করোনাকে সঙ্গে নিয়ে নতুন বছরের পথ চলা শুরু

আমাদের ভারত, হাওড়া, ১৫ এপ্রিল: বাঙালীর বর্ষবরণে এবারও করোনা কাঁটা। গত বছরের অভিশপ্ত স্মৃতি ভুলে কয়েকমাস আগে থেকেই নতুন বছরকে স্বাগত জানানোর জন্য মানসিক প্রস্তুতি নিলেও গত কয়েকদিন করোনা গ্রাফ আবার ঊর্ধ্বমুখী হওয়ায় পুরানো আশঙ্কা আবার গ্রাস করল‌ বাঙালীকে। ফলে বছরের প্রথম দিনে নতুন জামাকাপড়ের সঙ্গে মানুষের সঙ্গী হল মাস্ক আর স্যানিটাইজার। তবে করোনার গ্রাফ বাড়লেও গত বছরের মত জনতা কারফিউ না হওয়ায় কিছুটা স্বস্তি মিলেছে।

বাংলা নববর্ষের প্রথম দিন। সকাল থেকেই মন্দিরে মন্দিরে লক্ষ্মী গণেশের পুজো, দোকানে দোকানে হালখাতা উৎসব। মন্দিরের পাশাপাশি দোকানে লম্বা লাইন। গত কয়েক বছর ধরে বাঙালী এই চিরাচরিত প্রথা মেনে এলেও গত বছর থেকে করোনা এই প্রথাকে ভেঙে দিয়েছে। ফলে মন্দিরে লাইন ছোট হয়েছে। দোকানে ভীড় কমেছে। গত বছর জনতা কারফিউ এর কারণে মানুষ গৃহবন্দি ছিল। পয়লা বৈশাখের আনন্দ ফিকে হয়েছিল। করোনা সংক্রমণ থেকে বাঁচতে মানুষ নিজেদের গুটিয়ে রেখেছিল। যদিও ডিসেম্বর মাস থেকে সংক্রমণ কিছুটা কমায় মানুষ আস্তে আস্তে স্বাভাবিক ছন্দে ফিরতে শুরু করেছিল। ১৪২৮ বঙ্গাব্দকে বরণ করতে মানসিক প্রস্তুতি নিয়েছিল। যদিও পুনরায় করোনার দাপট বাড়াতে থাকায় সেই প্রস্তুতিতে বাদ সাধল। ফলে বছরের প্রথম দিনেই অপেক্ষাকৃত কম সংখ্যক মানুষ রাস্তায় বের হল।

বৃহস্পতিবার ভোর থেকেই উলুবেড়িয়ার প্রাচীন শ্রীশ্রী আনন্দময়ী কালীবাড়িতে ভক্তরা উপস্থিত হয়েছিলেন। যদিও অন্যবারের তুলনায় এবারে সংখ্যায় অনেক কম ছিল। তবে এবারে করোনা সংক্রমণের আশঙ্কায় মন্দিরের ভিতরে কাউকে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। মন্দিরের বাইরে থেকেই পুজো দিতে হয়েছে ভক্তদের। এর পাশাপাশি মন্দির কমিটির পক্ষ থেকে সকল ভক্ত সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে মাস্ক পড়ে মন্দিরে পুজো দিতে আসে সে ব্যাপারে লক্ষ্য রাখা হয়েছিল। কিন্তু মানুষ আতঙ্কিত, আর সেই কারণেই এবারে মন্দির অনেক ফাঁকা।

শুধু মন্দির নয় অন্যবারের তুলনায় এবারে হোটেল  রেস্তোরাঁ এমনকি পর্যটনকেন্দ্রগুলিও ছিল প্রায় ফাঁকা। ব্যবসায়ীদের মতে গত বছর এই সময় জনতা কারফিউ চলায় ব্যবসা পুরো মার খেয়েছিল। এবারে আশা ছিল কিছুটা হলেও ক্ষতি সামাল দেওয়া যাবে। কিন্তু করোনা সংক্রমনের আশঙ্কায় মানুষ সেভাবে রাস্তায় বের না হওয়ায় ব্যবসায় ক্ষতি হয়ে গেল। শুধু পয়লা বৈশাখ নয় করোনার প্রতিরোধ না করা গেলে আগামী উৎসবের মরসুমে আমাদের না খেয়ে মরতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *