অশোক সেনগুপ্ত, আমাদের ভারত, ১৩ মার্চ: “সব রকম ওষুধের কমবেশি পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আছে। আর নেতিবাচক প্রভাবের মাত্র ৫-১০ শতাংশ সম্পর্কে অভিযোগ আসে।” রবিবার প্রকাশ্য এ কথা স্বীকার করেন বিশিষ্ট চিকিৎসক ডঃ স্বপন পাল। এই সঙ্গে তিনি এটাও স্বীকার করেন যথেষ্ঠ আইন থাকা সত্বেও ওষুধের নেতিবাচক প্রভাবের জন্য কারও শাস্তির কথা শোনা যায়নি।
ব্যবহারের জন্য ছাড়পত্র পাওয়ার পর চিকিৎসায় ওষুধের প্রভাব পর্যবেক্ষণ করার অভ্যাস, বিশেষ করে আগে মাত্রা পায়নি এমন প্রতিকূল প্রতিক্রিয়া শনাক্ত ও মূল্যায়ন করাকে বলে ফার্মাকোভিজিলেন্স। ভারতের ‘ইন্টারমিডিয়ারি ফার্মাকোভিজিলেন্স সেন্টার’-এর নোডাল অফিসার স্বপনবাবু ‘ওভারভিউ অফ ইনিশিয়েটিভ অফ ফার্মাকোভিজিলেন্স আন্ডার আয়ুষ অ্যান্ড হোমিওপ্যাথি” শীর্ষক আলোচনায় পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনে এব্যাপারে এ দিন বিশদ ব্যাখ্যা করেন।
ফার্মাকোভিজিলেন্স নিয়ে বিশিষ্টদের এই চর্চার অন্যতম মূল আয়োজক ছিল ‘আমরা’ নামে একটি সংগঠন। আরবিএসকে কথাটাকে টেনে বড় করলে দাঁড়ায় রাষ্ট্রীয় বাল স্বাস্থ্য কার্যক্রম। এটি কেন্দ্রীয় সরকারের একটা প্রকল্প। আয়ুর্বেদ, যোগা ও নেচারোপ্যাথি, ইউনানি, সিদ্ধা ও হোমিওপ্যাথি— এই শব্দগুলোর প্রথম অক্ষর নিয়ে আয়ূষ। ভারত সরকার এই মন্ত্রকের মাধ্যমে দেশীয় ও সনাতন চিকিৎসার ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও বিকাশের চেষ্টা করে। আয়ুষ মেডিক্যাল অফিসার্স আরবিএসকে অ্যাসোসিয়েশন কথাটার আদ্যাক্ষরগুলো নিয়ে হয় ‘আমরা’।
রবিবার সংশ্লিষ্ট কিছু বিভাগের সহায়তায় ‘আমরা’ হাওড়ার শরৎ সদনে একগুচ্ছ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এর মধ্যে যেমন ছিল হোমিওপ্যাথি ও আয়ুর্বেদ নিয়ে আলোচনা, তেমনই ছিল ফার্মাকোভিজিলেন্সের ওপর প্রশ্নোত্তর প্রতিযোগিতা, টেকনিক্যাল সেশন, পুরস্কার ও শংসাপত্র বিতরণ। আয়ুষকে পাঠকদের কাছে পরিচিত করানোর চেষ্টায় নানা সময় কলম ধরেন বা ধরেছেন, এ রকম কিছু সাংবাদিককে অনুষ্ঠানে সম্বর্ধনা জানানো হয়।
ডঃ স্বপন পাল বলেন, অনেকে মনে করেন হোমিওপ্যাথির ওষুধে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই। কথাটা ঠিক নয়। আর আয়ূষ-এর ওষুধের নেতিবাচক প্রভাব খতিয়ে দেখতে গোটা দেশে ৫টি ফার্মাকোভিজিলেন্স সেন্টার এবং মোট ৭৪টি বিভিন্ন ধরণের ‘পেরিফেরাল’ কেন্দ্র রয়েছে। সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন অভিযোগ কিভাবে কোন স্তরে খতিয়ে দেখা হয়, তার ব্যখ্যা করেন তিনি। কিন্তু কেন বিভিন্ন অভিযোগের ৯০-৯৫ শতাংশ এই সব কেন্দ্রে যাচ্ছে না, এর জবাবে তিনি বলেন, “স্বাস্থ্যকর্মীদের কাজের চাপ এর অন্যতম প্রধান কারণ।”
এই আলোচনায় অধ্যাপক ডাঃ শেখ মহিউদ্দিন বলেন, “এ ব্যাপারে ওষুধের প্রস্তুতকারক, চিকিৎসক, রোগী—সর্বস্তরে সচেতনতা বাড়াতে হবে। অধ্যাপক ডাঃ অশোক খাঁড়া বলেন, “সামাজিক মাধ্যমে মন্তব্য করে ছেড়ে দিলে হবে না। সরকারিভাবে যত অভিযোগ নথিভূক্ত হবে, তত রোগীর ওষুধজনিত নিরাপত্তা বাড়বে।”
অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন বিখ্যাত হোমিওপ্যাথ চিকিৎসক মাহেন্দ্রলাল সরকারের প্রতিষ্ঠান ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন ফর দি কালটিভেশন অফ সাইন্স-এর অধিকর্তা প্রখ্যাত বিজ্ঞানী প্রফেসর তাপস চক্রবর্তী। আলোচনা হয় ফার্মাকোভিজিলেন্স এবং সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে। আলোচনায় ছিলেন বেঙ্গল অ্যাকাডেমি অফ অ্যাপ্লায়েড হোমিওপ্যাথির চেয়ারম্যান ডাঃ বিশ্বজিৎ বসু, নিউ ইয়র্কের কর্ণেল মেডিক্যাল কলেজের সঙ্গে যুক্ত ডাঃ ভাস্বতী ভট্টাচার্য প্রমুখ। আমন্ত্রিতদের মধ্যে ছিলেন বিশিষ্ট বেশ কিছু চিকিৎসক ও চিকিৎসা-প্রশাসক।

