জয় লাহা, দুর্গাপুর, ১৮ জুলাই: বাজারের ফুটপাত আগেই দখল হয়েছে। এমনকি আস্ত সড়কেরও একাংশ দখল করে চলছে গাড়ি সারানোর কাজ। এবার বাজার ছাড়িয়ে সড়কের পাশের জমি ছাই দিয়ে ভরাট করে চলছে জবরদখল। তৈরী হচ্ছে গ্যারেজ। আর তার জেরে আরও সংকীর্ণ হচ্ছে সড়ক। নাকাল পথচলতি মানুষ। দুর্ঘটনার আশঙ্কায় যাননচালক থেকে পথচলতি মানুষ। এমনই নজিরবীহিন ছবি ধরা পড়ল পানাগড় জাতীয় সড়ক সংলগ্ন এলাকায়। শাসকদলের মদতে জবরদখল বলে অভিযোগ বিজেপির।
যানজট ঠেকাতে ২ নং জাতীয় সড়ক পানাগড় বাজার বাইপাস করা হয়। কিন্তু তাতেও স্বস্তি ছিল না। রাস্তার দুপাশে ফুটপাত অনেক আগেই দখল হয়েছিল। বাইপাস হওয়ার পর গ্যারেজের কাজ উঠে আসে একেবারে রাস্তার ওপর। আবার কোথাও রাস্তার একাংশ দখল করে লম্বা লরির পার্কিং। কোথাও যন্ত্রাংশ, টায়ারও রাস্তার পাশেই। ফলে সংকীর্ণ হয়ে পড়ে মূল রাস্তা। সুষ্ঠভাবে চলাচলের উপায় নেই। যানচালক থেকে সাধারন পথচলতি মানুষ নাজেহাল। বেসামাল হলেই দুর্ঘটনা ঘটে। এবার জবরদখলের কব্জায় জাতীয় সড়ক সংলগ্ন পতিত জমি।
গত কয়েকদিন ধরে পানাগড় আরওবি সংলগ্ন জাতীয় সড়কে ওঠার মুখের রাস্তার দুপাশে চলছে ছাই ভরাট। আর তার ওপর দখল করে চলছে গ্যারেজ তৈরী। অচিরেই বদলে যাচ্ছে জমির চরিত্র। জানা গেছে, পানাগড় বাইপাস হওয়ার আগে জমিগুলো ছিল জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের। পানাগড় হলেও পুর্ব বর্ধমান জেলার আউশগ্রাম ব্লকের অধীনে ধরলা মৌজার মধ্যে পড়ছে। যার খতিয়ান নং ৮৭৭, দাগ নং ১২-১৪ নং। যদিও পানাগড় বাইপাস হওয়ার পর ওই জমি রাজ্য পুর্ত দফতর (রোড) আওতায় চলে যায়।
প্রশ্ন, দিনদুপুরে প্রকাশ্যে কিভাবে চলছে জবরদখলে? কিভাবে বদলে যাচ্ছে জমির চরিত্র? ইতিমধ্যে ৫-৭ টি গ্যারেজ তৈরী হয়েছে। স্থানীয় বিজেপি নেতা রমন শর্মা জানান, “এখনও অনলাইন রেকর্ডে দেখা যাচ্ছে জমিগুলো জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের। ওই জায়গাটি দুটি সড়কের সংযোগস্থলের মুখ। তাই যথেষ্ট গুরত্বপুর্ন এবং দুর্ঘটনাপ্রবন। সড়কের পাশে ওইভাবে জবরদখল করে গ্যারেজ তৈরী হওয়ায় সংকীর্ন হচ্ছে সড়ক। ফলে যান চলাচলে সমস্যা দেখা দেবে। ইদানীং বেপরওয়াভাবে ওইজমিগুলি জবরদখল চলছে। এবং শাসকদলের প্রচ্ছন্ন মদত না থাকলে এভাবে জবরদখল হওয়া অসম্ভব। তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি। সংশ্লিষ্ট দফতরে অভিযোগও জানাবো।”
আউশগ্রামের তৃণমূলের ব্লক সভাপতি রামকৃষ্ণ ঘোষ বিজেপির অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “বিষয়টি জানা নেই। খোঁজ নিয়ে দেখতে হবে।” এনএইএইচআই দুর্গাপুর শাখার প্রজেক্ট ডিরেক্টর স্বপনকুমার মল্লিক বলেন, ‘জমিটি কাদের, খোঁজ নিয়ে দেখা হচ্ছে।” পিডব্লউডির (রোড) আসানসোল ডিভিশনের ইঞ্জিনিয়ার কৌশিক কর্মকার বলেন, “এখনও কোনও অভিযোগ পাইনি। তবুও খোঁজ নিয়ে দেখা হচ্ছে।”

