আমাদের ভারত, জলপাইগুড়ি, ৫ আগস্ট: দীর্ঘদিন ধরে অচলাবস্থা চলছে জলপাইগুড়ির রায়পুর চা বাগানে। স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনতে উদ্যোগ নিল জেলা প্রশাসন। শুক্রবার জেলা প্রশাসনের ডাকা ত্রিপাক্ষিক বৈঠকে সকলে হাজির হলেও বাগানের মালিক পক্ষ হাজির না হওয়ায় পিছিয়ে গেল আলোচলা।
যদিও জেলা প্রশাসনের দাবি, বাগান কর্তৃপক্ষ লিখিতভাবে জানিয়েছেন ২২ অগস্ট বৈঠকে বসবে। শ্রমিক নেতা ও বাগানের শ্রমিকদের দাবি, দ্রুত বাগানের কাজ শুরু হোক। এদিকে বাগানের পরিবেশ স্বাভাবিক না হওয়ায় ভিন রাজ্যে কাজের সন্ধানে পাড়ি দিয়েছেন অসংখ্য শ্রমিক। ২০০৩ সালে প্রথমবার জলপাইগুড়ি সদর ব্লকের রংধামালি এলাকায় রায়পুর চা বাগান বন্ধ হয়। এরপর মাঝে কয়েক দফায় বাগান খুললেও আবার বাগান বন্ধ করে চলে যান মালিক পক্ষ। ২০১১ সালে
আবার খোলা হয় বাগান, এরপর থেকে কয়েক দফার বাগান খোলা ও বন্ধ হলেও ২০১৮ সালে আবার নতুন করে বাগান কর্তৃপক্ষ বাগান ছেড়ে চলে যায়। এরপর থেকে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়। রুটিরুজির টানে বাগানের শ্রমিকরা নিজেরাই পাতা তুলে বিক্রি করেন। শ্রমিকদের দাবি, ফাউলার ও সরকারের সাহায্য নিয়ে দিন কাটছে শ্রমিকদের। অনেক শ্রমিক বাধ্য হয়ে ভিন রাজ্যে চলে গিয়েছেন। বাগানে এক সময় স্থায়ী শ্রমিকের সংখ্যা ছিল প্রায় ৬৫০। অস্থায়ী শ্রমিক রয়েছেন ১১০০ জন। বর্তমানে অনেক শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে, আবার অনেকে অবসর নিয়েছেন। বাগান বন্ধ হতেই শ্রমিকদের বেতন, পিএফ’ও বন্ধ হয়ে গিয়েছে।

শাসক দলের শ্রমিক নেতা স্বপন সরকার বলেন, “আজ বৈঠক ছিল, কিন্তু বাগানের মালিক পক্ষ আসেননি। শ্রম দফতর, জেলা প্রশাসন, শ্রমিকের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। এখন শ্রমিকদের ভরসা ফাউলাই ও সরকারের সাহায্য।”
বাগানের শ্রমিক তথা পাতকাটা গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান, প্রধান হেমব্রম বলেন, “আমরা সাহায্য চাই না। বাগান খোলা হোক। শুনেছি ৩৫ কোটি টাকা বাকি।
জেলাশাসক বলেন, ২২ আগস্ট আবার বৈঠক হবে সেদিন বাগানের মালিক পক্ষ থাকবেন। আমরা আশায় রয়েছি বাগান খুলবে।”

জলপাইগুড়ি শ্রম দফতরের ডেপুটি লেবার কমিশনার অমিয় দাস বলেন, বাগান খোলার চেষ্টা করা হচ্ছে। আজ মালিক পক্ষ আসেননি। আমরা শ্রমিকদের সরকারি সব রকম সাহায্য করছি।”

