শিল্পীর উদ্যোগে টেরাকোটা ভাস্কর্য নিজের হাতে তৈরি করছে পুরুলিয়ার নবীন প্রজন্ম

সাথী দাস, পুরুলিয়া, ৩০ জানুয়ারি: সংস্কৃতি ও কৃষ্টির আদান প্রদান নতুন কিছু নয়। তবে নবীন প্রজন্মের কাছে টেরাকোটা ভাস্কর্য নিজের হাতে তৈরি হচ্ছে
পুরুলিয়া জেলায় প্রথমবার। বিশ্ব বন্দিত এই প্রাচীন শিল্প নবীন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নিলেন পুরুলিয়ার শিল্পী ভাস্কর ঘোষ। পুরুলিয়া শহরের কেতিকা এলাকায় নিজের বাড়িতেই করলেন কর্মশালা। আগ্রহী কিশোর কিশোরী ও তরুণ তরুণীদের নিয়ে শুরু করলেন কর্মশালা।

তাঁর এই ধরণের ভাবনা প্রসঙ্গে শিল্পী বলেন, “পরিবেশ বান্ধব ক্রমশঃ ধুঁকতে থাকা এই শিল্পকে নবীন প্রজন্মের হাতে বাঁচিয়ে রাখতে এই প্রয়াস। এছাড়া গৃহ সজ্জা সামগ্রী গড়ে অনেকেই আগামী দিনে এই অংশগ্রহণকারীরা স্বনির্ভর হতে পারবে। সখ বা শৌখিনতা শুধু নয় শিল্প সত্ত্বা বাঁচিয়ে রাখার তাগিদে এই উদ্যোগ।”

প্রদীপ প্রজ্জ্বলিত করে কর্মশালার উদ্বোধন করেন চিত্র শিল্পী এবং প্রাক্তন পুরপ্রধান বিনায়ক ভট্টাচার্য। উপস্থিত সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব মীনাক্ষী লায়েক বলেন, “টেরাকোটার শিল্প শৈলী সারা বিশ্বে ঐতিহাসিক স্থানগুলোতে পাওয়া গিয়েছে। এর ব্যবহার শুধু মন্দির, ইমারতে নয়, এখন আধুনিক সমাজে বৈঠকখানাকেও সমৃদ্ধ করছে। টেরাকোটা ভাস্কর্য গড়ার পুরুলিয়ার ছেলেমেয়েদের এই উদ্যোগ কাজে লাগবে।”

টেরাকোটা একটি লাতিন শব্দ: ‘টেরা’ অর্থ মাটি, আর ‘কোটা’ অর্থ পোড়ানো। মানুষের ব্যবহার্য পোড়ামাটির তৈরি সকল রকমের দ্রব্য টেরাকোটা নামে পরিচিত। আঠালো মাটির সঙ্গে খড়কুটো, তুষ প্রভৃতি মিশিয়ে কাদামাটি প্রস্তুত করা হয়। সেই মাটি থেকে মূর্তি, দৃশ্যাবলি তৈরি করে রোদে শুকিয়ে আগুনে পুড়িয়ে টেরাকোটা ভাস্কর্য তৈরি করা হয়। পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশে মৌর্য সাম্রাজ্য, গুপ্ত সাম্রাজ্যের বহু টেরাকোটার নিদর্শন পাওয়া গেছে। পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলার বিষ্ণুপুর শহর টেরাকোটা শিল্পের জন্য বিখ্যাত। মৃৎ শিল্পের মধ্যে সবচেয়ে প্রাচীন হল এই টেরাকোটা। আজ সেই প্রাচীন শিল্প কলার বাহক ছড়িয়ে যাচ্ছে ছৌ মুখোশের জেলা পুরুলিয়ায়। দুই বছরের কার্যত গৃহবন্দি দশা কাটিয়ে কিশোর তরুণরা খোলা আকাশের নিচে মাটি দিয়ে সৃষ্টি করল মনের ভাস্কর্য।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *