স্নেহাশীষ মুখার্জি, আমাদের ভারত, নদিয়া, ৪ সেপ্টেম্বর: রাজ্যকে ৩৫০০ কোটি টাকা জরিমানা জাতীয় পরিবেশ আদালতের, আর তারপরেও হেলদোল নেই বর্জ্য পদার্থ সংহার অভিযানের। নদিয়ার ফুলিয়াও এক্ষেত্রে পিছিয়ে নেই।

ডেঙ্গি সচেতনতায় যখন রাজ্য সরকার তৎপর সেই নিরিখে সব জায়গাকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেখানে ব্যতিক্রম ফুলিয়া বাস স্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকা। ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়কে ফুলিয়া বাসস্ট্যান্ডের একেবারে পাশেই দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন জায়গায় থেকে নিয়ে আসা নোংরা আবর্জনা ফেলা হচ্ছে। ওই স্থানে সৃষ্টি হয়েছে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ। যার ফলে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে ফুলিয়াবাসীদের। ওই নোংরা আবর্জনায় জল জমে হচ্ছে মশা। ছড়াচ্ছে দুর্গন্ধ। প্রশাসনিক স্তরে বারবার বলা সত্বেও ফুলিয়া বাস স্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকায় নোংরা আবর্জনা ফেলা বন্ধ হয়নি।

প্রসঙ্গত, রাজ্যের যত্রতত্র ময়লা বর্জ্য পদার্থ ছড়িয়ে থাকার অভিযোগে পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে ৩৫০০ কোটি টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় পরিবেশ আদালত। পরিবেশ আদালত জানিয়েছে, রাজ্য সরকার নিকাশি এবং কঠিন বর্জ্য পদার্থ ব্যবস্থাপনার সুবিধা স্থাপনকে মোটেও গুরুত্ব সহকারে দেখছেন না। অথচ রাজ্য বাজেটে ২০২২- ২৩ অর্থবর্ষে নগরোন্নয়ন এবং পৌর সংক্রান্ত বিষয়ে ১২, ৮১৮.৯৯ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

এই প্রসঙ্গে পরিবেশ আদালতের ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছে, “প্রাপ্য পরিবেশের ক্ষতি বিবেচনা করে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব রাজ্য সরকারকে ভুল সংশোধন করতে হবে। অতীতের ভুলের জন্য রাজ্যকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। কঠিন এবং তরল বর্জ্যের জন্য ক্ষতিপূরণের পরিমাণ তিন হাজার পাঁচশো কোটি টাকা যা পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে দু’মাসের মধ্যে জমা দিতে হবে”। এর ফলে স্বাভাবিকভাবেই চাপে পড়েছে সরকার।
ফুলিয়া টাউনশিপের প্রধান উৎপল বসাক জানান, “ফুলিয়া টাউনশিপ একটা গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকা। এই এলাকায় নোংরা বা বর্জ্য পদার্থ ফেলার কোনো পরিকাঠামো নেই। তবে আমরা এই বছর একটা প্রপোজাল রেডি করে জেলায় পাঠিয়েছিলাম। এসডব্লিউএল, সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্টের যে স্কিম আছে সেই প্রোজেক্ট পাস হয়ে এসেছে। আমরা একটা জায়গা খুঁজছি, জায়গার জন্য আমরা কাজটা শুরু করতে পারছি না। জায়গাটা হয়ে গেলে আশা করছি সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। এখানে স্কুল সহ বড় বড় দুটো বাজার আছে। যেখানে বিকেল বেলায় প্রচুর ফাস্টফুড খাবারের স্টল বসে। সেখানেই ময়লা আবর্জনা থেকে সংক্রামক ব্যাধি হতে পারে। তাই আমরা যত শীঘ্র-সম্ভব জায়গা খোঁজার চেষ্টা করছি জায়গা পেয়ে গেলেই সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে”।

স্থানীয় বাসিন্দা অসীম বিশ্বাস বলেন,”সারা বাজারের নোংরা এরা এখানে নিয়ে এসে ফেলে এছাড়াও এখানে পথ চলতি মানুষ প্রস্রাব করে। এর ফলে এমন দুর্গন্ধ বের হয়েছে এখানে দাঁড়ানোই যায় না। বছর দুই ধরে একই জিনিস চলে আসছে, প্রশাসনের কোনো নজর নেই। আমরা চাই এলাকা পরিষ্কার হোক, গ্যাস গন্ধ বন্ধ হোক, আমরা রোগের হাত থেকে মুক্তি চাই”।
ওই এলাকার বাসিন্দা টোটো চালক শ্যামল বসাক জানান,”আমাদের এখানে মূল সমস্যাটা হচ্ছে বিভিন্ন জায়গার ময়লা আবর্জনা বাস স্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকায় ফেলছে। সেগুলো বৃষ্টি হলে জলকাদা হয়ে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে এবং তাতে রোগব্যাধি ছড়ানোর সম্ভাবনা। আমরা চাইছি প্রশাসন এটার প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করুক এবং সাধারণ মানুষের উপকার হোক। এটা হচ্ছে ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়কের মূল রাস্তা। স্কুল, হসপিটাল সবকিছু যাওয়ার জন্য এই রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করতে হয়। যার ফলে শিশু থেকে বুড়ো সকলকেই এই দুর্গন্ধ পোহাতে হয়”।

