খড়দহ অঞ্চলের সবচাইতে পুরোনো গ্রন্থাগার শ্রীগুরু গ্রন্থাশ্রম

ড. কল্যাণ চক্রবর্তী

আমাদের ভারত, ২৩ জানুয়ারি: নিত্যানন্দ-জাহ্নবাদেবী-বীরভদ্রের বসতি-ধন্য খড়দহ যে হিন্দু-সুরভি বিস্তারেরও পুণ্যক্ষেত্র, তা প্রত্যক্ষ করেছে খড়দহবাসী। তাই খড়দহের বালিকা বিদ্যালয়ের নাম হয়ে যায় ‘প্রিয়নাথ হিন্দু বালিকা বিদ্যালয়’ (যদিও পরে ১৯৪৯ সালে ‘হিন্দু’ কথাটি বাদ পড়ে)। একইভাবে খড়দহের প্রথম লাইব্রেরির নাম হল ‘শ্রীগুরু গ্রন্থাশ্রম’। মূলকারণটি হচ্ছে সমকালটি ছিল হিন্দু নবজাগরণের বর্ধিষ্ণু সময়। কেউ নিজেকে তখন হিন্দু বলে পরিচয় দিতে বা করাতে দোষের মনে করতেন না। হিন্দু নবজাগরণের ইতিহাস থেকে রামমোহন, বিদ্যাসাগর, বঙ্কিম, বিবেকানন্দ কেউই বাদ ছিলেন না। ফলে গ্রন্থাগারের নামে ‘গুরু’ শব্দটি ঐশী তাৎপর্যে যুক্ত হয়ে যায় অনায়াসে।

‘হিন্দু’বাদ থাকলেও ‘গুরু’ কে বাদ দেওয়ার ক্ষমতা বোধহয় কারো ছিল না। আর যিনি এমন পবিত্র কাজে জমি ও অর্থ দান করছেন, তার ইচ্ছে-অনিচ্ছে এক বড় ব্যাপার ছিল। তাই গ্রন্থাগারের প্রতিষ্ঠাতা (মনোমোহন গঙ্গোপাধ্যায়) যিনি পরে পরিব্রজনের উদ্দেশ্যে সংসারত্যাগ করেছেন, তাঁর ইচ্ছে মান্যতা পেলো। ১৯১০ সালে এই গ্রন্থাগারের প্রতিষ্ঠা হল। ভারতীয় সমাজজীবনে গুরুদেবের উচ্চাসন চিরকালই। পরে গোকুলচন্দ্র বড়াল মহাশয়ের দান করা জমিতে এবং বর্তমান বাড়িটিতে লাইব্রেরি স্থানান্তরিত হলেও নাম বদল হল না। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের স্বীকৃতি ও অনুমোদন আসে যথাক্রমে ১৯৮০ সালের ১৬ ই ডিসেম্বর এবং ১৯৮২ সালের ৬ ই মার্চ। এই গ্রন্থাগারের সংলগ্ন ফাঁকা জমিতে খড়দহের ভূমিপুত্র তথা বিশিষ্ট নাট্যকার ক্ষীরোদপ্রসাদ বিদ্যাবিনোদের (১৮৬৩-১৯২৭) আবক্ষ মূর্তি স্থাপিত হয় ২০১২ সালের ১২ ই এপ্রিল। তথ্যসূত্র: নিখিলরঞ্জন দে, ২০১৩, খড়দহ-রহড়া — অতীত ও বর্তমান, পৃষ্ঠা: ১৮৪-১৮৫.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *