কয়লা কান্ডে ৯০০ কোটি টাকা‌ আত্মসাৎ ভাইপোর, অভিযোগ শুভেন্দুর, জবাব কুণালের

রাজেন রায়, কলকাতা, ৪ এপ্রিল: কয়লা পাচার কান্ডে এবার সরাসরি অভিষেককে আক্রমণ শুভেন্দু অধিকারীর। বিনয় মিশ্রের মাধ্যমে ৯০০ কোটি টাকা‌ নিয়েছেন ভাইপো। তৃতীয় দফার ভোটের আগে তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ করলেন তিনি। মমতা সব জানতেন বলেও অভিযোগ শুভেন্দুর। পালটা জবাব দিলেন তৃণমূলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ।

দীনেশ ত্রিবেদীকে নিয়ে রবিবার সাংবাদিক বৈঠকে বসেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর কথায়, ‘ভাইপোর কাছে টাকা পৌঁছে দিতেন বিনয় মিশ্র। ৯০০ কোটি টাকা ভাইপোর কাছে গিয়েছে। ইতিমধ্যেই গণেশ বাগারিয়া ও বিনয় মিশ্রয় কথোপকথনের অডিও টেপ সামনে এসেছে। গণেশকে তদন্তকারী সংস্থা জেরা করেছে। বিনয় মিশ্র এখন ফেরার। বিকাশ মিশ্র ও অশোক মিশ্র গ্রেফতার হয়েছে। যে কথোপকথন সামনে এসেছে, সেখান থেকে পরিষ্কার যে দুর্নীতি হয়েছে। আমরা তারই দাবি করে এসেছিলাম এতদিন।’

সরকারের মদত ছাড়া এই দুর্নীতি অসম্ভব বলেও দাবি করেন শুভেন্দু। তার অভিযোগ, বিনয় মিশ্র, গ্রেপ্তার হওয়া অশোক মিশ্ররা ভাইপোকে ৯০০ টাকা দিয়েছেন। বালি, কয়লা, গরু পাচারের থেকে এই টাকা আসত। ২০১২-১৩ সাল থেকে রাজ্যে রমরমিয়ে এই চক্র চলত এবং অনেক পুলিশ অফিসারও এর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। শুভেন্দুর কথায়, ‘আমি নিজে এই নিয়ে একাধিকবার অভিযোগ করেছিলাম। কয়লা মাফিয়া লালা এই চক্র চালাতেন। পুলিশও যুক্ত ছিল। পুলিশ আধিকারিকরা সবাই ভাইপোর লোক। পিসিমণির হাত দিয়ে ভাইপো এদের পোস্টিং করাতেন। সরকারি মদত ছাড়া এই টাকা পাচার বা দুর্নীতি অসম্ভব। আর এই বিনয় মিশ্র তো ভাইপোর কাছের লোক। ২০১৩ সালে তাঁকে তৃণমূল যুবর ভাইস প্রেসিডেন্ট করা হয়। ২০২০ সালে তৃণমূল এই বিনয়কেই যুব কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক করে। তাহলে এই বিনয়ের সঙ্গে রাজনৈতিক পরিচয় কীভাবে তৃণমূল অস্বীকার করবে?’

এরপরই হাতে থাকা একটি কাগজ দেখিয়ে শুভেন্দু বলেন, প্রথম দিকে শান্তিনিকেতনে (অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ি) মাসে মাসে ১৫-২০ কোটি টাকা পৌঁছে দিতেন ধৃত পুলিশ অফিসার অশোক মিশ্র। পরের দিকে মাসে ৩৫-৪০ কোটি টাকা পৌঁছে দেওয়া হত।’ দিনেশ ত্রিবেদীও বলেন, ‘বিনয় মিশ্রদের কথা কৌশলে এড়িয়ে গিয়েছে ঘাসফুল শিবির। এই পাচার-দুর্নীতির কারণে রাজ্য পিছিয়ে পড়ছে। ভোট বাক্সে তার জবাব সাধারণ মানুষকেই দিতে হবে।’

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে গণেশ বাগারিয়া ও বিনয় মিশ্রয় কথোপকথনের যে অডিও টেপ সামনে এসেছে তাকে হাতিয়ার করেই তৃতীয় দফা নির্বাচনের আগে অভিষেককে ফের কোণঠাসা করতে চাইছে গেরুয়া শিবির। এর প্রেক্ষিতে তৃণমূলের দলীয় মুখপাত্র কুণাল ঘোষ বলেন, ‘ভোটে পরাজয় নিশ্চিত জেনে ভিত্তিহীন অভিযোগ, চরিত্রহননের রাজনীতি করছেন শুভেন্দু। ভোটের সময় এধরনের কথাবার্তার কোনও যৌক্তিকতা নেই।’ তাঁর পাল্টা দাবি, “পাচার কাণ্ডে সরকারি মদত থেকে থাকলে, সেখানে শুভেন্দু অধিকারী নিজেও সেই সরকারের মন্ত্রী ছিলেন। এমনকি ওইসব এলাকায় দলের অবজারভারও ছিলেন তিনি। তিনিও দায় অস্বীকার করতে পারেন না।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *