কেন্দ্রীয় জাহাজ মন্ত্রীকে এনকাউন্টার করে দেওয়ার হুমকি গাইঘাটা থানার ওসির, অভিযোগ করে সিবিআই তদন্তের দাবি শান্তনু ঠাকুরের

সুশান্ত ঘোষ, আমাদের ভারত, উত্তর ২৪ পরগণা, ১২ জুন: ঠাকুরবাড়ির মাঠে শুরু হওয়া সংঘাতের রেশ গড়াল হাসপাতালে। শুধু তাই নয়, জখমদের হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে সেখানেও মতুয়া ভক্তদের উপর চরাও হয় তৃণমূল নেতা কর্মীরা। প্রাতিবাদ করতে গেলে গাইঘাটা থানার ওসি বলাই ঘোষ কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শান্তনু ঠাকুরকে এনকাউন্টার করে দেওয়ার হুমকি দেয়। এমনই অভিযোগ করলেন মতুয়া মহাসঙ্ঘের সংঘাতিপতি তথা বনগাঁর সাংসদ কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শান্তনু ঠাকুর। এমনকি, তাঁকে মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন শান্তনু ঠাকুর এবং বনগাঁ উত্তরের বিজেপি বিধায়ক অশোক কীর্তনীয়াও। তাঁরা অভিযোগ করেছেন পুলিশের বিরুদ্ধে। হাসপাতালে মারামারির সময় বেশ কয়েক জনকে আটক করেছে পুলিশ। সব মিলিয়ে সকাল থেকে শুরু হওয়া রাজনৈতিক উত্তেজনা সন্ধ্যাতেও বহাল মতুয়া অধ্যুষিত ঠাকুরনগরে।

রবিবার উত্তর ২৪ পরগনার ঠাকুরনগরে যান তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু সেখানে তিনি পৌঁছনোর আগে থেকেই তীব্র হচ্ছিল রাজনৈতিক উত্তেজনা। অভিষেককে মতুয়াদের ঠাকুরঘরে আসতেই দেবেন না বলে স্লোগান দেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা মতুয়া মহাসঙ্ঘের নেতা শান্তনু ঠাকুর সহ মতুয়া ভক্তরা। অভিষেক শান্তনু তথা বিজেপির বিরুদ্ধে তোপ দেগে ফিরে যান।

ঠাকুরনগর কাণ্ড নিয়ে তোলপাড় গোটা বাংলা। বিজেপির নিশানায় রাজ্য পুলিশের ভূমিকা। এদিকে তৃণমূল ও মমতাবালা ঠাকুরের নিশানায় কেন্দ্রীয় বাহিনী। জুতো পরে ঠাকুরবাড়ির মন্দিরে প্রবেশ-সহ নানা অভিযোগ উঠছে। এরই মাঝে বিজেপি কর্মীদের মারধর কাণ্ডে সিবিআই তদন্তের দাবি জানালেন শান্তনু ঠাকুর। এদিকে সাংবাদিক বৈঠক করে বিজেপিকে নিশানার পাশাপাশি আতঙ্কের কথা জানালেন মমতাবালা।

মতুয়া মহাসঙ্ঘের সংঘাতিপতি তথা কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী শান্তনু ঠাকুরের অভিযোগ, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক, ব্রাত্য বসু সুজিত বসুদের মদতে পুলিশ অনৈতিকভাবে মতুয়া ভক্তদের মারধর করেছে এবং গ্রেফতার করেছে। পুরো বিষয়টি নিয়ে সিবিআই তদন্তের দাবি জানিয়েছে তিনি। তিনি বলেন, হাসপাতালে আহতদের দেখতে গেলে পুলিশ বাধা দেয়। বেছে বেছে মতুয়া ভক্তদের গ্রেফতার করে। প্রতিবাদ করতে গেলে গাইঘাটা থানার ওসি আমাকে আঙুল তুলে এনকাউন্টার করে খুন করার হুমকি দেয়।

এদিকে সোমবার দুপুরে তৃণমূলের কার্যালয় থেকে সাংবাদিক বৈঠক করেন মমতাবালা ঠাকুর। কেন্দ্রীয় বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। এতবছরের ইতিহাসে এমন দৃশ্য দেখেননি তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *