সরকারি চাকরিজীবী তৃণমূল নেতার পরিবারের নামও উঠলো আবাস যোজনার তালিকায়! বংশীহারিতে জয়েন্ট বিডিওকে গ্রামে ঢুকতে বাধা মহিলাদের

পিন্টু কুন্ডু, বালুরঘাট, ৬ জানুয়ারি: বাড়িতে দু’ দুটো সরকারি চাকরিজীবী, নাম উঠেছে আবাস যোজনার তালিকায়! শুনতে কিছুটা অবাক লাগছে? আবাস যোজনা নিয়ে শাসক দলের বিরুদ্ধে যে লাগামহীন দুর্নীতির অভিযোগ উঠছে তার কিছুটা সত্যতা দক্ষিণ দিনাজপুরের বংশীহারি ব্লকে গেলেই লক্ষ্য করা যাবে। ওই ব্লকের যুব তৃণমূল নেতা সামাউন কবিরের পরিবারের নামেই এমন অভিযোগ তুলেছেন গ্রামের লোকেরা। প্রতিবাদে এদিন গ্রামেও ঢুকতে পারেননি ব্লকের জয়েন্ট বিডিও। শুক্রবার দুপুরে এই ঘটনাকে ঘিরে তুমুল উত্তেজনা ছড়ায় এলাহাবাদ অঞ্চলের বান্দল গ্রামে।

গ্রামবাসীদের অভিযোগ, এলাকার যুব তৃণমূল নেতা সামাউন কবিরের বাড়িতে আবাস যোজনার ঘর মিলেছে। জানাগেছে, পেশায় সরকারি চাকরিজীবী ওই তৃণমূল নেতা ও তার ভাই। দু’জন সরকারি চাকরিজীবীর পরিবার কিভাবে সরকারি ঘর পেল তা নিয়েই প্রশ্ন তুলে সরব হয়েছেন গ্রামের হতদরিদ্র মানুষরা। উলটে গ্রামের প্রকৃত কিছু গরিব মানুষদের নাম কাটা পড়তেই ক্ষোভে যেন ফেটে পড়েছেন এলাকার বাসিন্দারা। এদিন সেইসব ঘটনা নিয়ে এলাকায় যেতেই মহিলাদের ক্ষোভের মুখে পড়ে গ্রামেই ঢুকতে পারেননি জয়েন্ট বিডিও। সরকারি দু’দুজন চাকরিজীবী হয়েও কিভাবে আবাস যোজনার তালিকায় নাম এল এলাকার ওই তৃণমূল নেতার পরিবারের? তবে কি শাসক দলের নেতা বলেই তাদের নাম উঠবে আবাস যোজনার তালিকায়? গ্রামবাসীদের এসব প্রশ্নের কোনো সঠিক উত্তর দিতে পারেননি জয়েন্ট বিডিও। যদিও পরবর্তীতে এলাকায় পুলিশ পৌছে গ্রামবাসীদের বিক্ষোভের মুখ থেকে সরিয়ে এনেছেন জয়েন্ট বিডিওকে।

বংশীহারি ব্লকের জয়েন্ট বিডিও আরিত্র দালুই বলেন, ঘর ও শৌচালয়ের কিছু সার্ভে করতে এসেছিলেন। কিন্তু গ্রামের লোকেদের কিছু ক্ষোভ রয়েছে। যেসব বিষয়ে আলোচনার জন্য সোমবার তাদের বিডিও অফিসে ডাকা হয়েছে।

এলাকার বাসিন্দা চিন্তামণি বর্মন, ফাল্গুনী বর্মন ও দিপ্তী রায়রা বলেন, যাদের মাটির ঘর, ভাঙ্গা ঘর তারা ঘর পায়নি। উলটে তাদের নাম কাটা গেছে। আর বেছে বেছে তৃণমূল নেতার বাড়িতে আবাস যোজনার ঘর এসেছে, যাদের বাড়িতে দু’জন সরকারি চাকরিজীবী রয়েছে। এসব বন্ধ হওয়া উচিত।

যদিও যুব তৃণমূল নেতা সামাউন কবিরের দাবি, হাস্যকর ও ভিত্তিহীন দাবি। ওই মহিলারা হিংসে করেই এমনটা করছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *