ইটাহারের বানবোল মহিলাল উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ৩, পাশ্ববর্তী বিদ্যালয়কে দায়ী করলেন প্রধান শিক্ষিকা

স্বরূপ দত্ত, আমাদের ভারত, উত্তর দিনাজপুর, ৪ এপ্রিল: উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় বিদ্যালয়ে মাত্র তিন জন পরীক্ষার্থী হওয়ার জন্য পাশ্ববর্তী উচ্চ বিদ্যালয় দায়ী। এমনটাই অভিযোগ প্রধান শিক্ষিকার। ঘটনাটি ঘটেছে উত্তর দিনাজপুর জেলার ইটাহারের বানবোল মহিলাল উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে।

জানাগেছে, এবার উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় ইটাহার বানবোল মহিলাল উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের পরীক্ষার্থী সংখ্যা মাত্র তিন জন। কেন মাত্র তিন জন ছাত্রী এই বছরে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা দিচ্ছে সেই বিষয়ে জানতে গেলে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা শিউলি দাস বলেন, মাধ্যমিক পরীক্ষার ফলাফলের পর পাশের বানবোল উচ্চ বিদ্যালয় নিয়ম না মেনে ভর্তি নেয়। ফলে বেশিরভাগ ছাত্রীরা সেই স্কুলে ভর্তি হয়ে যায়। বিগত বছরে ১৩০ জন ছাত্রী থাকলেও মাত্র ১৯ জন ছাত্রী একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হয়। কিন্ত দীর্ঘ কয়েক বছর করোনা আবহে বিদ্যালয় বন্ধ থাকায় অনেক ছাত্রী পড়াশোনা ছেড়ে দেয় অথবা কারো বিয়ে হয়ে যাওয়ার কারণে মাত্র তিন জন ছাত্রী এবারে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা দিচ্ছে বলে দাবি তাঁর।

কয়েক বছর ধরে বানবোল উচ্চ বিদ্যালয়ে মাধ্যমিক পরীক্ষার ফলাফলের পর তাদের বিদ্যালয়ে প্রায় দেড় শতাধিক ছাত্র ছাত্রী থাকলেও নিয়ম না মেনে অধিকাংশ ছাত্র ছাত্রীদের ভর্তি নেয় পাশের বানবোল উচ্চ বিদ্যালয়। যার ফলে বিশেষত তাদের বিদ্যালয়ের ছাত্রীরা ভর্তি হয়ে যায়। বানবোল বালিকা বিদ্যালয়ের তরফে পাশের উচ্চ বিদ্যালয়কে একাধিক বার জানানো হয় যে সরকারি নিয়মানুযায়ী ভর্তি ও নিদির্ষ্ট শতাংশ বেঁধে দিলে এই ধরনের ঘটনা ঘটবে না। তাঁর আরও অভিযোগ, যে পাশের বিদ্যালয় থেকে মিথ্যা খবর রটানো হয় যে তাদের বিদ্যালয়ে বাংলা বিভাগের পড়াশোনার পরিকাঠামো নেই। গোটা বিষয়টি লিখিত আকারে জেলায় জানানো হয়েছে তবুও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে দাবি তাঁর। শুধু তাই নয় মাধ্যমিক পরীক্ষার পর গ্রামে গ্রামে গিয়ে ছাত্রীদের অভিভাবকদের একাধিক বার বোঝানো হয়েছে বানবোল উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে পর্যাপ্ত শিক্ষিকা সহ পরিকাঠামো রয়েছে এবং বিদ্যালয়ের মাধ্যমিক পরীক্ষার ফলাফলও ভালো হয়। কিন্তু তাতেও কোনো লাভ হয়নি বলে জানান শিউলি দেবী।

যদিও পাশের বানবোল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিপুল মৈত্র বলেন, সরকারি নিয়ম মেনেই একাদশ শ্রেণিতে বাইরের ছাত্র ছাত্রীদের ভর্তি করানো হয়। তবে মাধ্যমিক পরীক্ষার ফলাফলের পর সেই বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ছাত্রী সহ অভিভাবকদের সঙ্গে জন সংযোগ রাখার দরকার আছে বলে জানান বিপুলবাবু।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *