটা পালন করতে হয় আমি সেটাই করেছি।


