কংসাবতী নদীর উপর দেশপ্রাণ বীরেন্দ্র সেতু নতুন করে তৈরি করবে জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ

পার্থ খাঁড়া, আমাদের ভারত, ২০ মেদিনীপুর: কংসাবতী নদীর উপর জরাজীর্ণ দেশপ্রাণ বীরেন্দ্র সেতু নতুন করে তৈরি করা হচ্ছে। এজন্য ১১ কোটি টাকা খরচ ধরা হয়েছে। জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে কয়েক দিনের মধ্যেই কাজ শুরু হবে।এছাড়া কংসাবতী নদীর উপর আরও একটি নতুন ব্রিজ এবং শিলাবতী নদীর উপর ধাদিকায় একটি নতুন ব্রিজ করা হবে।

মেদিনীপুর ও খড়্গপুরের সংযোগস্থলে কংসাবতী নদীর উপর দেশপ্রাণ বীরেন্দ্র সেতুর পথচলা সেই ১৯৭২ সালে। তৎকালীন রাজ্যপাল এ.এল ডায়াস এই সেতুর উদ্বোধন করেছিলেন ১৯৭২ এর ১০ জানুয়ারি। সড়কপথে মেদিনীপুর, খড়্গপুর তথা পশ্চিম মেদিনীপুর ও কলকাতার মধ্যে যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম এই সেতু ‘মোহনপুর ব্রিজ’ হিসেবেই পরিচিত। অর্ধশতাব্দী প্রাচীন এই ব্রিজের বর্তমান অবস্থা বিপজ্জনক! তাই, ভারি যানবাহন (৮ টনের বেশি) চলাচলের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে ইতিমধ্যে।

সেই ভগ্নপ্রায় বা জরাজীর্ণ ব্রিজটিকেই সম্পূর্ণ নতুনভাবে গড়ে তুলতে ১১ কোটি টাকা ব্যয় করা হচ্ছে জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের (National Highway Authority) তরফে। রবিবার দুপুরে ব্রিজ পরিদর্শন করার পর এমনটাই জানিয়েছেন জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের (NH Division 2) এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার প্রলয় চক্রবর্তী। তাঁর সঙ্গে ছিলেন সংস্কারের বরাত পাওয়া এজেন্সি’র আধিকারিক তথা ইঞ্জিনিয়াররাও। তাঁদের সঙ্গে নিয়ে ব্রিজ পরিদর্শনের পর প্রলয় চক্রবর্তী জানিয়েছেন, “কয়েকদিনের মধ্যেই কাজ শুরু হয়ে যাবে। আমরা তো চাইছি আগামীকাল থেকেই শুরু হোক। তবে, আগামী ৬ মাসের মধ্যেই সংস্কারের কাজ শেষ হয়ে যাবে বলে আমরা আশাবাদী।”

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, বেশ কয়েকবার জোড়াতালি দিয়ে সংস্কারের কাজ হলেও, এই প্রথম ব্রিজের খোলনলচে বদলে ফেলার কাজ শুরু হতে চলেছে। এই ৬ মাস মোহনপুর ব্রিজের উপর দিয়ে যানবাহন চলাচলের বিষয় নিয়ে তিনি জানিয়েছেন, “সেটা জেলা প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করে ঠিক করে নেওয়া হবে।

কংসাবতী নদীর উপর একটি নতুন ব্রিজ (বীরেন্দ্র সেতুর সমান্তরাল বা বিকল্প সেতু) এবং শিলাবতী নদীর উপর ধাদিকা (গড়বেতা) এলাকায়‌ অপর একটি নতুন ব্রিজের জন্য চলতি বছরের ডিসেম্বর মাসের মধ্যেই ডিপিআর (ডিটেলস প্রজেক্ট রিপোর্ট/Details Project Report) জমা দিয়ে দেওয়া হবে বলেও তিনি জানিয়েছেন। সেক্ষেত্রে বছরেই (২০২৩) শুরু হবে নতুন দু’টি ব্রিজ তৈরির কাজ।

এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার প্রলয় চক্রবর্তী এই বিষয়ে জানিয়েছেন, “২০২৩ এর মার্চ মাসের মধ্যেই অর্থাৎ নতুন অর্থ বর্ষ শুরু হওয়ার আগেই এই দু’টি ব্রিজের অনুমোদন দেওয়া হতে পারে কেন্দ্রীয় পরিবহন মন্ত্রকের তরফে।” এজন্য, প্রায় ৬০০ কোটি টাকা বরাদ্দ হতে চলেছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *