আমাদের ভারত, ২৯ জানুয়ারি: “কাগজ পড়ে না”— কেবল স্কুলপড়ুয়া নয়, সমাজের প্রায় সর্বস্তরে এই ব্যধি ছড়িয়ে পড়েছে। কিন্তু কে জানত সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন বিভাগের বিতর্কে কাগজপন্থী পড়ুয়ারা ৭-৪ গোলে হারিয়ে দেবে ডিজিটালওয়ালাদের?

হ্যাঁ, বৃহস্পতিবার জাতীয় সংবাদপত্র দিবসের অনুষ্ঠানে সেরকমই কাণ্ড হল বিজয়গড় জ্যোতিষ রায় কলেজে। ‘ন্যাক’-এর বিচারে ‘এ গ্রেড’ পাওয়া কলেজের ৭৫ বর্ষপূর্তির আবহে এদিন ছিল ওই বিভাগের তিনদিনব্যাপী আয়োজনের শেষ দিন। মঙ্গলবার, প্রথম দিন ছিল অনুজদের উদ্দেশে শিক্ষক হিসাবে অভিজ্ঞ অতিথি সাংবাদিকের ডু’জ, ডু নটস, লেখার ধরণ প্রভৃতি নিয়ে নানা পরামর্শ ও ক্লাস। মূল আলোচনার শিরোনাম ছিল ‘ট্যাবলয়েড নিউজপেপার মেকিং, ফিল্ড টু প্রিন্ট’ নিয়ে কর্মশালার প্রথম পর্ব। পরিচালনা করেন সাংবাদিক/লেখক অশোক সেনগুপ্ত।
বুধবার কর্মশালায় শিক্ষার্থীদের হাতেকলমে কাগজের পৃষ্ঠাবিন্যাসের কৌশল শেখানো হয়। বৃহস্পতিবার তৃতীয় দিন হয় কর্মশালার বাকি ক্লাস। এ ছাড়াও ছিল সাংবাদিকতা-বিষয়ক প্রশ্নোত্তর প্রতিযোগিতা, তাৎক্ষণিক বক্তব্য পেশ, বিতর্ক, প্রশ্নোত্তর, পুরস্কার বিতরণী প্রভৃতি। বিতর্কের বিষয় অনেকটা ছিল ‘ডিজিটাল, না প্রিন্ট’? জনা ত্রিশ পড়ুয়ার মধ্যে কৌশিকী, অনুভব, সুচিত্রা, দেবাঞ্জন, ঋক, সুরজিৎ, অরণ্য, অস্মিতা, কঙ্কণা, দীপ্তি, সুমন— এই ১১ জন সংক্ষিপ্ত যুক্তি সহ তাঁদের মতামত পেশ করেন।

ফলাফল ঘোষণা করতে গিয়ে বিচারকের ভূমিকায় অশোক সেনগুপ্ত বলেন, “শুরুতেই বলছি, শেষেও বলব, সবাই খুব ভাল বলেছেন। প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয়— এগুলো নিছকই পোষাকি। আর, ডিজিটাল আর প্রিন্টের মধ্যে কোনও দ্বৈরথ নেই। প্রযুক্তির বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে বদলে যায় প্রতিটি ক্ষেত্রের চালচিত্র ও ঘরানা। সংবাদমাধ্যমেও সেই পরিবর্তনের ছোঁয়া পড়েছে।”
কলেজের উন্মেষকেন্দ্র/আইকিউএসি-র সহযোগিতায় কর্মশালাকে সর্বাঙ্গসুন্দর করতে সক্রিয় ছিলেন বিভাগীয় প্রধান ডঃ অর্ণব ব্যানার্জি, অধ্যাপিকা ডঃ বকুল শ্রীমানী, সুনন্দিত চৌধুরী। পুরস্কার বিতরণীতে তাঁরা এবং কলেজের অধ্যক্ষ ডঃ রাজ্যশ্রী নিয়োগী, আমন্ত্রিত অতিথি অশোক সেনগুপ্ত ছাড়াও ছিলেন আরও ৩ বিভাগীয় প্রধান অমলেন্দু মজুমদার (এডুকেশন), প্রসেনজিৎ দাস (মাইক্রোবায়োলজি), অভিজিৎ দাস (অর্থনীতি)। পড়ুয়াদের নিজের হাতে তৈরি একটি বাংলা এবং একটি ইংরেজি সাময়িকীর ইনহাউস সংস্করণও প্রকাশিত হয় এদিন।

বন্দেমাতরম-এর সার্ধশতবর্ষ উপলক্ষে অশোক সেনগুপ্ত ও সৌমেন্দু দে-র যুগ্ম সম্পাদনায় সদ্য প্রকাশিত ‘পাক্ষিক দক্ষিণবঙ্গ সংবাদ’-এর বিশেষ সংকলন ওই অনুষ্ঠান মঞ্চে সকলে নতুন করে প্রকাশ করেন।

